
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামে নিখোঁজের ছয় দিন পর মারিয়া (৭) নামের এক শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার সকালে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মারিয়া স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
নিহত শিশুর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জানুয়ারি সোমবার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় মারিয়া। এলাকায় মাইকিং ও খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে পাশের বংশাই নদীতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালায়। এ ঘটনায় মারিয়ার বাবা মো. উজ্জ্বল হোসেন গত শুক্রবার ধনবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর থেকেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
রোববার ভোরে স্থানীয় মুসল্লিরা ফজর নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার পাশে মৃত নান্নু মিয়ার পরিত্যক্ত ঘর থেকে দুর্গন্ধ পান। পরে ঘরে থাকা একটি স্টিলের বাক্সের ভেতর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় মারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় সুমন (২৫) ও রাফিউল (১৬) নামের দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। স্বজনদের দাবি, তারা ধর্ষণের পর মারিয়াকে হত্যা করে বাক্সে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেছে।
নিহত শিশুর মা জবেদা ও নানা ময়নাল হোসেনসহ স্বজনরা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানও ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
সহকারী পুলিশ সুপার (মধুপুর সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম ও ধনবাড়ী থানার ওসি মো. নুরুস সালাম সিদ্দিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সহকারী পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। তদন্তের স্বার্থে দুইজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 








