ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাদিক কায়েম বলেন জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জিরো টলারেন্স নীতিতে চাঁদাবাজ নির্মূল হবে

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে জিরো টলারেন্স নীতিতে চাঁদাবাজ নির্মূল হবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই এই বাংলাদেশে হবে না।’ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার শ্যামপুরে নির্বাচনী পথসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল শহীদ আলী আহসান মুজাহিদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কেউ এক পয়সার দুর্নীতির অভিযোগ আনতে পারেনি। কারণ জামায়াতে ইসলামীতে দুর্নীতি নাই, দুর্নীতির কোনো স্থানও নাই। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে অন্যদের মতো দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান করবে না। বরং দেশ হবে সমৃদ্ধ ও উন্নত মানবিক বাংলাদেশ।’

তিনি আরো বলেন, ‘সমাজে দুই ধরনের নেতা দেখা যায়। এক ধরনের নেতা বলে তারা এটা করবে, ওটা করবে। কিন্তু তাদের কথা আর কাজের কোনো মিল পাওয়া যায় না। আরেক ধরনের নেতা আছে যারা কাজ করে এবং আরো কাজ করতে চায়। স্বাধীনতার বিগত ৫৪ বছর আমরা যাদেরকে আমাদের নেতা বানিয়েছি, যাদেরকে এমপি-মন্ত্রী বানিয়েছি, তারা আমাদেরকে প্রতারিত করেছে। এবারের নির্বাচনে আর ভুল করা যাবে না।’

তিনি দেশবাসীকে নিজের বিবেক কাজে লাগিয়ে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ইনসাফের দল জামায়াতে ইসলামীর আমিরের অতীত কার্যক্রমকে মূল্যায়ন করে দেখুন। জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান বন্যা, ভূমিকম্প ও করোনাকালীন দুর্যোগসহ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের প্রয়োজনে সবার আগে সবখানে ছুটে গিয়েছেন ও যান। ডা: শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে আগামীতে বাংলাদেশ পরিচালিত হলে বাংলাদেশ আর কখনো পথ হারাবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের পর আমরা আমাদের চার মাসের কাজের হিসাব সাংবাদিক সম্মেলন করে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেছি। অতীতে কোনো নেতারা নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের সামনে কিংবা জনগণের সামনে আসেনি। তারা নির্বাচিত হয়ে মালিক সেজে জনগণকে গোলামে পরিণত করেছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এমপি-মন্ত্রীরা শাসক নয় সেবক হবে। জনগণের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী একটি মজলুম সংগঠন। আমাদেরকে মানুষের কাছে যেতে দেয়া হয়নি। আমাদের কেন্দ্রীয় অফিস থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ের অফিস গুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। সবশেষ আমাদেরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমাকে ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার মানুষের খেদমতে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় বসবাস করার কারণে এখানকার যাবতীয় সমস্যা সম্পর্কে আমি অবগত আছি। বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা আমাদের করণীয় নির্ধারণ করে রেখেছি।
এ সমস্যাগুলো সমাধান করা কঠিন নয়, প্রয়োজন সততা আর আন্তরিকতা। গ্যাস সঙ্কট, যাতায়াত ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা এখানকার প্রধান সমস্যা। সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বের অভাবে এ সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয়েছে। এখানে সরকারি কোনো হাসপাতাল নেই। বেসরকারি উন্নতমানের কোনো হাসপাতালের শাখাও এখানে নেই। যার ফলে এখানকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

অবহেলিত ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকাকে আধুনিক উন্নত নগরীতে রূপান্তর করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বিদ্যমান সব সমস্যা রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাধান করা হবে।’

ঢাকা-৪ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুর রহিম জীবনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও সভায় ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

স্বামী বিদেশে থাকতেই অন্তঃসত্ত্বা, পরে গোপন গর্ভপাতের অভিযোগ চিকিৎসা প্রতিবেদনে ‘অসম্পূর্ণ গর্ভপাত’, এফিডেভিটের পর ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য

সাদিক কায়েম বলেন জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জিরো টলারেন্স নীতিতে চাঁদাবাজ নির্মূল হবে

প্রকাশের সময় : ০১:৫৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে জিরো টলারেন্স নীতিতে চাঁদাবাজ নির্মূল হবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই এই বাংলাদেশে হবে না।’ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার শ্যামপুরে নির্বাচনী পথসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল শহীদ আলী আহসান মুজাহিদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কেউ এক পয়সার দুর্নীতির অভিযোগ আনতে পারেনি। কারণ জামায়াতে ইসলামীতে দুর্নীতি নাই, দুর্নীতির কোনো স্থানও নাই। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে অন্যদের মতো দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান করবে না। বরং দেশ হবে সমৃদ্ধ ও উন্নত মানবিক বাংলাদেশ।’

তিনি আরো বলেন, ‘সমাজে দুই ধরনের নেতা দেখা যায়। এক ধরনের নেতা বলে তারা এটা করবে, ওটা করবে। কিন্তু তাদের কথা আর কাজের কোনো মিল পাওয়া যায় না। আরেক ধরনের নেতা আছে যারা কাজ করে এবং আরো কাজ করতে চায়। স্বাধীনতার বিগত ৫৪ বছর আমরা যাদেরকে আমাদের নেতা বানিয়েছি, যাদেরকে এমপি-মন্ত্রী বানিয়েছি, তারা আমাদেরকে প্রতারিত করেছে। এবারের নির্বাচনে আর ভুল করা যাবে না।’

তিনি দেশবাসীকে নিজের বিবেক কাজে লাগিয়ে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ইনসাফের দল জামায়াতে ইসলামীর আমিরের অতীত কার্যক্রমকে মূল্যায়ন করে দেখুন। জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান বন্যা, ভূমিকম্প ও করোনাকালীন দুর্যোগসহ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের প্রয়োজনে সবার আগে সবখানে ছুটে গিয়েছেন ও যান। ডা: শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে আগামীতে বাংলাদেশ পরিচালিত হলে বাংলাদেশ আর কখনো পথ হারাবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের পর আমরা আমাদের চার মাসের কাজের হিসাব সাংবাদিক সম্মেলন করে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেছি। অতীতে কোনো নেতারা নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের সামনে কিংবা জনগণের সামনে আসেনি। তারা নির্বাচিত হয়ে মালিক সেজে জনগণকে গোলামে পরিণত করেছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এমপি-মন্ত্রীরা শাসক নয় সেবক হবে। জনগণের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী একটি মজলুম সংগঠন। আমাদেরকে মানুষের কাছে যেতে দেয়া হয়নি। আমাদের কেন্দ্রীয় অফিস থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ের অফিস গুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। সবশেষ আমাদেরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আমাকে ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার মানুষের খেদমতে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় বসবাস করার কারণে এখানকার যাবতীয় সমস্যা সম্পর্কে আমি অবগত আছি। বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা আমাদের করণীয় নির্ধারণ করে রেখেছি।
এ সমস্যাগুলো সমাধান করা কঠিন নয়, প্রয়োজন সততা আর আন্তরিকতা। গ্যাস সঙ্কট, যাতায়াত ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা এখানকার প্রধান সমস্যা। সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বের অভাবে এ সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয়েছে। এখানে সরকারি কোনো হাসপাতাল নেই। বেসরকারি উন্নতমানের কোনো হাসপাতালের শাখাও এখানে নেই। যার ফলে এখানকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

অবহেলিত ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকাকে আধুনিক উন্নত নগরীতে রূপান্তর করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বিদ্যমান সব সমস্যা রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাধান করা হবে।’

ঢাকা-৪ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুর রহিম জীবনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও সভায় ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।