ঢাকা ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত ক্ষমতায় এলে কুড়িগ্রামকে কৃষি শিল্পের রাজধানী করা হবে : ডা. শফিকুর রহমান

  • রংপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৪:২৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২১৪ বার পড়া হয়েছে

সবচেয়ে দরিদ্র ও বঞ্চিত জেলার নাম হচ্ছে কুড়িগ্রাম। এই পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রাম থেকে আমাদের উন্নয়ন শুরু হবে ইনশাআল্লাহ্‌। কোনো দাবি জানাতে হবে না। বঞ্চিতদের আর মিছিল করতে হবে না। এটা আমাদের হবে নৈতিক দায়িত্ব। এরপর যাবো অন্য বঞ্চিত জেলায়।

এই উত্তরবঙ্গকে আমরা কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করবো ইনশাআল্লাহ্‌। কৃষি বিপ্লব হলে সবাই তখন কাজ পেয়ে যাবে। বঞ্চিত এই এলাকায় যেন আল্লাহ মণি-মুক্তায় ভরিয়ে দেয়। শুধু কৃষিতে সমৃদ্ধি নয়- এই উত্তরবঙ্গ থেকে এখানকার মায়েদের গর্ভ থেকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী বের হবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের প্রধান দুঃখ তিনটি বড় নদী। বর্ষা এলেই এখানকার মানুষের বুক কাঁপতে শুরু করে। এই নদীগুলো হত্যা করে মরুভূমি করা হয়েছে। নদী শাসন ও সংস্কারের নামে টাকা পকেটে তুলেছে।

এ রকম বিভিন্নভাবে টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে ২৮ হাজার লাখ কোটি টাকা। আল্লাহ আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ দিলে ওদের পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে আনবো ইনশাআল্লাহ। কুড়িগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় এসব বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

গতকাল দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে কুড়িগ্রামে আসেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। তিনি মোট ২২ মিনিট বক্তব্য রাখেন। বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না- আমরা চাই দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। আর বিভক্তি নয়।

আমরা কোনো দলীয় রাষ্ট্র কায়েম করতে চাই না। এ বিজয়ে আমি তিস্তা পাড়ের মানুষের মাঝে গণজোয়ার দেখছি। আমরা দেশে আধিপত্যবাদীদের ক্ষমতায় দেখতে চাই না, আমরা চাই সমতা থাকুক বাংলাদেশে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ১২ তারিখে ভোট দিয়ে পরিবর্তনের বাংলাদেশ গড়বেন। প্রথমে হ্যাঁ ভোট পরে সংসদীয় ভোট দেবেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এর আগে কুড়িগ্রাম এসেছি দলীয় প্রয়োজনে।

কিন্তু এবার এসেছি জাতির প্রয়োজনে। যুবক-যুবতি, তরুণ-তরুণিদের নেতৃত্বে এদেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ নারী-পুরুষ ২০২৪ সালের গর্বিত জুলাই যুদ্ধের অংশীদার। উত্তরবঙ্গের কাছে কৃতজ্ঞ। কেননা এখানকার আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়েছিল অধিকার আদায় করতে। এটি বীরদের পরিচয়। রংপুরের সন্তান শহীদ আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়ে বলেছে অধিকার দাও না হলে গুলি। সাঈদ বুকে তিন তিনটি গুলি নিয়েছে বীরের মতো।

এখান থেকেই জুলাই আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সাঈদ, মুগ্ধ, হাদিসহ ১৪ শত শহীদ হয়েছেন। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন যুদ্ধে সাঈদসহ ১৪০০ জন এবং পরে হাদি জীবন দিয়েছে। এই ১৪০০ বীরের লাশ এখন জাতির ঘাড়ে। তাদের রক্ত আমাদের নদীগুলোকে লাল করে দিয়েছে। এই বীরদের সঙ্গে আমরা বেইমানি করবো না, বিশ্বাসঘাতকতা করবো না।

তারা জীবন দিয়ে দেশের যে আমানত আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, সেই আমানত রক্ষায় প্রয়োজনে আমরাও জীবন দিতে প্রস্তুত। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক স্বাধীন বাংলাদেশ গড়া।

আমাদের নিজস্ব কোনো স্বপ্ন নেই- তাদের স্বপ্নই আমাদের স্বপ্ন। তিনি একটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তারা নারীদের গায়ে, মা বোনদের গায়ে হাত দিচ্ছেন। তারা হুমকি দিচ্ছেন কাপড় খুলে নিবেন। তারা বলছেন হিজাব পরে আসলে খুলে ফেলো, তাদের যেখানে পাও সেখানে ঠেকিয়ে দাও। লজ্জা লজ্জা। এরা কি মায়ের পেট থেকে আসে নাই? তা হলে মায়ের জাতের গায়ে হাত দেয় কীভাবে? আপনারা ভয় পাবেন না। চোখে চোখ রেখে কথা বলবেন।

এটি আমার বাংলাদেশ, আপনাদের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে আর কোনো জমিদার মেনে নেবো না। এই বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ। আমরা মায়েদের কথা দিচ্ছি- এ দেশে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় আসলে এদেশে আর নারীরা ধর্ষণের শিকার হবে না।

আপনাদের রাস্তাঘাট, কর্মস্থল সব জায়গায় শতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করবো। যে দেশে মায়েদের কোনো নিরাপত্তা নেই। সে দেশ আমার হতে পারে না। আমরা জাতি ধর্ম দেখবো না। সব ধর্মের নারীদের সম্মান করা আমাদের বড় দায়িত্ব ।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখন একটি গোষ্ঠী আমার পেছনে লেগেছে। আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যা তা চালায় দিছে। আর অমনি একটা দল ঝাঁপিয়ে পড়ে তাইরে নাইরে গান শুরু করেছে। লজ্জা, ওদের চুনোপুঁটি তো গাইলো বটে তাদের বড় বড় মাথাগুলোও গাইতে শুরু করে দিয়েছে।

কিন্তু তারা পেরে উঠতে পারেনি, আমাদের সাইবার টিম তাদের গলা টিপে ধরেছে, সত্য কখনো ধামাচাপা দেয়া যায় না। ইতিমধ্যে মেইন কালপিটকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

সত্য মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকে না। সূর্যকে মেঘ ঢেকে রাখতে পারে না। প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান মঞ্চে কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।

এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-২ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এনসিপি’র প্রার্থী ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদকে শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মো. আজিজুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, কুড়িগ্রামের ৪টি আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নিজাম উদ্দিন, সহ-সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদ, শাহজালাল হক সবুজ, জেলা বায়তুল মাল সম্পাদক জহরুল ইসলাম, এডভোকেট ইয়াসিন আলী, এনসিপি’র জেলা আহ্বায়ক মো. মুকুল মিয়া, খেলাফত মজলিস রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক সবেবর মিয়া প্রমুখ।

কুড়িগ্রাম-১ ( নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী) আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে এ জনপদে শিল্প-কলকারখানা তৈরি করে বেকারত্ব সমস্যা সমাধান করবো। কুড়িগ্রাম-২ (কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলা) আসনের এনসিপি’র প্রার্থী ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেন, কুড়িগ্রাম রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের কারণে পিছিয়ে পড়া জনপদ। আর পিছিয়ে থাকতে চাই না।

ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে কুড়িগ্রামের বঞ্চনা দূর করতে চাই। দুর্নীতি আর চাঁদাবাজির রাজনীতি পরিহার করে কর্মসংস্থানের রাজনীতি করতে চাই। নদীর বাঁধ নির্মাণ এবং চরাঞ্চলের উন্নয়নের কাজ করতে চাই। কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, দুর্নীতির কারণে দীর্ঘ ৫৪ বছর উন্নয়নবঞ্চিত ছিলাম। হ্যাঁ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারবো আমরা।

কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর সেতু করে এই তিন উপজেলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের আহ্বান জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জামায়াত ক্ষমতায় এলে কুড়িগ্রামকে কৃষি শিল্পের রাজধানী করা হবে : ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশের সময় : ০৪:২৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সবচেয়ে দরিদ্র ও বঞ্চিত জেলার নাম হচ্ছে কুড়িগ্রাম। এই পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রাম থেকে আমাদের উন্নয়ন শুরু হবে ইনশাআল্লাহ্‌। কোনো দাবি জানাতে হবে না। বঞ্চিতদের আর মিছিল করতে হবে না। এটা আমাদের হবে নৈতিক দায়িত্ব। এরপর যাবো অন্য বঞ্চিত জেলায়।

এই উত্তরবঙ্গকে আমরা কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করবো ইনশাআল্লাহ্‌। কৃষি বিপ্লব হলে সবাই তখন কাজ পেয়ে যাবে। বঞ্চিত এই এলাকায় যেন আল্লাহ মণি-মুক্তায় ভরিয়ে দেয়। শুধু কৃষিতে সমৃদ্ধি নয়- এই উত্তরবঙ্গ থেকে এখানকার মায়েদের গর্ভ থেকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী বের হবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের প্রধান দুঃখ তিনটি বড় নদী। বর্ষা এলেই এখানকার মানুষের বুক কাঁপতে শুরু করে। এই নদীগুলো হত্যা করে মরুভূমি করা হয়েছে। নদী শাসন ও সংস্কারের নামে টাকা পকেটে তুলেছে।

এ রকম বিভিন্নভাবে টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে ২৮ হাজার লাখ কোটি টাকা। আল্লাহ আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ দিলে ওদের পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে আনবো ইনশাআল্লাহ। কুড়িগ্রামে নির্বাচনী জনসভায় এসব বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

গতকাল দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে কুড়িগ্রামে আসেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। তিনি মোট ২২ মিনিট বক্তব্য রাখেন। বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না- আমরা চাই দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। আর বিভক্তি নয়।

আমরা কোনো দলীয় রাষ্ট্র কায়েম করতে চাই না। এ বিজয়ে আমি তিস্তা পাড়ের মানুষের মাঝে গণজোয়ার দেখছি। আমরা দেশে আধিপত্যবাদীদের ক্ষমতায় দেখতে চাই না, আমরা চাই সমতা থাকুক বাংলাদেশে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ১২ তারিখে ভোট দিয়ে পরিবর্তনের বাংলাদেশ গড়বেন। প্রথমে হ্যাঁ ভোট পরে সংসদীয় ভোট দেবেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এর আগে কুড়িগ্রাম এসেছি দলীয় প্রয়োজনে।

কিন্তু এবার এসেছি জাতির প্রয়োজনে। যুবক-যুবতি, তরুণ-তরুণিদের নেতৃত্বে এদেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ নারী-পুরুষ ২০২৪ সালের গর্বিত জুলাই যুদ্ধের অংশীদার। উত্তরবঙ্গের কাছে কৃতজ্ঞ। কেননা এখানকার আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়েছিল অধিকার আদায় করতে। এটি বীরদের পরিচয়। রংপুরের সন্তান শহীদ আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়ে বলেছে অধিকার দাও না হলে গুলি। সাঈদ বুকে তিন তিনটি গুলি নিয়েছে বীরের মতো।

এখান থেকেই জুলাই আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সাঈদ, মুগ্ধ, হাদিসহ ১৪ শত শহীদ হয়েছেন। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন যুদ্ধে সাঈদসহ ১৪০০ জন এবং পরে হাদি জীবন দিয়েছে। এই ১৪০০ বীরের লাশ এখন জাতির ঘাড়ে। তাদের রক্ত আমাদের নদীগুলোকে লাল করে দিয়েছে। এই বীরদের সঙ্গে আমরা বেইমানি করবো না, বিশ্বাসঘাতকতা করবো না।

তারা জীবন দিয়ে দেশের যে আমানত আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, সেই আমানত রক্ষায় প্রয়োজনে আমরাও জীবন দিতে প্রস্তুত। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক স্বাধীন বাংলাদেশ গড়া।

আমাদের নিজস্ব কোনো স্বপ্ন নেই- তাদের স্বপ্নই আমাদের স্বপ্ন। তিনি একটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তারা নারীদের গায়ে, মা বোনদের গায়ে হাত দিচ্ছেন। তারা হুমকি দিচ্ছেন কাপড় খুলে নিবেন। তারা বলছেন হিজাব পরে আসলে খুলে ফেলো, তাদের যেখানে পাও সেখানে ঠেকিয়ে দাও। লজ্জা লজ্জা। এরা কি মায়ের পেট থেকে আসে নাই? তা হলে মায়ের জাতের গায়ে হাত দেয় কীভাবে? আপনারা ভয় পাবেন না। চোখে চোখ রেখে কথা বলবেন।

এটি আমার বাংলাদেশ, আপনাদের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে আর কোনো জমিদার মেনে নেবো না। এই বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ। আমরা মায়েদের কথা দিচ্ছি- এ দেশে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় আসলে এদেশে আর নারীরা ধর্ষণের শিকার হবে না।

আপনাদের রাস্তাঘাট, কর্মস্থল সব জায়গায় শতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করবো। যে দেশে মায়েদের কোনো নিরাপত্তা নেই। সে দেশ আমার হতে পারে না। আমরা জাতি ধর্ম দেখবো না। সব ধর্মের নারীদের সম্মান করা আমাদের বড় দায়িত্ব ।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখন একটি গোষ্ঠী আমার পেছনে লেগেছে। আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যা তা চালায় দিছে। আর অমনি একটা দল ঝাঁপিয়ে পড়ে তাইরে নাইরে গান শুরু করেছে। লজ্জা, ওদের চুনোপুঁটি তো গাইলো বটে তাদের বড় বড় মাথাগুলোও গাইতে শুরু করে দিয়েছে।

কিন্তু তারা পেরে উঠতে পারেনি, আমাদের সাইবার টিম তাদের গলা টিপে ধরেছে, সত্য কখনো ধামাচাপা দেয়া যায় না। ইতিমধ্যে মেইন কালপিটকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

সত্য মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকে না। সূর্যকে মেঘ ঢেকে রাখতে পারে না। প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান মঞ্চে কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।

এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-২ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এনসিপি’র প্রার্থী ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদকে শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মো. আজিজুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, কুড়িগ্রামের ৪টি আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নিজাম উদ্দিন, সহ-সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদ, শাহজালাল হক সবুজ, জেলা বায়তুল মাল সম্পাদক জহরুল ইসলাম, এডভোকেট ইয়াসিন আলী, এনসিপি’র জেলা আহ্বায়ক মো. মুকুল মিয়া, খেলাফত মজলিস রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক সবেবর মিয়া প্রমুখ।

কুড়িগ্রাম-১ ( নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী) আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে এ জনপদে শিল্প-কলকারখানা তৈরি করে বেকারত্ব সমস্যা সমাধান করবো। কুড়িগ্রাম-২ (কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলা) আসনের এনসিপি’র প্রার্থী ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেন, কুড়িগ্রাম রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের কারণে পিছিয়ে পড়া জনপদ। আর পিছিয়ে থাকতে চাই না।

ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে কুড়িগ্রামের বঞ্চনা দূর করতে চাই। দুর্নীতি আর চাঁদাবাজির রাজনীতি পরিহার করে কর্মসংস্থানের রাজনীতি করতে চাই। নদীর বাঁধ নির্মাণ এবং চরাঞ্চলের উন্নয়নের কাজ করতে চাই। কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, দুর্নীতির কারণে দীর্ঘ ৫৪ বছর উন্নয়নবঞ্চিত ছিলাম। হ্যাঁ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারবো আমরা।

কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর সেতু করে এই তিন উপজেলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের আহ্বান জানান।