ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, নারীসহ আহত ৮

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। বিগত এক সপ্তাহে উপজেলার ভূজপুর, দাঁতমারা, পাইন্দং ও বাগানবাজার ইউনিয়নে পৃথক চারটি সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত আটজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কতিপয় নেতাকর্মী এসব হামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নির্বাচনী বিরোধের জেরে টার্গেট করা ব্যক্তিকে না পেয়ে অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হচ্ছে। বিশেষ করে দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও ভূজপুর থানার মাত্র চার থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কতিপয় নেতাকর্মী এসব হামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নির্বাচনী বিরোধের জেরে টার্গেট করা ব্যক্তিকে না পেয়ে অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হচ্ছে। বিশেষ করে দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও ভূজপুর থানার মাত্র চার থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সূত্রপাত ভোটের দিন বিকেলে উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের পূর্ব সোনাইছড়ি দাঁড়িপাল্লার নারী ভোটারদের যাতায়াত সুবিধা দিতে রিকশা সরবরাহ করায় শেখ ফরিদ নামে এক যুবককে এলাকার দোকান থেকে তুলে নিয়ে পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার জন্য স্থানীয় বিএনপি কর্মী ইয়াকুব বাদশা, শাহ আলম, আফছার, রাশেদসহ আরো কয়েকজনকে দায়ি করছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

পরদিন একই ইউনিয়নের দাওয়াতের টিলা এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে স্ট্যাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার হন রোকেয়া ও নাছিমা নামে আপন দুই বোন। গুরুতর আহত দুইজন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভোটের কয়েকদিন পূর্বে এলাকায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণসংযোগকালে এ দুই বোন ধানের শীষের কতিপয় কর্মীদের হাতে হেনস্থার শিকারও হন বলে দাবি করা হচ্ছে।

জানা যায়, ওই দিন রাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবদলের ১৫ থেকে ২০ জনের একটি গ্রুপ লাঠিসোঁটা নিয়ে শিবির কর্মী গোলামুর রহমানের ঘরে হামলা চালায়। তারা প্রথমে বসত ঘরে ডুকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় দুই বোন বাঁধা দিতে গেলে তাদের জখম করে হামলাকারীরা বীরদর্পে স্থান ত্যাগ করে।

সর্বশেষ পাইন্দং ইউনিয়নের বৃন্দাবনহাট এলাকায় রাতের আঁধারে কে বা কারা রহিম কোম্পানি নামে একজনকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। তবে কি কারনে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো: তারেক আজিজ নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ফটিকছড়ি ও ভূজপুর এলাকায় কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ত্বরিত আইনি পদক্ষেপ নিতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি।’তবে যতটুকু জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে বা দলীয় পর্যায়ে এসব বিষয় সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, নারীসহ আহত ৮

প্রকাশের সময় : ১২:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। বিগত এক সপ্তাহে উপজেলার ভূজপুর, দাঁতমারা, পাইন্দং ও বাগানবাজার ইউনিয়নে পৃথক চারটি সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত আটজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কতিপয় নেতাকর্মী এসব হামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নির্বাচনী বিরোধের জেরে টার্গেট করা ব্যক্তিকে না পেয়ে অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হচ্ছে। বিশেষ করে দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও ভূজপুর থানার মাত্র চার থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কতিপয় নেতাকর্মী এসব হামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নির্বাচনী বিরোধের জেরে টার্গেট করা ব্যক্তিকে না পেয়ে অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হচ্ছে। বিশেষ করে দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও ভূজপুর থানার মাত্র চার থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সূত্রপাত ভোটের দিন বিকেলে উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের পূর্ব সোনাইছড়ি দাঁড়িপাল্লার নারী ভোটারদের যাতায়াত সুবিধা দিতে রিকশা সরবরাহ করায় শেখ ফরিদ নামে এক যুবককে এলাকার দোকান থেকে তুলে নিয়ে পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার জন্য স্থানীয় বিএনপি কর্মী ইয়াকুব বাদশা, শাহ আলম, আফছার, রাশেদসহ আরো কয়েকজনকে দায়ি করছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

পরদিন একই ইউনিয়নের দাওয়াতের টিলা এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে স্ট্যাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার হন রোকেয়া ও নাছিমা নামে আপন দুই বোন। গুরুতর আহত দুইজন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভোটের কয়েকদিন পূর্বে এলাকায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণসংযোগকালে এ দুই বোন ধানের শীষের কতিপয় কর্মীদের হাতে হেনস্থার শিকারও হন বলে দাবি করা হচ্ছে।

জানা যায়, ওই দিন রাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবদলের ১৫ থেকে ২০ জনের একটি গ্রুপ লাঠিসোঁটা নিয়ে শিবির কর্মী গোলামুর রহমানের ঘরে হামলা চালায়। তারা প্রথমে বসত ঘরে ডুকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় দুই বোন বাঁধা দিতে গেলে তাদের জখম করে হামলাকারীরা বীরদর্পে স্থান ত্যাগ করে।

সর্বশেষ পাইন্দং ইউনিয়নের বৃন্দাবনহাট এলাকায় রাতের আঁধারে কে বা কারা রহিম কোম্পানি নামে একজনকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। তবে কি কারনে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো: তারেক আজিজ নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ফটিকছড়ি ও ভূজপুর এলাকায় কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ত্বরিত আইনি পদক্ষেপ নিতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি।’তবে যতটুকু জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে বা দলীয় পর্যায়ে এসব বিষয় সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে।