ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে মাদক কারবারিদের সঙ্গে গোলাগুলি, ৯ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকায় দুটি দুঃসাহসিক অভিযানে ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানের সময় সশস্ত্র মাদক কারবারিদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের ঘটনাও ঘটে।বুধবার রাতে হ্নীলা ও হোয়াইক্যং সীমান্তে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে এসব ইয়াবা জব্দ করা হয়।

বিজিবি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় বিজিবি রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের প্রত্যক্ষ দিক-নির্দেশনায় সেক্টরের অতিরিক্ত পরিচালকের (অপারেশন) নেতৃত্বে রামু সেক্টর, উখিয়া ও টেকনাফ ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে একটি যৌথ টহলদল উখিয়া বিজিবির হ্নীলা বিওপি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে চৌধুরীপাড়া স্লুইচ গেট সংলগ্ন এলাকায় কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে।

রাত আনুমানিক একটায় ৮-১০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখা গেলে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এসময় আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত মাদক কারবারিরা টহলদলের ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরা পাল্টা ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে বাধ্য হয়।

একপর্যায়ে মাদক কারবারিরা বহনকৃত ইয়াবা ফেলে পাশের কেওড়া জঙ্গলে অবস্থান নেয় এবং গুলিবর্ষণ অব্যাহত রাখে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী নাফ নদী ও কেওড়া জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়।

বিজিবির সাহসিকতা, দক্ষতা ও তাৎক্ষণিক কৌশলগত পদক্ষেপের ফলে কয়েকজন মাদক কারবারি নাফ নদীপথে পিছু হটে এবং ৪-৫ জন পশ্চিম দিকে গ্রামমুখী হয়ে পালিয়ে যায়। গ্রামের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিজিবি তাদের ওপর কার্যকর গুলিবর্ষণ থেকে বিরত থাকে।

পরে পলাতক মাদক কারবারিদের সঙ্গে স্থানীয় একটি সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীদলের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও পুলিশের সহায়তা কামনা করে।

অতিরিক্ত টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চৌধুরীপাড়া গ্রামে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে নাফ নদী ও সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বিজিবির অপারেশন দল ৭ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যতম বৃহৎ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা।

এর আগে, বুধবার রাত ১১টায় উখিয়া ব্যাটালিয়নের অপর একটি টহলদল হোয়াইক্যং বিওপি থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার উত্তরে মনিরঘোনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

মাদক কারবারিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, বিজিবি শুধু সীমান্ত সুরক্ষায় নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সর্বদা কঠোর অবস্থানে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কক্সবাজারে মাদক কারবারিদের সঙ্গে গোলাগুলি, ৯ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

প্রকাশের সময় : ১২:১১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকায় দুটি দুঃসাহসিক অভিযানে ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানের সময় সশস্ত্র মাদক কারবারিদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের ঘটনাও ঘটে।বুধবার রাতে হ্নীলা ও হোয়াইক্যং সীমান্তে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে এসব ইয়াবা জব্দ করা হয়।

বিজিবি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় বিজিবি রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের প্রত্যক্ষ দিক-নির্দেশনায় সেক্টরের অতিরিক্ত পরিচালকের (অপারেশন) নেতৃত্বে রামু সেক্টর, উখিয়া ও টেকনাফ ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে একটি যৌথ টহলদল উখিয়া বিজিবির হ্নীলা বিওপি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে চৌধুরীপাড়া স্লুইচ গেট সংলগ্ন এলাকায় কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে।

রাত আনুমানিক একটায় ৮-১০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখা গেলে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এসময় আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত মাদক কারবারিরা টহলদলের ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরা পাল্টা ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে বাধ্য হয়।

একপর্যায়ে মাদক কারবারিরা বহনকৃত ইয়াবা ফেলে পাশের কেওড়া জঙ্গলে অবস্থান নেয় এবং গুলিবর্ষণ অব্যাহত রাখে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী নাফ নদী ও কেওড়া জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়।

বিজিবির সাহসিকতা, দক্ষতা ও তাৎক্ষণিক কৌশলগত পদক্ষেপের ফলে কয়েকজন মাদক কারবারি নাফ নদীপথে পিছু হটে এবং ৪-৫ জন পশ্চিম দিকে গ্রামমুখী হয়ে পালিয়ে যায়। গ্রামের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিজিবি তাদের ওপর কার্যকর গুলিবর্ষণ থেকে বিরত থাকে।

পরে পলাতক মাদক কারবারিদের সঙ্গে স্থানীয় একটি সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীদলের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও পুলিশের সহায়তা কামনা করে।

অতিরিক্ত টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চৌধুরীপাড়া গ্রামে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে নাফ নদী ও সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বিজিবির অপারেশন দল ৭ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যতম বৃহৎ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা।

এর আগে, বুধবার রাত ১১টায় উখিয়া ব্যাটালিয়নের অপর একটি টহলদল হোয়াইক্যং বিওপি থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার উত্তরে মনিরঘোনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

মাদক কারবারিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, বিজিবি শুধু সীমান্ত সুরক্ষায় নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সর্বদা কঠোর অবস্থানে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।