ঢাকা ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে জেগে উঠেছে অমর একুশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন

  • সিলেট প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ১২:০৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৮১ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহিত

আজ অমর একুশে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলা ও বাঙালীর স্বাধীকার আন্দোলন বা স্বাধীনতা যুদ্ধের বীজ বোনা হয়েছিল এই দিনে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। তারপর বাংলাতো রাষ্ট্রভাষা হয়েইছিল, এমনকি পরবর্তীতে স্বয়ং জাতীসংঘ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে দিনটিকে স্বীকৃতি দেয়।

আমাদের গৌরবের এই দিনটির পটভূমি অবশ্য শুরু হয়েছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পরপরই। আর সিলেটবাসীর জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয় যে, এই সিলেট থেকেই প্রথম পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে বাংলার পক্ষে দাবি জানানো হয় মাসিক আল-ইসলাহ পত্রিকায় প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে।

এই দাবিতে একসময় ১৯৪৮ সালজুড়ে সিলেটে ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রাম হয় যা রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার ইতিহাসকে গৌরবান্বিত করেছে।

আজ একুশের প্রথম প্রহরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। সালাম-বরকত-রফিক-জব্বার-শফিউলসহ নাম না জানা ভাষা সৈনিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবে পুরো জাতি।

সিলেটের দুই মন্ত্রী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির প্রশাসনের সর্বস্থরের কর্মকর্তা কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সচেতন বিভিন্ন মহল কন্ঠে গাফ্ফার চৌধুরীর সেই অমর গান ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি- আমি কি ভুলিতে পারি’ গাইতে গাইতে শহীদ মিনারের বেদীতে ফুলের স্থবক রেখে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন যা চলতে থাকবে শনিবার সারাদিন।

অবশ্য একটা সময় একুশে ফেব্রুয়ারিতে সিলেট মহানগরীরতে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্টানের আয়োজন থাকতো। রবীন্দ্র সঙ্গীত, দেশাত্মবোধক গান, বাউল গান- ইত্যাদিতে মেতে থাকতেন সিলেটের সংস্কৃতিপ্রেমীরা। তবে গত ১৭/১৮ মাসে মবতন্ত্রের ভয়ে সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গন বলতে গেলে মুখ থুবড়ে পড়েছিল।

একুশের হাত ধরে তার ইতিবাচক হাওয়ায় সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনও জেগে উঠবে- এমন প্রত্যাশা সচেতন মহলের। জেগে উঠুক সিলেটসহ সারাদেশের সাংস্কৃতিক অংঙ্গন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

নেত্রকোণার মদনে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবাধে নকলের অভিযোগ:

সিলেটে জেগে উঠেছে অমর একুশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন

প্রকাশের সময় : ১২:০৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ছবি সংগৃহিত

আজ অমর একুশে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলা ও বাঙালীর স্বাধীকার আন্দোলন বা স্বাধীনতা যুদ্ধের বীজ বোনা হয়েছিল এই দিনে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। তারপর বাংলাতো রাষ্ট্রভাষা হয়েইছিল, এমনকি পরবর্তীতে স্বয়ং জাতীসংঘ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে দিনটিকে স্বীকৃতি দেয়।

আমাদের গৌরবের এই দিনটির পটভূমি অবশ্য শুরু হয়েছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পরপরই। আর সিলেটবাসীর জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয় যে, এই সিলেট থেকেই প্রথম পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে বাংলার পক্ষে দাবি জানানো হয় মাসিক আল-ইসলাহ পত্রিকায় প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে।

এই দাবিতে একসময় ১৯৪৮ সালজুড়ে সিলেটে ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রাম হয় যা রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার ইতিহাসকে গৌরবান্বিত করেছে।

আজ একুশের প্রথম প্রহরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। সালাম-বরকত-রফিক-জব্বার-শফিউলসহ নাম না জানা ভাষা সৈনিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবে পুরো জাতি।

সিলেটের দুই মন্ত্রী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির প্রশাসনের সর্বস্থরের কর্মকর্তা কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সচেতন বিভিন্ন মহল কন্ঠে গাফ্ফার চৌধুরীর সেই অমর গান ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি- আমি কি ভুলিতে পারি’ গাইতে গাইতে শহীদ মিনারের বেদীতে ফুলের স্থবক রেখে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন যা চলতে থাকবে শনিবার সারাদিন।

অবশ্য একটা সময় একুশে ফেব্রুয়ারিতে সিলেট মহানগরীরতে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্টানের আয়োজন থাকতো। রবীন্দ্র সঙ্গীত, দেশাত্মবোধক গান, বাউল গান- ইত্যাদিতে মেতে থাকতেন সিলেটের সংস্কৃতিপ্রেমীরা। তবে গত ১৭/১৮ মাসে মবতন্ত্রের ভয়ে সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গন বলতে গেলে মুখ থুবড়ে পড়েছিল।

একুশের হাত ধরে তার ইতিবাচক হাওয়ায় সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনও জেগে উঠবে- এমন প্রত্যাশা সচেতন মহলের। জেগে উঠুক সিলেটসহ সারাদেশের সাংস্কৃতিক অংঙ্গন।