ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নদীর বালু তোলার প্রতিবাদ করায় গ্রামবাসীর ওপর হামলা-গুলি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার প্রতিবাদ করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরলাপাং গ্রামবাসীর ওপর হামলা ও গুলি চালিয়েছে বালু ব্যবসায়ীরা। রবিবার সকালে এ হামলায় কমপক্ষে ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন।

গুলিবিদ্ধরা হলেন- সিয়াম আহমেদ (১৬), ইব্রাহিম খলিল (৩০), নূরুল আমীন (৪০), রূপ মিয়া (৪৫), স্বপন মিয়া (৫০), শরিফ মিয়া (৩০), জুলাস মিয়া (৫০), শাকাল মিয়া (৫০), সামত মিয়া (৪০) ও সফর মিয়া (৫০)। তাদের নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হাবিব রহমান জানান, দুপুরে ছররা গুলিতে আহত প্রায় ১০-১৩ রোগী জরুরি বিভাগে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হামলার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক ও নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নবীনগর উপজেলার চরলাপাং গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদী তীরবর্তী চরলাপাং গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলো নদী ভাঙ্গনের কবলের শিকার হচ্ছে। গ্রামবাসী বারবার বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা চরলাপাং গ্রামের জমি থেকে তাদের ফসল জোরপূর্বকভাবে কেটেও নিয়ে যাচ্ছে। পাশ্ববর্তী নরসিংদীর রায়পুরা ইউনিয়নে মির্জাপুরের একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে মেঘনা নদীর চরলাপাং গ্রামের কাছাকাছি এলাকা থেকে কয়েক মাস ধরে বালু উত্তোলন করে আসছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাসিরাবাদের ব্যবসায়ী শাহদাদ হোসেন পায়েলের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স সামিউল ট্রেডার্স এই বালু মহালের ইজারা পায়। তিনি শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। উপজেলা বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত। বিএনপির উভয় পক্ষের কিছু প্রভাবশালী নেতা এই বালু ব্যবসা চক্রে জড়িত।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইজারার শর্ত ভঙ্গ ও সীমানা অতিক্রম করে দিন ও রাতে বালু তুলছে সামিউল ট্রেডার্স। এতে নদীর তীরবর্তী চরলাপাং, সোনাবালুয়া ঘাট, এমপি টিলা, নূরজাহানপুর, ঈদগাহ মাঠ, কবরস্থানসহ তীরের গ্রামগুলো নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসী বারবার প্রতিবাদ করেও প্রতিকার পাচ্ছে না। গ্রামবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাঝে মাঝে প্রশাসন অভিযান চালালেও কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর আবারও বালু তোলা শুরু হয়।

গ্রামবাসী আলী নেওয়াজ, জসিম মিয়া, জামাল মিয়া, তৌহিদ মিয়া ও জামাল হোসেন জানান, বিএনপি ও বিগত ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এই বালু চক্রে জড়িত। এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু তুলছে। মেসার্স সামিউল ট্রেডার্স নামের প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এ কর্মকাণ্ড পরিচালনা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করলে এই চক্র গুলি, হামলা ও ভয়ভীতি দেখায়।

লাগামহীন বালু তোলার কারণে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য পরিবার।এ ব্যাপারে মেসার্স সামিউল ট্রেডার্সের মালিক শাহদাদ হোসেন পায়েলের মোবাইল ফোনে বারবার কল করলেও তিনি ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও জবাব মেলেনি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম বলেন, প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে পায়েলের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে নদীর পার কাটছে। এতে ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকিতে পড়ায় গ্রামবাসী প্রতিবাদ করে। এ কারণে তাদের ওপর গুলি চালানো হবে- এমনটা কেউ কল্পনা করতে পারেননি। এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধসহ ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করছি।

ভুক্তভোগীরা জানান, ফসলি জমির পাশ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার প্রতিবাদ করায় গতকাল সকালে ২০ থেকে ৩০ জন সন্ত্রাসী গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়।

আহত শরিফ মিয়া বলেন, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনকারী ও গুলি চালানো সন্ত্রাসীরা ইজারাদার সাখাওয়াত হোসেন পায়েলের লোক। তার নির্দেশে গুলি করা হয়েছে।

আহত সফর মিয়া বলেন, ফসলি জমির ধান কেটে নেওয়ার প্রতিবাদ করায় পায়েলের সশস্ত্র বাহিনী গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা এলাকা পরিদর্শন করেছি। আমাদের যাওয়ার আগে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে। এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম. এ. মান্নান বলেন, ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। বালু সন্ত্রাসীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নদীর বালু তোলার প্রতিবাদ করায় গ্রামবাসীর ওপর হামলা-গুলি

প্রকাশের সময় : ১২:০০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার প্রতিবাদ করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরলাপাং গ্রামবাসীর ওপর হামলা ও গুলি চালিয়েছে বালু ব্যবসায়ীরা। রবিবার সকালে এ হামলায় কমপক্ষে ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন।

গুলিবিদ্ধরা হলেন- সিয়াম আহমেদ (১৬), ইব্রাহিম খলিল (৩০), নূরুল আমীন (৪০), রূপ মিয়া (৪৫), স্বপন মিয়া (৫০), শরিফ মিয়া (৩০), জুলাস মিয়া (৫০), শাকাল মিয়া (৫০), সামত মিয়া (৪০) ও সফর মিয়া (৫০)। তাদের নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হাবিব রহমান জানান, দুপুরে ছররা গুলিতে আহত প্রায় ১০-১৩ রোগী জরুরি বিভাগে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হামলার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক ও নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নবীনগর উপজেলার চরলাপাং গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদী তীরবর্তী চরলাপাং গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলো নদী ভাঙ্গনের কবলের শিকার হচ্ছে। গ্রামবাসী বারবার বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা চরলাপাং গ্রামের জমি থেকে তাদের ফসল জোরপূর্বকভাবে কেটেও নিয়ে যাচ্ছে। পাশ্ববর্তী নরসিংদীর রায়পুরা ইউনিয়নে মির্জাপুরের একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে মেঘনা নদীর চরলাপাং গ্রামের কাছাকাছি এলাকা থেকে কয়েক মাস ধরে বালু উত্তোলন করে আসছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাসিরাবাদের ব্যবসায়ী শাহদাদ হোসেন পায়েলের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স সামিউল ট্রেডার্স এই বালু মহালের ইজারা পায়। তিনি শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। উপজেলা বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত। বিএনপির উভয় পক্ষের কিছু প্রভাবশালী নেতা এই বালু ব্যবসা চক্রে জড়িত।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইজারার শর্ত ভঙ্গ ও সীমানা অতিক্রম করে দিন ও রাতে বালু তুলছে সামিউল ট্রেডার্স। এতে নদীর তীরবর্তী চরলাপাং, সোনাবালুয়া ঘাট, এমপি টিলা, নূরজাহানপুর, ঈদগাহ মাঠ, কবরস্থানসহ তীরের গ্রামগুলো নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গ্রামবাসী বারবার প্রতিবাদ করেও প্রতিকার পাচ্ছে না। গ্রামবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাঝে মাঝে প্রশাসন অভিযান চালালেও কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর আবারও বালু তোলা শুরু হয়।

গ্রামবাসী আলী নেওয়াজ, জসিম মিয়া, জামাল মিয়া, তৌহিদ মিয়া ও জামাল হোসেন জানান, বিএনপি ও বিগত ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এই বালু চক্রে জড়িত। এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু তুলছে। মেসার্স সামিউল ট্রেডার্স নামের প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এ কর্মকাণ্ড পরিচালনা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করলে এই চক্র গুলি, হামলা ও ভয়ভীতি দেখায়।

লাগামহীন বালু তোলার কারণে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য পরিবার।এ ব্যাপারে মেসার্স সামিউল ট্রেডার্সের মালিক শাহদাদ হোসেন পায়েলের মোবাইল ফোনে বারবার কল করলেও তিনি ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও জবাব মেলেনি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম বলেন, প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে পায়েলের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে নদীর পার কাটছে। এতে ফসলি জমি ও বসতভিটা হুমকিতে পড়ায় গ্রামবাসী প্রতিবাদ করে। এ কারণে তাদের ওপর গুলি চালানো হবে- এমনটা কেউ কল্পনা করতে পারেননি। এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধসহ ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করছি।

ভুক্তভোগীরা জানান, ফসলি জমির পাশ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার প্রতিবাদ করায় গতকাল সকালে ২০ থেকে ৩০ জন সন্ত্রাসী গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়।

আহত শরিফ মিয়া বলেন, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনকারী ও গুলি চালানো সন্ত্রাসীরা ইজারাদার সাখাওয়াত হোসেন পায়েলের লোক। তার নির্দেশে গুলি করা হয়েছে।

আহত সফর মিয়া বলেন, ফসলি জমির ধান কেটে নেওয়ার প্রতিবাদ করায় পায়েলের সশস্ত্র বাহিনী গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা এলাকা পরিদর্শন করেছি। আমাদের যাওয়ার আগে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে। এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম. এ. মান্নান বলেন, ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। বালু সন্ত্রাসীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।