ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরি তদন্তে ফিলিপাইনের সহযোগিতা চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি তদন্তে ফিলিপাইনের সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিপাইন রাষ্ট্রদূত নিনা পাডিলা কায়িংলেটের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই সহযোগিতা চান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলাদেশের ফিলিপাইন-সম্পর্কিত আইনগত ও বিচারিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দুই দেশের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রদূত নিনা পাডিলা কায়িংলেট নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত সরকারকে ফিলিপাইন সরকারের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

বৈঠকে দুই পক্ষ বাংলাদেশের ফিলিপাইনসহ শান্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযান ও দুই দেশের মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

রাষ্ট্রদূত জানান, সমুদ্র খাতের সহযোগিতার জন্য পূর্বে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। শিগগিরই নার্সিং খাতেও একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে।

উভয় পক্ষ শ্রম সহযোগিতা, জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজের মধ্যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং ফিলিপাইনের কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজের বিষয়েও আলোচনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুব ও নারীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী ফিলিপাইনে স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া আউটসোর্সিং খাতে দক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উভয় পক্ষ বাতিল বা প্রক্রিয়াধীন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি যেমন বিমানসেবা, দুর্নীতিবিরোধী সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সমঝোতা স্মারকের অবস্থা পর্যালোচনা করে এগুলো শিগগিরই চূড়ান্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতেও আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, জুটজাত পণ্য, সিরামিক এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত নবায়নযোগ্য শক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে ফিলিপাইন বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগের সুযোগ তুলে ধরেন।

উদীয়মান খাত যেমন সৃজনশীল অর্থনীতি, গেমিং শিল্প, যুব বিনিময় ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, যৌথ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও বৈঠকে আলোচিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশসমূহের সংস্থা (আসিয়ান)-এর সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রচেষ্টায় ফিলিপাইনের সমর্থন কামনা করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

নেত্রকোণার মদনে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবাধে নকলের অভিযোগ:

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরি তদন্তে ফিলিপাইনের সহযোগিতা চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

প্রকাশের সময় : ১১:১৭:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি তদন্তে ফিলিপাইনের সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিপাইন রাষ্ট্রদূত নিনা পাডিলা কায়িংলেটের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই সহযোগিতা চান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলাদেশের ফিলিপাইন-সম্পর্কিত আইনগত ও বিচারিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দুই দেশের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রদূত নিনা পাডিলা কায়িংলেট নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত সরকারকে ফিলিপাইন সরকারের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

বৈঠকে দুই পক্ষ বাংলাদেশের ফিলিপাইনসহ শান্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযান ও দুই দেশের মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

রাষ্ট্রদূত জানান, সমুদ্র খাতের সহযোগিতার জন্য পূর্বে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। শিগগিরই নার্সিং খাতেও একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে।

উভয় পক্ষ শ্রম সহযোগিতা, জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজের মধ্যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং ফিলিপাইনের কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজের বিষয়েও আলোচনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুব ও নারীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী ফিলিপাইনে স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া আউটসোর্সিং খাতে দক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উভয় পক্ষ বাতিল বা প্রক্রিয়াধীন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি যেমন বিমানসেবা, দুর্নীতিবিরোধী সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সমঝোতা স্মারকের অবস্থা পর্যালোচনা করে এগুলো শিগগিরই চূড়ান্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতেও আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, জুটজাত পণ্য, সিরামিক এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত নবায়নযোগ্য শক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে ফিলিপাইন বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগের সুযোগ তুলে ধরেন।

উদীয়মান খাত যেমন সৃজনশীল অর্থনীতি, গেমিং শিল্প, যুব বিনিময় ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, যৌথ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও বৈঠকে আলোচিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশসমূহের সংস্থা (আসিয়ান)-এর সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রচেষ্টায় ফিলিপাইনের সমর্থন কামনা করেন।