ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির মামলায় দুই আসামি গ্রেপ্তার

রাজশাহী নগরীর শিরোইল কাঁচা বাজার এলাকায় অবস্থিত রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী কোর্ট এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—নগরীর টিকাপাড়া এলাকার করিমের ছেলে ও মামলার ৩ নম্বর আসামি মিশাল (৩০) এবং বহরমপুর এলাকার মৃত মানিকের ছেলে ও মামলার ৫ নম্বর আসামি ইব্রাহিম (৪০)।

​পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মিশালের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অস্ত্র মামলা রয়েছে এবং ইব্রাহিম এলাকায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসের হোতা হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তারের সময় উত্তেজিত জনতা সন্ত্রাসী ইব্রাহিমকে গণপিটুনি দেয়। তবে এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মামলার অপর অভিযুক্ত সাইদ আলী পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

​ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা যায়, গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত আটটার দিকে প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— নুরে ইসলাম মিলন (৪৫), সুরুজ আলী (৩০), সাইদ আলী (৩৮) ও রেন্টু (৩০)।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে অভিযুক্তরা প্রেস ক্লাব পরিচালনার নামে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। এরই জেরে গত শনিবার রাতে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে তাঁরা ক্লাবে প্রবেশ করেন।

এ সময় প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল ঠেকিয়ে ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমকে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হলে সুরুজ আলী নামের এক অভিযুক্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজাউল করিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। এতে তাঁর ঊরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং হাসপাতালে ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে।

​হামলার সময় স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা একটি গাড়ি (কুমিল্লা-চ-৫১-০০২৮) ফেলে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহত সাংবাদিক নেতাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পাওয়ার পরপরই বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া গাড়িটি জব্দ করে।

​বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, আজ ৩ নম্বর আসামি মিশাল ও ৫ নম্বর আসামি ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মিশালের বিরুদ্ধে আগের অস্ত্র মামলা রয়েছে এবং ইব্রাহিমের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ আছে। মামলার বাকি জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় রাজশাহীর স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির মামলায় দুই আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ১২:২৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

রাজশাহী নগরীর শিরোইল কাঁচা বাজার এলাকায় অবস্থিত রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী কোর্ট এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—নগরীর টিকাপাড়া এলাকার করিমের ছেলে ও মামলার ৩ নম্বর আসামি মিশাল (৩০) এবং বহরমপুর এলাকার মৃত মানিকের ছেলে ও মামলার ৫ নম্বর আসামি ইব্রাহিম (৪০)।

​পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মিশালের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অস্ত্র মামলা রয়েছে এবং ইব্রাহিম এলাকায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসের হোতা হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তারের সময় উত্তেজিত জনতা সন্ত্রাসী ইব্রাহিমকে গণপিটুনি দেয়। তবে এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মামলার অপর অভিযুক্ত সাইদ আলী পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

​ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা যায়, গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত আটটার দিকে প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— নুরে ইসলাম মিলন (৪৫), সুরুজ আলী (৩০), সাইদ আলী (৩৮) ও রেন্টু (৩০)।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে অভিযুক্তরা প্রেস ক্লাব পরিচালনার নামে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। এরই জেরে গত শনিবার রাতে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে তাঁরা ক্লাবে প্রবেশ করেন।

এ সময় প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল ঠেকিয়ে ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমকে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হলে সুরুজ আলী নামের এক অভিযুক্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজাউল করিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। এতে তাঁর ঊরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং হাসপাতালে ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে।

​হামলার সময় স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা একটি গাড়ি (কুমিল্লা-চ-৫১-০০২৮) ফেলে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহত সাংবাদিক নেতাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পাওয়ার পরপরই বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া গাড়িটি জব্দ করে।

​বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, আজ ৩ নম্বর আসামি মিশাল ও ৫ নম্বর আসামি ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মিশালের বিরুদ্ধে আগের অস্ত্র মামলা রয়েছে এবং ইব্রাহিমের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ আছে। মামলার বাকি জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় রাজশাহীর স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।