
চট্টগ্রাম নগরীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন, মনির ও সায়েম। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশী থ্রি-টু বোর রিভলভার, একটি ব্রাজিলিয়ান টরাস ৯ এমএম পিস্তল ও একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৫৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
একই অভিযানে এসময় তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন— তুষার (২১), মো. বাবু (২৭) ও মেহেদী হাসান ওরফে হাসান (২২)।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসী সাজ্জাদের সহযোগীদের থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো লুণ্ঠিত। সায়েম খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে এসব অস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক ও প্রশাসন) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী জানান, সিএমপি কমিশনারের নির্দেশনায় নগরীর চকবাজার পুলিশ অভিযান চালিয়ে চকবাজার থেকে সাজ্জাদের সহযোগী রিমনকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে।
অন্যদিকে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মনিরকে গ্রেফতার করে। পরে মনিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বায়োজিদ বোস্তামি এলাকা থেকে সায়েমকে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৫০ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে রমজান ও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে কোতোয়ালি থানা এলাকায় পৃথক অভিযানে তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি ধামা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। এরা পেশাদার ছিনতাইকারী এবং তাদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা ছিল।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও নগরীর শীর্ষ ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাড়িতে পুলিশি পাহারা স্বত্ত্বেও মুখোশধারী কয়েকজন এই হামলা চালায়।
যদিও এই হামলা বাড়ির পেছনের জানালায় করা হয়। তবে এই ঘটনায় কেউ আহত হননি। চাঁদার দাবিতে বিদেশে পলাতক পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের নির্দেশে এই হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছিল পুলিশ। এর আগেও গত ২ জানুয়ারি একই বাসায় গুলি চালিয়েছিল সাজ্জাদের অনুসারী সন্ত্রাসীরা।
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 








