ঢাকা ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পাম তেল কিনছে সরকার

নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল সরবরাহের লক্ষ্যে বড় পরিসরে পাম অয়েল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের আওতায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম অয়েল সংগ্রহ করা হবে।

বুধবার (১১ মার্চ) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের অধীনে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা।

সরকারি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে তেলটি কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৮১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। শুল্ক, ভ্যাট ও পরিবহন ব্যয়সহ টিসিবির গুদাম পর্যন্ত প্রতি লিটার তেলের গড় খরচ পড়বে ১৬৫ টাকা ৩০ পয়সা।

আন্তর্জাতিক দরপত্রে নির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ার হাউস জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি’ এই পাম অয়েল সরবরাহ করবে। ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ লিটারের পেট বোতলে তেল আমদানি করা হবে।

প্রতি লিটার তেলের আমদানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১.১৩৭ মার্কিন ডলার, যেখানে প্রতি ডলার ধরা হয়েছে ১২২.৩৫ টাকা। সরকারি প্রাক্কলনের তুলনায় এই দর লিটারপ্রতি ০.০০৭ ডলার কম।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত পাম তেলের গড় খুচরা মূল্য প্রায় ১৮০ টাকা। সরকারের এই উদ্যোগে বাজারদরের তুলনায় প্রতি লিটারে প্রায় ১৪ টাকা ৭০ পয়সা কম দামে তেল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। প্রায় ১ কোটি নিম্নআয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল পৌঁছে দিতে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এদিকে একই বৈঠকে আরও ১ কোটি ৮০ লাখ লিটার রাইস ব্রান তেল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। একটি প্রস্তাবে চারটি লটে ৮০ লাখ লিটার এবং আরেকটি প্রস্তাবে পাঁচটি লটে ১ কোটি লিটার তেল কেনার অনুমোদন চাওয়া হবে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে মোট ২৩ কোটি লিটার ভোজ্যতেল কেনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান সরকারের এই প্রথম সশরীরে অনুষ্ঠিত ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সভাপতিত্ব করবেন। এর আগে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পাম তেল কিনছে সরকার

প্রকাশের সময় : ০৩:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল সরবরাহের লক্ষ্যে বড় পরিসরে পাম অয়েল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের আওতায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম অয়েল সংগ্রহ করা হবে।

বুধবার (১১ মার্চ) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের অধীনে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা।

সরকারি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে তেলটি কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৮১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। শুল্ক, ভ্যাট ও পরিবহন ব্যয়সহ টিসিবির গুদাম পর্যন্ত প্রতি লিটার তেলের গড় খরচ পড়বে ১৬৫ টাকা ৩০ পয়সা।

আন্তর্জাতিক দরপত্রে নির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ার হাউস জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি’ এই পাম অয়েল সরবরাহ করবে। ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ লিটারের পেট বোতলে তেল আমদানি করা হবে।

প্রতি লিটার তেলের আমদানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১.১৩৭ মার্কিন ডলার, যেখানে প্রতি ডলার ধরা হয়েছে ১২২.৩৫ টাকা। সরকারি প্রাক্কলনের তুলনায় এই দর লিটারপ্রতি ০.০০৭ ডলার কম।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত পাম তেলের গড় খুচরা মূল্য প্রায় ১৮০ টাকা। সরকারের এই উদ্যোগে বাজারদরের তুলনায় প্রতি লিটারে প্রায় ১৪ টাকা ৭০ পয়সা কম দামে তেল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। প্রায় ১ কোটি নিম্নআয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল পৌঁছে দিতে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এদিকে একই বৈঠকে আরও ১ কোটি ৮০ লাখ লিটার রাইস ব্রান তেল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। একটি প্রস্তাবে চারটি লটে ৮০ লাখ লিটার এবং আরেকটি প্রস্তাবে পাঁচটি লটে ১ কোটি লিটার তেল কেনার অনুমোদন চাওয়া হবে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে মোট ২৩ কোটি লিটার ভোজ্যতেল কেনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান সরকারের এই প্রথম সশরীরে অনুষ্ঠিত ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সভাপতিত্ব করবেন। এর আগে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।