ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীতে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের মারধরে প্রাণ গেল বাবার, আটক ৪

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের মারধরে মো. সেলিম (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন।শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গৌরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত মো. সেলিম ওই গ্রামের মৃত মো. শাহজানের ছেলে এবং স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেলিমের ছেলে অন্তরের সঙ্গে এলাকার কয়েকজন কিশোর গ্যাং সজল, শাওন, ফাহাদ ও রিয়াজের মধ্যে আগে সিনিয়র-জুনিয়র বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। শনিবার দুপুরে এ নিয়ে ফোনে অন্তর ও সজলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সজল তার সহযোগীদের নিয়ে সেলিমের বাড়ির সামনে আসে এবং অন্তরের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্তরের বড় ভাই শাকিল এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শোরগোল শুনে নিজের দোকান থেকে বের হয়ে ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে যান কৃষক দলের সভাপতি মো. সেলিম। অভিযোগ রয়েছে, তখন অভিযুক্তরা তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করে এবং পিটিয়ে হত্যা করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের বড় ছেলে শাকিল অভিযোগ করেন, পূর্বের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং তার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহতের ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ভাই ছেলেদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিল। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।

সদর উপজেলা ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ বলেন, নিহত সেলিম একজন সাধারণ কৃষক ও চা দোকানি ছিলেন এবং দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছি। জেলা কৃষক দলের সভাপতি ফজলে এলাহী ভিপি পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক জিএস হারুন এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন এবং নিহতের পরিবারকে সান্তনা দিয়েছেন।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা মো. সেলিম নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পুলিশ রাতে চারজনকে আটক করেছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

২৫০ জেনারেল হাসপাতালের ইমারজেন্সি ডাক্তার মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান জানান, মো. সেলিমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। মনে হচ্ছে মারামারিতেই ঘটনা ঘটেছে। লাশ মর্গে রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নোয়াখালীতে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের মারধরে প্রাণ গেল বাবার, আটক ৪

প্রকাশের সময় : ১২:১৩:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের মারধরে মো. সেলিম (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন।শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গৌরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত মো. সেলিম ওই গ্রামের মৃত মো. শাহজানের ছেলে এবং স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেলিমের ছেলে অন্তরের সঙ্গে এলাকার কয়েকজন কিশোর গ্যাং সজল, শাওন, ফাহাদ ও রিয়াজের মধ্যে আগে সিনিয়র-জুনিয়র বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। শনিবার দুপুরে এ নিয়ে ফোনে অন্তর ও সজলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সজল তার সহযোগীদের নিয়ে সেলিমের বাড়ির সামনে আসে এবং অন্তরের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্তরের বড় ভাই শাকিল এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শোরগোল শুনে নিজের দোকান থেকে বের হয়ে ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে যান কৃষক দলের সভাপতি মো. সেলিম। অভিযোগ রয়েছে, তখন অভিযুক্তরা তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করে এবং পিটিয়ে হত্যা করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের বড় ছেলে শাকিল অভিযোগ করেন, পূর্বের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং তার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহতের ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ভাই ছেলেদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিল। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।

সদর উপজেলা ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ বলেন, নিহত সেলিম একজন সাধারণ কৃষক ও চা দোকানি ছিলেন এবং দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছি। জেলা কৃষক দলের সভাপতি ফজলে এলাহী ভিপি পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক জিএস হারুন এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন এবং নিহতের পরিবারকে সান্তনা দিয়েছেন।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা মো. সেলিম নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পুলিশ রাতে চারজনকে আটক করেছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

২৫০ জেনারেল হাসপাতালের ইমারজেন্সি ডাক্তার মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান জানান, মো. সেলিমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। মনে হচ্ছে মারামারিতেই ঘটনা ঘটেছে। লাশ মর্গে রয়েছে।