ঢাকা ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনের দুই দিনের রিমান্ড চায় ডিবি

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানার একটি মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার পর তাকে ডিবি কার্যালয় থেকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে নেওয়া হয়। এরপর গণ-অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মামলায় তার দুই দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে ডিবি।

ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে এ আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন। আদালতে আজই এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে ডিবি বলেছে, মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান জানা, গ্রেফতার ও প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের জন্য আসামি শিরীন শারমিনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া দরকার।

আবেদনে ডিবি জানায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলেন।

এ সময় আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের ওপর দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করেন। এ ঘটনায় আন্দোলনকারী মো. আশরাফুলের (ফাহিম) বাম চোখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলি লাগে। তিনি গত বছরের ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় মো. আশরাফুল অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিপ্লব বড়ুয়া, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পরিকল্পনা ও নির্দেশে পুলিশ সদস্য এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা আন্দোলনে অংশ নেওয়া নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করেন। এই মামলায় শিরীন শারমীন চৌধুরী ৩ নম্বর আসামি।

বাদী ফাহিম মামলায় অভিযোগ করেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের মতে, এ ঘটনায় তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, ১৮ জুলাই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলাকালে প্রায় ৩১ জন আন্দোলনকারী নিহত হন। মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা এবং তৃতীয় আসামি শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্যান্য আসামিরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে জড়িত ছিলেন। তাদের পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নির্দেশে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।

আবেদনে শিরীন শারমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ বিষয়ে তথ্য জানায় ডিবি। তারা বলেছে, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি নিজের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করে এই মামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানান। মামলার পলাতক আসামিসহ মামলার ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কৌশলে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান।

ডিবি বলছে, আসামিকে পুলিশ হেফাজতে এনে মামলার ঘটনা নিয়ে নিবিড় ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে পলাতক আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করাসহ গ্রেফতার। এছাড়া, মামলার রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে চিরতরে পলাতক হওয়াসহ মামলা তদন্তে বিঘ্ন ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

আজ ভোরে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ধানমন্ডিতে তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সকালে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা মামলাসহ ছয়টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় ইতিমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি তিনটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনের দুই দিনের রিমান্ড চায় ডিবি

প্রকাশের সময় : ০৪:০১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানার একটি মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার পর তাকে ডিবি কার্যালয় থেকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে নেওয়া হয়। এরপর গণ-অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মামলায় তার দুই দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে ডিবি।

ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে এ আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন। আদালতে আজই এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে ডিবি বলেছে, মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান জানা, গ্রেফতার ও প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের জন্য আসামি শিরীন শারমিনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া দরকার।

আবেদনে ডিবি জানায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলেন।

এ সময় আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের ওপর দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করেন। এ ঘটনায় আন্দোলনকারী মো. আশরাফুলের (ফাহিম) বাম চোখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলি লাগে। তিনি গত বছরের ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় মো. আশরাফুল অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিপ্লব বড়ুয়া, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পরিকল্পনা ও নির্দেশে পুলিশ সদস্য এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা আন্দোলনে অংশ নেওয়া নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করেন। এই মামলায় শিরীন শারমীন চৌধুরী ৩ নম্বর আসামি।

বাদী ফাহিম মামলায় অভিযোগ করেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের মতে, এ ঘটনায় তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, ১৮ জুলাই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলাকালে প্রায় ৩১ জন আন্দোলনকারী নিহত হন। মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা এবং তৃতীয় আসামি শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্যান্য আসামিরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে জড়িত ছিলেন। তাদের পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নির্দেশে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।

আবেদনে শিরীন শারমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ বিষয়ে তথ্য জানায় ডিবি। তারা বলেছে, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি নিজের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করে এই মামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানান। মামলার পলাতক আসামিসহ মামলার ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কৌশলে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান।

ডিবি বলছে, আসামিকে পুলিশ হেফাজতে এনে মামলার ঘটনা নিয়ে নিবিড় ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে পলাতক আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করাসহ গ্রেফতার। এছাড়া, মামলার রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে চিরতরে পলাতক হওয়াসহ মামলা তদন্তে বিঘ্ন ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

আজ ভোরে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ধানমন্ডিতে তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সকালে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা মামলাসহ ছয়টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় ইতিমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি তিনটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন।