ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের অভিযোগের মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড আবেদন নাকচ ও জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার এ আদেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান। এর আগে, তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন।

ডিবির আবেদনে বলা হয়, মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত, গ্রেফতার এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের স্বার্থে আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া জরুরি। তবে শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ সড়কের একটি বাসা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে লালবাগ থানার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রথমে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

রিমান্ড আবেদনে ডিবি আরও জানায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিল। এ সময় আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করে।

এ ঘটনায় আন্দোলনকারী আশরাফুল ফাহিমের বাম চোখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই ফাহিম লালবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিপ্লব বড়ুয়া, ওবায়দুল কাদের এবং আসাদুজ্জামান খান কামালের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে। এ মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

স্বামী বিদেশে থাকতেই অন্তঃসত্ত্বা, পরে গোপন গর্ভপাতের অভিযোগ চিকিৎসা প্রতিবেদনে ‘অসম্পূর্ণ গর্ভপাত’, এফিডেভিটের পর ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

প্রকাশের সময় : ০৪:২৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের অভিযোগের মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড আবেদন নাকচ ও জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার এ আদেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান। এর আগে, তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন।

ডিবির আবেদনে বলা হয়, মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত, গ্রেফতার এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের স্বার্থে আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া জরুরি। তবে শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ সড়কের একটি বাসা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে লালবাগ থানার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রথমে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

রিমান্ড আবেদনে ডিবি আরও জানায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিল। এ সময় আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ করে।

এ ঘটনায় আন্দোলনকারী আশরাফুল ফাহিমের বাম চোখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই ফাহিম লালবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিপ্লব বড়ুয়া, ওবায়দুল কাদের এবং আসাদুজ্জামান খান কামালের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে। এ মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।