
রাজশাহীর বাগমারায় দুই দশক আগের আলোচিত মনোয়ার হোসেন বাবু হত্যা মামলায় অভিযুক্ত জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ ৪৪ জন আসামির সবাইকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. শামসুল আল-আমীন জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় প্রদান করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল ‘সর্বহারা নিধন’ অভিযানের নামে মনোয়ার হোসেন বাবুকে মাঠ থেকে ধরে নিয়ে পলাশি গ্রামে প্রকাশ্যে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মহসিন আলী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে পুলিশ ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
এ মামলায় হুইপ দুলু ছাড়াও আসামী তালিকায় ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আমিনুল হক এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাদিম মোস্তফা। এছাড়া জেএমবি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সংগঠনটির তৎকালীন সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে কিলার মোস্তাকসহ কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার মোট ৫০ জন আসামির মধ্যে বিচার চলাকালীন ৬ জন মারা যান। অবশিষ্ট ৪৪ জনের মধ্যে ১২ জন পলাতক এবং ৩২ জন নিয়মিত হাজিরা দিয়ে আসছিলেন। রায় ঘোষণার সময় ৩০ জন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও হুইপ দুলুসহ দুইজন অনুপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রইসুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলেও কেউই আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি। সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে আদালত আজ এই খালাসের রায় প্রদান করেন। বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা এই রায়কে ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা ‘বাংলা ভাই জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে এলাকা ত্যাগ করেছিল বলে অভিযোগ ছিল, যা তৎকালীন সময়ে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। দীর্ঘ ২২ বছর পর এই রায়ের মাধ্যমে আলোচিত এই মামলার আইনি প্রক্রিয়ার অবসান ঘটলো।
রাজশাহী প্রতিনিধি 








