
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জ্বালানি তেল কালোবাজারে বিক্রি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এক ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার রাতে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের আল্লারদর্গার রফিক ফিলিং স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে আপাং মন্ডল (৬৫), রানা (২৩), হেলাল (৬০), আমিনুদ্দিন (৭০), রাজা (৩০), রত্না খাতুন (৩০) ও শিউলী খাতুন (৩৫) এর নাম জানা গেছে। তাঁদের কুষ্টিয়া ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রফিক ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ দিনের বেলা তেল সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এরপর রাতের অন্ধকারে প্রভাবশালী একটি চক্রের যোগসাজশে অতিরিক্ত দামে কালোবাজারে তেল বিক্রি করা হয়। ঘটনার রাতে তেল বণ্টন নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, ফিলিং স্টেশনটি প্রশাসনের নিয়ম তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চালিয়ে আসছে। সাধারণ মানুষকে তেল না দিয়ে রাতের বেলায় গোপনে মজুদ খালি করা হয়। এ সময় বাধা দিলে বা প্রতিবাদ করলে গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, রাতের অন্ধকারে তেল চুরির সময় সংঘর্ষের খবর তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি 








