ঢাকা ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন আবু সাঈদের বাবা

  • বেঙ্গল নিউজ ডেক্স
  • প্রকাশের সময় : ০৪:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৪৫ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তার বাবা মকবুল হোসেন বলেছেন, ‘বিচারে মাত্র দুইজনের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। আরও অনেক অপরাধীদের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। তো অনেক আসামি তো ছাড়ে-আড়ে গেছে, যারা অপরাধী। এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট নই। কড়াভাবে সাজা দেওয়া উচিত ছিল।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরে আবু সাঈদের কবরের পাশে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।মকবুল হোসেন বলেন, ‘মাত্র দুজন আসামিকে ফাঁসি দিয়ে মূল দোষী ও হত্যার নেপথ্যে পরিকল্পনাকারী এবং নির্দেশ দাতাদের সামান্য শাস্তি দেয়া হয়েছে। আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি পোমেল বড়ুয়া আবু সাঈদের সাথে সবচেয়ে বেশি খারাপ আচরণ করেছে এবং হত্যার পেছনে জড়িত। তাকে মাত্র ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন সাবেক সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন ও উপপরিদর্শক (এসআই) বিভূতি ভূষণ রায়।

বাকি সাজা প্রাপ্তদের মধ্যে বেরোবির শিক্ষক মশিউর রহমান ও শিক্ষক আসাদুজ্জামান মন্ডল, বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদ ও রংপুরের মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামানের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ডা. সারোয়াত হোসেন, রংপুরের মহানগর পুলিশের সাবেক এডিসি আবু মারুফ হোসেন, রংপুরের মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ও বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বেরোবি ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, সহসভাপতি ফজলে রাব্বী, সহসভাপতি আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ও দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন আবু সাঈদের বাবা

প্রকাশের সময় : ০৪:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তার বাবা মকবুল হোসেন বলেছেন, ‘বিচারে মাত্র দুইজনের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। আরও অনেক অপরাধীদের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। তো অনেক আসামি তো ছাড়ে-আড়ে গেছে, যারা অপরাধী। এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট নই। কড়াভাবে সাজা দেওয়া উচিত ছিল।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরে আবু সাঈদের কবরের পাশে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।মকবুল হোসেন বলেন, ‘মাত্র দুজন আসামিকে ফাঁসি দিয়ে মূল দোষী ও হত্যার নেপথ্যে পরিকল্পনাকারী এবং নির্দেশ দাতাদের সামান্য শাস্তি দেয়া হয়েছে। আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি পোমেল বড়ুয়া আবু সাঈদের সাথে সবচেয়ে বেশি খারাপ আচরণ করেছে এবং হত্যার পেছনে জড়িত। তাকে মাত্র ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন সাবেক সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন ও উপপরিদর্শক (এসআই) বিভূতি ভূষণ রায়।

বাকি সাজা প্রাপ্তদের মধ্যে বেরোবির শিক্ষক মশিউর রহমান ও শিক্ষক আসাদুজ্জামান মন্ডল, বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদ ও রংপুরের মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামানের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ডা. সারোয়াত হোসেন, রংপুরের মহানগর পুলিশের সাবেক এডিসি আবু মারুফ হোসেন, রংপুরের মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ও বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বেরোবি ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, সহসভাপতি ফজলে রাব্বী, সহসভাপতি আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ও দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।