ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মঈনসহ গ্রেপ্তার ৭

রাজধানীর শ্যামলীর সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালের চাঁদা দাবির ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। রোববার দিবাগত রাতে নড়াইলের কালিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকেসহ এই মামলায় এ পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. আক্কাস আলী।

গ্রেপ্তার অন্য ৬ জন হলেন-মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. সুমন (৩৬) ও মো. লিটন মিয়া (৩৮)। তারা সবাই প্রধান অভিযুক্ত সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনের সহযোগী। মো. স্বপন কাজী (৩৬) ও মো. শাওন হোসেন (২৫)।

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত ৭-৮ জনের নামে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ওই প্রতিষ্ঠানের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ। গত ১১ এপ্রিল ইনচার্জ আবু হানিফ বাদী হয়ে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে মামলার বাদী উল্লেখ করেছেন, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছেন। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে আমার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলেন। আমার স্ত্রী দরজা খুলে দিলে আসামি মঈন আমার স্ত্রীকে বলেন যে, চাঁদা বাবদ এখনই তাদেরকে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে।

টাকা না দিলে আমাকেসহ আমার স্ত্রীর ক্ষতিসাধন করার হুমকি দেন। আমার স্ত্রী আসামিদের দাবি করা চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করাসহ চিল্লাচিল্লি শুরু করেন। এ সময় আমি আসামিদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করি এবং পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে হাসপাতালে অবস্থানরত আমার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) দ্রুত বাসায় আসার জন্য ফোন করি।

পরবর্তীতে আমার ভাই বাসায় পৌঁছালে মঈনসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন আসামি ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে। এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে হুমকি সূচক স্লোগান দিতে থাকেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজধানীর সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মঈনসহ গ্রেপ্তার ৭

প্রকাশের সময় : ০৪:০৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর শ্যামলীর সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালের চাঁদা দাবির ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। রোববার দিবাগত রাতে নড়াইলের কালিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকেসহ এই মামলায় এ পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. আক্কাস আলী।

গ্রেপ্তার অন্য ৬ জন হলেন-মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. সুমন (৩৬) ও মো. লিটন মিয়া (৩৮)। তারা সবাই প্রধান অভিযুক্ত সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনের সহযোগী। মো. স্বপন কাজী (৩৬) ও মো. শাওন হোসেন (২৫)।

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত ৭-৮ জনের নামে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ওই প্রতিষ্ঠানের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ। গত ১১ এপ্রিল ইনচার্জ আবু হানিফ বাদী হয়ে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে মামলার বাদী উল্লেখ করেছেন, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে আসছেন। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে আমার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলেন। আমার স্ত্রী দরজা খুলে দিলে আসামি মঈন আমার স্ত্রীকে বলেন যে, চাঁদা বাবদ এখনই তাদেরকে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে।

টাকা না দিলে আমাকেসহ আমার স্ত্রীর ক্ষতিসাধন করার হুমকি দেন। আমার স্ত্রী আসামিদের দাবি করা চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করাসহ চিল্লাচিল্লি শুরু করেন। এ সময় আমি আসামিদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করি এবং পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে হাসপাতালে অবস্থানরত আমার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) দ্রুত বাসায় আসার জন্য ফোন করি।

পরবর্তীতে আমার ভাই বাসায় পৌঁছালে মঈনসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন আসামি ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে। এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে হুমকি সূচক স্লোগান দিতে থাকেন।