
ছবি সংগৃহীতঃ
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক তালিকাভুক্ত না হলেও অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিগ্রস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত নন এমন ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন শ্রেণিভেদে বৈষম্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, “আমার ২৫ কাঠা জমির ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। আমি খেতে কাচি ধরতে পর্যন্ত পারিনি। অথচ আমার নাম সহায়তার তালিকায় আসেনি। কিন্তু যাদের কোনো ক্ষতি হয়নি, তাদের অনেকের নাম রয়েছে। মাননীয় ইউএনও মহোদয় ও এমপি মহোদয়ের কাছে জানতে চাই, এমন বৈষম্য কেন হলো?” স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত কৃষকদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৬ হাজার টাকা ও ৬০ কেজি চাল। অন্যদিকে ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণির কৃষকদের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার টাকা ও ২০ কেজি চাল। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষককে ‘ক’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত না করে কম সুবিধাপ্রাপ্ত তালিকায় রাখা হয়েছে, আবার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠজনদের অধিক সুবিধাপ্রাপ্ত তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। এদিকে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক ও কান্দিউড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম হাবিব এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ১০ নম্বর কান্দিউড়া ইউনিয়নের বেজগাতী গ্রামের অনেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক প্রত্যাশিত সহায়তা পাননি।
তার অভিযোগ, একই এলাকার সাধারণ কৃষকদের মধ্যে কম পরিমাণ সহায়তা বিতরণ করা হলেও কিছু প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের ‘ক’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে ৬ হাজার টাকা ও ৬০ কেজি চালের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, “প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে যদি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশে তালিকা করা হয়ে থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রাপ্য ৬ হাজার টাকা ও ৬০ কেজি চাল নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাতুল ইসলাম বলেন, “কেন্দুয়া উপজেলায় মোট ৮ হাজার ৯৩৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বরাদ্দ এসেছে ৪ হাজার ৯৩৯ জন কৃষকের জন্য। ফলে প্রায় ৪ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সহায়তার বাইরে থেকে গেছেন। কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও সহায়তা পেয়ে থাকলে বা তালিকা প্রণয়ন ও বণ্টনে অনিয়ম হয়ে থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সহায়তা বণ্টনের পুরো প্রক্রিয়া পুনঃযাচাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দুর্যোগের সময় রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্রই সহায়তা পাওয়ার একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত।
শাহ আলী তৌফিক রিপন, ষ্টাপ রিপোর্টার 










