ঢাকা ০৪:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোণায় এনপি নেতাদের ইউএনওর পরামর্শ—আওয়ামীলীগ ধরে ধরে আমাদের বলবেন’

ছবি সংগৃহীতঃ

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলামের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘ধরবেন, ধরে ধরে আমাদের বলবেন।’ এ বক্তব্যকে ঘিরে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা।

জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে পূর্বধলা উপজেলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে পুলিশ।

এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের ভিডিও সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ইউএনও শফিকুল ইসলাম উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে খোশমেজাজে কথা বলছেন। একপর্যায়ে তিনি জানতে চান, ‘মিছিল করে কে?’ জবাবে নেতারা বলেন, ‘ছাত্রলীগ, আমরা প্রতিবাদ মিছিল করেছি।

এরপর ইউএনও বলেন, ‘প্রতিবাদ মিছিল করেন কেন, ধরবেন। ধরে ধরে আমাদের বলবেন।’

জবাবে বিএনপির নেতারা বলেন, ‘আমরা তো ছয়জনকে ধরে দিয়েছি।’ তখন ইউএনওকে বলতে শোনা যায়, ‘মিছিল করে, আপনাদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আছে না, তারা কী করে?’

ভিডিওতে উপস্থিতদের মধ্যে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির, আনোয়ারুল হক আনার, সেলিম উদ্দিন, সাঈদ আল মামুন ফকির, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল হায়াত খান বাদশা, বিকাশ ঘোষ এবং জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আব্দুর রহিমসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে দেখা যায়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ওই দিন গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা তাঁর কার্যালয়ে এসেছিলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন মন্তব্য করেছেন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রমের জন্য নেতা-কর্মীরা আমার কার্যালয়ে এসেছিলেন। এ সময় কথায় কথায় এমনটা বলা হয়েছে। ইচ্ছে করে এমনটা বলা হয়নি। অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়তো এমন কথা চলে এসেছে। ওই সময় আরও অনেক কথা বলা হয়েছে। বক্তব্যের পুরোটা শুনলে বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যেত।’

ভিডিওতে শুধু বিএনপির নেতা-কর্মীদের দেখা যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব দলের নেতা-কর্মীদের নিয়েই চারা বিতরণ করা হয়েছে। তবে অন্য দলের নেতা-কর্মীরা একটু পরে এসেছিলেন। তাই তাঁদের ওই ভিডিওতে দেখা যায়নি।’

এ বিষয়ে নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের আইন হাতে তুলে নিতে বলতে পারেন না। তিনি প্রশাসন বা পুলিশকে বলতে পারেন। এভাবে মব সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিষয়টি নিয়ে আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

নেত্রকোণার মদনে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবাধে নকলের অভিযোগ:

নেত্রকোণায় এনপি নেতাদের ইউএনওর পরামর্শ—আওয়ামীলীগ ধরে ধরে আমাদের বলবেন’

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৭:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ছবি সংগৃহীতঃ

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলামের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘ধরবেন, ধরে ধরে আমাদের বলবেন।’ এ বক্তব্যকে ঘিরে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা।

জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে পূর্বধলা উপজেলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে পুলিশ।

এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের ভিডিও সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ইউএনও শফিকুল ইসলাম উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে খোশমেজাজে কথা বলছেন। একপর্যায়ে তিনি জানতে চান, ‘মিছিল করে কে?’ জবাবে নেতারা বলেন, ‘ছাত্রলীগ, আমরা প্রতিবাদ মিছিল করেছি।

এরপর ইউএনও বলেন, ‘প্রতিবাদ মিছিল করেন কেন, ধরবেন। ধরে ধরে আমাদের বলবেন।’

জবাবে বিএনপির নেতারা বলেন, ‘আমরা তো ছয়জনকে ধরে দিয়েছি।’ তখন ইউএনওকে বলতে শোনা যায়, ‘মিছিল করে, আপনাদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আছে না, তারা কী করে?’

ভিডিওতে উপস্থিতদের মধ্যে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির, আনোয়ারুল হক আনার, সেলিম উদ্দিন, সাঈদ আল মামুন ফকির, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল হায়াত খান বাদশা, বিকাশ ঘোষ এবং জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আব্দুর রহিমসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে দেখা যায়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ওই দিন গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা তাঁর কার্যালয়ে এসেছিলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন মন্তব্য করেছেন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রমের জন্য নেতা-কর্মীরা আমার কার্যালয়ে এসেছিলেন। এ সময় কথায় কথায় এমনটা বলা হয়েছে। ইচ্ছে করে এমনটা বলা হয়নি। অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়তো এমন কথা চলে এসেছে। ওই সময় আরও অনেক কথা বলা হয়েছে। বক্তব্যের পুরোটা শুনলে বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যেত।’

ভিডিওতে শুধু বিএনপির নেতা-কর্মীদের দেখা যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব দলের নেতা-কর্মীদের নিয়েই চারা বিতরণ করা হয়েছে। তবে অন্য দলের নেতা-কর্মীরা একটু পরে এসেছিলেন। তাই তাঁদের ওই ভিডিওতে দেখা যায়নি।’

এ বিষয়ে নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের আইন হাতে তুলে নিতে বলতে পারেন না। তিনি প্রশাসন বা পুলিশকে বলতে পারেন। এভাবে মব সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিষয়টি নিয়ে আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলব।