
প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের তালিকা তৈরি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহ ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সচিব রনি ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
মূল ঘটনা ও অভিযোগ: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় গড়াডোবা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে যায় এবং শত শত কৃষক চরম ক্ষতিগ্রস্ত হন। সরকারি ও বেসরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার জন্য একটি তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, গড়াডোবা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহ এবং ইউপি সচিব রনি যোগসাজশ করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রান্তিক কৃষকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। পরিবর্তে, যারা তাদের দাবি করা নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে পেরেছেন, কেবল তাদের নামই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি অনেক অকৃষক ও সচ্ছল ব্যক্তির নামও টাকার বিনিময়ে তালিকায় ঢোকানো হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। যুবদলের আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহকে প্রতিকার্ডে ২ হাজার টাকা করে দিতে হবে বলে সচিব রনি উল্লেখ করেন। আরও একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়নের একজন বাসীন্দা ফেইজবুক লাইভে এসে গড়াডোবা ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা কে কি ধরণের দুর্নীতি করেছে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের ক্ষোভ: ইউনিয়নের ৩৬ টি গ্রামেরই বেশকিছু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানান: বন্যায় আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। সরকার থেকে সাহায্য আসবে শুনে আশার আলো দেখেছিলাম। কিন্তু খালিদ সাইফুল্লাহ ও সচিব রনিকে টাকা দিতে না পারায় আমাদের নাম তালিকায় ওঠেনি। যাদের কোনো ক্ষতি হয়নি, তারা টাকা দিয়ে তালিকায় নাম লিখিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েপড়া সচিব রনির সাথে একজনের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় নাম রাখতে সচিব রনি ২ হাজার পাঁচশত টাকার দর কষাকষি করছেন। এবং প্রতিকার্ডে ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহকে ২ হাজার টাকা করে দিতে হবে বলে উল্লেখ আছে। খালিদ সাইফুল্লাহর বিরুদ্বে কিছু বল্লেই তিনি এমপি সাহের ভয় দেখান। এমপি সাহেবের একজন কাছের লোক হিসেবে তিনি পরিচয় দিয়ে অপকর্ম করে এমপি সাহেবের মান ক্ষুন্ন করছেন বলেও সওচতন মহল মনে করেন।
অভিযুক্তদের বক্তব্য: অভিযোগের বিষয়ে জানতে গড়াডোবা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক খালিদ সাইফুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিএনপির কিছু নেতা আওয়ামীলীগের সাথে যোগসাজস করে আমার নামে অপবাদ দিচ্ছে।
গড়াডোবা ইউপি সচিব রনি জানান, বিধি মোতাবেকই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, এখানে কোনো আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, পুনর্বাসনের তালিকায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যাতে সরকারি সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করতে তালিকাটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হতে পারে।
বেঙ্গল নিউজ ডেক্সঃ 










