
ছবি সংগৃহীতঃ
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় নিজের সাত বছর বয়সী শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে সাইদুল ইসলাম (৫৫) নামের এক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কেন্দুয়া থানা পুলিশ। গত শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কেন্দুয়া পৌর শহর থেকে তাকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সাইদুল ইসলাম উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের ছিলিমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল ভূঞা ছোবহানের ছেলে। তিনি বর্তমানে কেন্দুয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বাসায় সপরিবারে থাকতেন। ব্যক্তিগত জীবনে দুই সংসারের ১০ সন্তানের জনক তিনি।মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে শিশুটির মা স্থানীয় মুদি দোকানে কয়েল ও ছোট সন্তানের জন্য বিস্কুট আনতে যান। অভিযোগ উঠেছে, এই সুযোগে ঘরে থাকা সাত বছরের শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান তার জন্মদাতা পিতা সাইদুল ইসলাম।
ঘটনার রাতে ভয়ে শিশুটি কিছু না বললেও, পরদিন ১২ জুন বাবা বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর সে বিষয়টি তার মাকে জানায়।পরবর্তীতে ১২ জুন দিবাগত রাত ১২টার পর (১৩ জুন) শিশুটির মা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার প্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা ও কেন্দুয়া থানার সেকেন্ড অফিসার মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী মাকসুদ জানান, ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের এজাহারের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাইদুল ইসলামের গ্রেফতারের পর তার নিজ গ্রাম ছিলিমপুর ও কর্মক্ষেত্র চিরাং ইউনিয়নে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজকর্মীদের একাংশের দাবি সাইদুল ইসলাম অত্যন্ত সহজ-সরল ও সৎ মানুষ। তিনি কোনো পারিবারিক বা নেপথ্য ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন।
চিরাং ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার বিল্লাল মিয়া বলেন, “সাইদুল মিয়া গ্রাম পুলিশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গ্রামের মানুষের যেকোনো বিপদে-আপদে তিনি সেবা দিয়েছেন। আমাদের বিশ্বাস, তিনি পরিবারের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আজ জেলে আছেন। আমরা গ্রামবাসী তার পাশে আছি।
স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী হলি খান এই ঘটনাটিকে ‘নৃশংস ও জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “সাইদুলকে ছোটবেলা থেকেই সহজ-সরল ও সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত দেখে আসছি। নিজের ৭ বছরের কন্যার সাথে তার মতো লোক এমন জঘন্য অপরাধ করতে পারে কিনা, তা নিয়ে জনমনে অনেক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের উচিত এর সুষ্ঠু তদন্ত করা।
ছিলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসেম খান, আবুল হাসেম, মো. হিরামন খান এবং মোহাম্মদ শামীম ভুঁইয়াসহ এলাকার যুবসমাজ ও মুরুব্বীরা সাইদুলের পক্ষে একতাবদ্ধ হয়েছেন। তাদের দাবি, সাইদুলের স্ত্রী চক্রান্ত করে এই মিথ্যা মামলা সাজিয়েছেন। সত্য উদঘাটনে প্রয়োজনে তারা রাজপথে নামা এবং আইনি লড়াইয়ে অর্থ তহবিল গঠনেরও ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় ছাত্রদল নেতা ফয়সাল খানও গ্রামবাসীকে সত্য-মিথ্যা যাচাই করে এই অপবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন এক মোড় নিয়েছে। গোপন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ভুক্তভোগী শিশুটির একটি ভিডিও বক্তব্য বা স্টেটমেন্ট রয়েছে, যেখানে শিশুটি স্বীকার করেছে যে তাকে মারধর করে এই ‘মিথ্যা’ কথাটি বলাতে বাধ্য করা হয়েছে।একটি অবোধ শিশুর ওপর নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর অভিযোগ যেমন হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই, ঠিক তেমনি একজন সরকারি কর্মচারী ও ১০ সন্তানের জনকের বিরুদ্ধে আনা এই গুরুতর অভিযোগের পেছনে কোনো পারিবারিক কোন্দল বা গভীর চক্রান্ত রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। প্রকৃত অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি কোনো নিরীহ মানুষ যেন চক্রান্তের বলী না হয়, সেজন্য প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কেন্দুয়াবাসী।
শাহ আলী তৌফিক রিপন, ষ্টাপ রিপোর্টারঃ 










