ঢাকা ০৪:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তদন্ত শেষ হলেও ব্যবস্থা নিতে নেত্রকোণা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার গড়িমশি!

 ​ নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার জহরবানু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও সরাসরি রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার গড়িমশির অভিযোগ উঠেছে।

​জানা গেছে, গত দুই মাস আগে উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের ডুমদী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা বিপ্লব, নেত্রকোণা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল আজম বরাবর শিক্ষক হালিমের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই সাথে বিষয়টি সদয় অবগতির জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা), কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবতেও অনুলিপি প্রদান করা হয়।

​অভিযোগে যা বলা হয়েছে ​লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক আব্দুল হালিম গড়াডোবা ইউনিয়নের আঙ্গারোয়া রামপুর এলাকার জহরবানু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক। তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সার্বক্ষণিক সময় কাটাতেন এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করতেন।

বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না হয়ে, হঠাৎ একদিন গিয়ে বাকি দিনগুলোর হাজিরা খাতায় একসাথে স্বাক্ষর করতেন। ​বিগত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পটপরিবর্তন হলে তিনি খোলস বদলে সরাসরি বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। বর্তমানে তিনি গড়াডোবা ইউনিয়ন বিএনপি কমিটির ১৯ নং ক্রমিকে ‘ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে পদায়িত রয়েছেন, যা সরকারি চাকরি বিধিমালার চরম পরিপন্থী।

​সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও ফৌজদারি মামলা ​অভিযোগে আরও জানা যায়, গড়াডোবা ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুখময় সরকারের সাথে দুইজন সাংবাদিক মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে যান। সে সময় শিক্ষক হালিম এলাকার কিছু সন্ত্রাসী ও গুন্ডাবাহিনী নিয়ে একটি ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং সাংবাদিকদের মারধর করেন।

​এই ঘটনাটি পরবর্তীতে ফৌজদারি মামলায় রূপ নেয়। মামলাটি নেত্রকোণা পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) তদন্ত করে সত্যতা পায় এবং শিক্ষক হালিমসহ ১৯ জনকে দায়ী করে নেত্রকোণা আমলি আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। এই মামলায় শিক্ষক হালিম বর্তমানে ৮ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।

​তদন্ত শেষ হলেও ব্যবস্থা নেই ​শিক্ষক হালিমের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল আজম জেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাহবুব জামানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি সরজমিনে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে গত এক মাস পূর্বেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। কিন্তু প্রতিবেদন জমা হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো বিভাগীয় বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

​সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ​এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল আজম মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে বলেন: ​”তদন্ত শেষ হয়েছে, এখন দেখি কী করা যায়।” ​এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগকারী বিপ্লব বলেন: ​”একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এতো অনিয়ম, দুর্নীতি ও ফৌজদারি মামলার প্রমাণ থাকার পরও কোনো সুফল আশা করা যাচ্ছে না।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তা না হলে সমস্ত প্রমাণ ও তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পরও তিনি কেন ব্যবস্থা গ্রহণে গড়িমশি করছেন?” ​স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একজন শিক্ষকের এমন রাজনৈতিক প্রভাব ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

নেত্রকোণার মদনে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবাধে নকলের অভিযোগ:

তদন্ত শেষ হলেও ব্যবস্থা নিতে নেত্রকোণা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার গড়িমশি!

প্রকাশের সময় : ০১:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

 ​ নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার জহরবানু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও সরাসরি রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার গড়িমশির অভিযোগ উঠেছে।

​জানা গেছে, গত দুই মাস আগে উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের ডুমদী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা বিপ্লব, নেত্রকোণা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল আজম বরাবর শিক্ষক হালিমের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই সাথে বিষয়টি সদয় অবগতির জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা), কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবতেও অনুলিপি প্রদান করা হয়।

​অভিযোগে যা বলা হয়েছে ​লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক আব্দুল হালিম গড়াডোবা ইউনিয়নের আঙ্গারোয়া রামপুর এলাকার জহরবানু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক। তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সার্বক্ষণিক সময় কাটাতেন এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করতেন।

বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না হয়ে, হঠাৎ একদিন গিয়ে বাকি দিনগুলোর হাজিরা খাতায় একসাথে স্বাক্ষর করতেন। ​বিগত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পটপরিবর্তন হলে তিনি খোলস বদলে সরাসরি বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। বর্তমানে তিনি গড়াডোবা ইউনিয়ন বিএনপি কমিটির ১৯ নং ক্রমিকে ‘ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে পদায়িত রয়েছেন, যা সরকারি চাকরি বিধিমালার চরম পরিপন্থী।

​সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও ফৌজদারি মামলা ​অভিযোগে আরও জানা যায়, গড়াডোবা ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুখময় সরকারের সাথে দুইজন সাংবাদিক মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে যান। সে সময় শিক্ষক হালিম এলাকার কিছু সন্ত্রাসী ও গুন্ডাবাহিনী নিয়ে একটি ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং সাংবাদিকদের মারধর করেন।

​এই ঘটনাটি পরবর্তীতে ফৌজদারি মামলায় রূপ নেয়। মামলাটি নেত্রকোণা পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) তদন্ত করে সত্যতা পায় এবং শিক্ষক হালিমসহ ১৯ জনকে দায়ী করে নেত্রকোণা আমলি আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। এই মামলায় শিক্ষক হালিম বর্তমানে ৮ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।

​তদন্ত শেষ হলেও ব্যবস্থা নেই ​শিক্ষক হালিমের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল আজম জেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাহবুব জামানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি সরজমিনে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে গত এক মাস পূর্বেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। কিন্তু প্রতিবেদন জমা হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো বিভাগীয় বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

​সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ​এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল আজম মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে বলেন: ​”তদন্ত শেষ হয়েছে, এখন দেখি কী করা যায়।” ​এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগকারী বিপ্লব বলেন: ​”একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এতো অনিয়ম, দুর্নীতি ও ফৌজদারি মামলার প্রমাণ থাকার পরও কোনো সুফল আশা করা যাচ্ছে না।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তা না হলে সমস্ত প্রমাণ ও তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পরও তিনি কেন ব্যবস্থা গ্রহণে গড়িমশি করছেন?” ​স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একজন শিক্ষকের এমন রাজনৈতিক প্রভাব ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।