
মানুষের চরিত্র বড় বিচিত্র। কেউ নিজের যোগ্যতায় আলো ছড়ান, কেউ আবার অন্যের আলো ধার করে নিজেকে জ্যোতির্ময় প্রমাণে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
এই দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষদেরই বলা চলে “কাকের পুচ্ছে ময়ূর পালক” শ্রেণির মানুষ—যাদের চোখে আড়ম্বরই আসল, সততা সেখানে নিছক অলঙ্কারহীন শব্দমাত্র।
আজকের সমাজে এমন কাকেরা আশ্চর্য দ্রুততায় ময়ূর পালক জোটাচ্ছে। কারও কণ্ঠে নেই শিল্প, তবুও ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব’; কারও কলমে নেই সততা, তবুও ‘জনপ্রিয় সাংবাদিক’; কারও নেই এক চিলতে দেশপ্রেম, তবুও বুক ফুলিয়ে ‘জননেতা।
কেউ আবার অচেনা কোনো গাছের ছায়াতলে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখে ফেলছেন—“আমার স্বপ্নের বন।” এই কৃত্রিম সম্মান অর্জনের প্রতিযোগিতা যেন এক মহামারি।
একেকজন মনে করেন, যদি বাহ্যিক রূপ ঝলমলে হয়, ভেতরের শূন্যতা কেউ টের পাবে না। অথচ বাস্তবতা হলো।সময়ের বাতাসেই মুখোশ উড়ে যায়, উন্মোচিত হয় নগ্ন সত্য। অহংকারে ফুলে ওঠা এই ‘ময়ূর-কাকেরা’ নিজেদের সাজান এমন সব ভাষণে, এমনসব ছবিতে, যেন সমাজ তাদের ছাড়া ধ্বংস হয়ে যেত! অথচ তাদের কণ্ঠে নেই কোনো সুর, কাজে নেই কোনো দায়বোধ, হৃদয়ে নেই মানবতার স্পর্শ।
তবুও তারা হাঁটে এমন ভঙ্গিতে যেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব উৎস তাদের মাথায় স্থাপিত। তারা ভুলে যায়—সত্যিকারের মহত্ব কখনো ধার করা যায় না।
সেটি অর্জন করতে হয় সততা, পরিশ্রম ও বিনয়ের মধ্য দিয়ে। একজন নিঃস্ব কৃষক যখন নিজের ঘামে ভিজে থাকা মাটির ফসল হাতে হাসেন, তখন তিনি আসল ময়ূর—কারণ তাঁর পালক সত্যের রঙে রঞ্জিত। আর যিনি অন্যের কৃতিত্বকে নিজের বলে জাহির করেন, তিনি কেবল কালো কাক।যার পালক যতই ঝলমলে দেখাক, প্রকৃতি তাকে কখনো ময়ূর মানে না।
আজ সমাজে ভণ্ডামির দাম যেন সততার চেয়ে বেশি। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম সত্য হলো।ভণ্ডের পালক একদিন ছিঁড়ে পড়ে, আর সত্যের ডানাই টিকে থাকে চিরকাল। তাই আসুন, ময়ূরের পালক নয়।নিজের পালকেই গর্ব করি। কারণ প্রকৃত সৌন্দর্য কৃত্রিমতায় নয়, সততায়।
শহ আলী তৌীফক রিপন, ষ্টাপ রির্পোটার 








