ঢাকা ০১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তিতে অনিয়মের অভিযোগ

ছবি সংগৃহিত

মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তিতে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একাধিক শিক্ষার্থীর মিউচুয়াল ট্রান্সফার এবং ভুয়া প্রত্যয়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মাহমুদ হাসান নামে এক অভিভাবক।

তিনি এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে খোঁজ নিতে গিয়ে তিনটি মিউচুয়াল ট্রান্সফার ভর্তিতে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ।

তিনি বলেন, এ ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে আরও কয়জন ভর্তি হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে তিনি অত্র বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রাখাল চন্দ্র করকে প্রধান করে, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আজিজুল হক ও সহকারী শিক্ষক মোঃ নুরুজ্জামানকে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আজ রবিবার (২৬ অক্টোবর) তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ সূত্র ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য মতে জানা যায়, ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুজ্জামান ইদ্রিসি অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে একাধিক শিক্ষার্থীকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ করে দেন।

ষষ্ঠ শ্রেণির মর্নিং শিফটের কর্ণফুলি শাখার শিক্ষার্থী সৃজন ঘোষের বিপরীতে ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ সরকারি পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাসরুর বিন জামানকে মিউচুয়াল ট্রান্সফার করা হয়।

অথচ সৃজন ঘোষ পাইলট স্কুলে ভর্তি হলেও বছরের শুরু থেকে নেত্রকোনার আঞ্জুমান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করছেন। সৃজন ঘোষের এই শূন্য আসনে ভূয়া প্রত্যয়ন তৈরি করে মাসরুর বিন জামানকে পাইলট স্কুলে ভর্তি করা হয়।

একইভাবে মওদুদ আহমেদ মাহিন নামের আরেক শিক্ষার্থীকে আরাফ ঢালী নামক শিক্ষার্থীর শূন্য স্থানে ভর্তি করা হয়। আরাফ ঢালী বর্তমানে নেত্রকোনা কালেক্টরেট স্কুলে অধ্যয়নরত।

মাহমুদ হাসান চৌধুরী অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ে মাহফুজা হাসান বানিয়াজান উচ্চ বিদ্যালয়ে ওয়েটিং লিস্টে ১৪৮তম থাকা সত্ত্বেও তাকে সুযোগ না দিয়ে ১৫০তম অবস্থানে থাকা ফারহান সিদ্দিকীকে অনিয়ম করে ভর্তি করিয়ে মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মিউচুয়াল ট্রান্সফার করা হয়।

পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির যমুনা শাখার শ্রেণি শিক্ষক আলতাব হোসেন লাবিব জানান, মিউচুয়াল ট্রান্সফারের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ভালো বলতে পারবেন এবং এই সময়ে কেউ কোনো দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন কিনা তা তাঁর জানা নেই।

সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রফিকুজ্জামান ইদ্রিসি অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যথাযথ নিয়ম মেনে মিউচুয়াল ট্রান্সফারগুলো করা হয়েছে, এক্ষেত্রে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

তদন্ত কমিটির প্রধান রাখাল চন্দ্র কর জানান, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। তদন্তের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে কেউ যদি এমন কাজ করে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই ঘৃণিত এবং স্কুলের দীর্ঘদিনের সুনাম নষ্ট করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

স্বামী বিদেশে থাকতেই অন্তঃসত্ত্বা, পরে গোপন গর্ভপাতের অভিযোগ চিকিৎসা প্রতিবেদনে ‘অসম্পূর্ণ গর্ভপাত’, এফিডেভিটের পর ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য

মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তিতে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ১২:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

ছবি সংগৃহিত

মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তিতে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একাধিক শিক্ষার্থীর মিউচুয়াল ট্রান্সফার এবং ভুয়া প্রত্যয়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন মাহমুদ হাসান নামে এক অভিভাবক।

তিনি এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে খোঁজ নিতে গিয়ে তিনটি মিউচুয়াল ট্রান্সফার ভর্তিতে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ।

তিনি বলেন, এ ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে আরও কয়জন ভর্তি হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে তিনি অত্র বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রাখাল চন্দ্র করকে প্রধান করে, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আজিজুল হক ও সহকারী শিক্ষক মোঃ নুরুজ্জামানকে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আজ রবিবার (২৬ অক্টোবর) তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ সূত্র ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য মতে জানা যায়, ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুজ্জামান ইদ্রিসি অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে একাধিক শিক্ষার্থীকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ করে দেন।

ষষ্ঠ শ্রেণির মর্নিং শিফটের কর্ণফুলি শাখার শিক্ষার্থী সৃজন ঘোষের বিপরীতে ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ সরকারি পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাসরুর বিন জামানকে মিউচুয়াল ট্রান্সফার করা হয়।

অথচ সৃজন ঘোষ পাইলট স্কুলে ভর্তি হলেও বছরের শুরু থেকে নেত্রকোনার আঞ্জুমান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করছেন। সৃজন ঘোষের এই শূন্য আসনে ভূয়া প্রত্যয়ন তৈরি করে মাসরুর বিন জামানকে পাইলট স্কুলে ভর্তি করা হয়।

একইভাবে মওদুদ আহমেদ মাহিন নামের আরেক শিক্ষার্থীকে আরাফ ঢালী নামক শিক্ষার্থীর শূন্য স্থানে ভর্তি করা হয়। আরাফ ঢালী বর্তমানে নেত্রকোনা কালেক্টরেট স্কুলে অধ্যয়নরত।

মাহমুদ হাসান চৌধুরী অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ে মাহফুজা হাসান বানিয়াজান উচ্চ বিদ্যালয়ে ওয়েটিং লিস্টে ১৪৮তম থাকা সত্ত্বেও তাকে সুযোগ না দিয়ে ১৫০তম অবস্থানে থাকা ফারহান সিদ্দিকীকে অনিয়ম করে ভর্তি করিয়ে মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মিউচুয়াল ট্রান্সফার করা হয়।

পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির যমুনা শাখার শ্রেণি শিক্ষক আলতাব হোসেন লাবিব জানান, মিউচুয়াল ট্রান্সফারের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ভালো বলতে পারবেন এবং এই সময়ে কেউ কোনো দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন কিনা তা তাঁর জানা নেই।

সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রফিকুজ্জামান ইদ্রিসি অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যথাযথ নিয়ম মেনে মিউচুয়াল ট্রান্সফারগুলো করা হয়েছে, এক্ষেত্রে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

তদন্ত কমিটির প্রধান রাখাল চন্দ্র কর জানান, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। তদন্তের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তবে কেউ যদি এমন কাজ করে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই ঘৃণিত এবং স্কুলের দীর্ঘদিনের সুনাম নষ্ট করবে।