ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক সপ্তাহের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছাতে বলল সরকার

ছবি সংগৃহিত

গণভোটসহ অন্যান্য অনৈক্যের বিষয়ে নিজেরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে সরকারকে জানানোর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। দলগুলো সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হলে সরকার নিজের মতো ব্যবস্থা নেবে। আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়গুলো তুলে ধরেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল বলেন, আজ উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভা হয়। সভায় সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য, বহু বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জানানো হয়। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত জুলাই জাতীয় সনদ, সংবিধান সংস্কার আদেশ চূড়ান্তকরণ এবং এতে উল্লিখিত গণভোট আয়োজন ও গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তিনি  বলেন, সভায় লক্ষ্য করা হয় যে, ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘদিন আলোচনার পরও কয়েকটি সংস্কারের সুপারিশ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। এ ছাড়া গণভোট কবে অনুষ্ঠিত হবে, গণভোটের বিষয়বস্তু কী হবে, এসব প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতভেদ দেখা দিয়েছে, সে জন্য সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

আইন উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কালক্ষেপণের যে কোনো সুযোগ নাই, সেটাও আমাদের সবার বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে উনারা ১৫ বছর একসাথে আন্দোলন করেছেন। আমরা উনাদেরকে একটু সময় দিতে চাই। উনারা একটু যেসব বিষয় উল্লেখ করলাম, সেগুলোর বিষয়ে নিজেরা আলোচনা করে একমত হতে পারে নাকি আমরা একটু দেখি।

আজকে কি গণভোটের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত এসেছে? আর সেটা জাতীয় নির্বাচনের আগে বা পরে? এ ধরনের কোনো পরিষ্কার কোনো আলোচনা হয়েছে?

এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজকের মিটিংয়ে যা আলোচনা হয়েছে তা আপনাদের লিখিতভাবে আমি জানিয়েছি। এর বাইরে কিছু বলার কোনো স্কোপ নাই, কোনো প্রয়োজন নাই।

আপনারা যে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছেন দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করবেন, তারা যদি আলোচনায় ব্যর্থ হয়, ঐকমত্যে না পৌঁছাতে পারে, সেক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব কি হবে? গণভোট দিয়ে সরকার কি সিদ্ধান্ত নিবে?

সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে, আমরা কোনো আল্টিমেটাম দেই নাই। আমরা আহ্বান জানিয়েছি। আল্টিমেটাম শব্দটা আমি আপত্তি করছি। আর আমরা অপেক্ষা করবো, তারপর অবশ্যই সরকার সরকারের মতো অ্যাক্ট করবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার আয়োজন করে বহু আলোচনা করেছে। আপনারা সবাই জানেন, বহু আলোচনা করেছে। সরকার আর কোনো আয়োজন করতে যাচ্ছে না। এই রাজনৈতিক দলগুলো যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো আছে, উনারা ১৫ বছর নিজেরা নিজেরা আলোচনা করে বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উনারা অত্যন্ত প্রতিকূল সময়ে একসাথে আন্দোলন করেছেন, একসাথে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। উনারা স্বউদ্যোগে নিজেরা আলোচনা করে আমাদেরকে একটা ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা দিবেন, এই প্রত্যাশা করছি। আমি কালকেই দেখলাম একটি দলের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বানও জানানো হয়েছে। আমরা এটাকে স্বাগত জানাই।

তিনি বলেন, উনারা যদি আলাপ-আলোচনা করেন, এটা আমাদের জন্য কাজটা সহজ হয়। উনারা যদি ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা না দিতে পারেন, অবশ্যই সরকার সরকারের মতো সিদ্ধান্ত নেবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এক সপ্তাহের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছাতে বলল সরকার

প্রকাশের সময় : ০২:১২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

ছবি সংগৃহিত

গণভোটসহ অন্যান্য অনৈক্যের বিষয়ে নিজেরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে সরকারকে জানানোর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। দলগুলো সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হলে সরকার নিজের মতো ব্যবস্থা নেবে। আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়গুলো তুলে ধরেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল বলেন, আজ উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভা হয়। সভায় সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্য স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য, বহু বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জানানো হয়। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত জুলাই জাতীয় সনদ, সংবিধান সংস্কার আদেশ চূড়ান্তকরণ এবং এতে উল্লিখিত গণভোট আয়োজন ও গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তিনি  বলেন, সভায় লক্ষ্য করা হয় যে, ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘদিন আলোচনার পরও কয়েকটি সংস্কারের সুপারিশ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। এ ছাড়া গণভোট কবে অনুষ্ঠিত হবে, গণভোটের বিষয়বস্তু কী হবে, এসব প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতভেদ দেখা দিয়েছে, সে জন্য সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

আইন উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কালক্ষেপণের যে কোনো সুযোগ নাই, সেটাও আমাদের সবার বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে উনারা ১৫ বছর একসাথে আন্দোলন করেছেন। আমরা উনাদেরকে একটু সময় দিতে চাই। উনারা একটু যেসব বিষয় উল্লেখ করলাম, সেগুলোর বিষয়ে নিজেরা আলোচনা করে একমত হতে পারে নাকি আমরা একটু দেখি।

আজকে কি গণভোটের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত এসেছে? আর সেটা জাতীয় নির্বাচনের আগে বা পরে? এ ধরনের কোনো পরিষ্কার কোনো আলোচনা হয়েছে?

এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজকের মিটিংয়ে যা আলোচনা হয়েছে তা আপনাদের লিখিতভাবে আমি জানিয়েছি। এর বাইরে কিছু বলার কোনো স্কোপ নাই, কোনো প্রয়োজন নাই।

আপনারা যে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছেন দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করবেন, তারা যদি আলোচনায় ব্যর্থ হয়, ঐকমত্যে না পৌঁছাতে পারে, সেক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব কি হবে? গণভোট দিয়ে সরকার কি সিদ্ধান্ত নিবে?

সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে, আমরা কোনো আল্টিমেটাম দেই নাই। আমরা আহ্বান জানিয়েছি। আল্টিমেটাম শব্দটা আমি আপত্তি করছি। আর আমরা অপেক্ষা করবো, তারপর অবশ্যই সরকার সরকারের মতো অ্যাক্ট করবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার আয়োজন করে বহু আলোচনা করেছে। আপনারা সবাই জানেন, বহু আলোচনা করেছে। সরকার আর কোনো আয়োজন করতে যাচ্ছে না। এই রাজনৈতিক দলগুলো যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো আছে, উনারা ১৫ বছর নিজেরা নিজেরা আলোচনা করে বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উনারা অত্যন্ত প্রতিকূল সময়ে একসাথে আন্দোলন করেছেন, একসাথে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। উনারা স্বউদ্যোগে নিজেরা আলোচনা করে আমাদেরকে একটা ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা দিবেন, এই প্রত্যাশা করছি। আমি কালকেই দেখলাম একটি দলের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বানও জানানো হয়েছে। আমরা এটাকে স্বাগত জানাই।

তিনি বলেন, উনারা যদি আলাপ-আলোচনা করেন, এটা আমাদের জন্য কাজটা সহজ হয়। উনারা যদি ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা না দিতে পারেন, অবশ্যই সরকার সরকারের মতো সিদ্ধান্ত নেবে।