ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজার অস্তির সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকায় খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা এর জন্য দায়ী করছেন সরবরাহ ঘাটতিকে।

অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পেঁয়াজ মজুত করে রেখেছেন।

তাদের মতে, এ বছর অস্বাভাবিকভাবে আমদানি কম হওয়ায় বাজার অনেকাংশে দেশীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল।

কারওয়ান বাজারের মেসার্স মাতৃ ভাণ্ডারের মালিক সজীব শেখ বলেন, অক্টোবর পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু এরপর থেকে কমতে শুরু করেছে।

কারওয়ান বাজারের আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, কিছু পাইকারি ব্যবসায়ী পেঁয়াজ মজুত করতে শুরু করেছেন। এর ফলে বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আমদানিকারক মোহাম্মদ মাজেদ বলেন, ‘নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসতে আরও প্রায় ছয় সপ্তাহ লাগবে। তার আগ পর্যন্ত সরবরাহে ঘাটতি থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি অনেক দিন ধরেই বন্ধ। এর কারণে দেশি পেঁয়াজের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দাম স্থিতিশীল রাখতে হলে দ্রুত আমদানি শুরু করতে হবে। নাইলে দাম আরও বাড়বে।’

শুক্রবার রাজধানীর শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, ইব্রাহিমপুর, নিউ মার্কেট, হাতিরপুল ও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১১০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইউসুফ সবজিবিতানের মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমরা পেঁয়াজ বিক্রি করেছি কেজিপ্রতি ৮০–৯০ টাকায়। এখন দাম ১১৫–১২০ টাকা। হঠাৎ কেন এত দাম বাড়লো সেটা জানি না। পাইকাররা পরিষ্কারভাবে কিছুই বলতে পারেননি।’

ইব্রাহিমপুরের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি ৮০ টাকায় পেঁয়াজ কিনেছি। আজ দাম ১১০ টাকা। সরবরাহে ঘাটতি থাকলে তো দাম ধীরে ধীরে বাড়ত, হুট করে না।’

তিনি বলেন, ‘দুই কেজি পেঁয়াজ কিনলাম ৬০ টাকা বেশি দিয়ে। আমাদের মতো নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য এটা খুবই কঠিন।’

মুদি দোকানদার মোহাম্মদ রনি বলেন, দাম বৃদ্ধির পর ক্রেতাদের প্রতিবাদের মুখে তিনি কয়েক দিন পেঁয়াজ বিক্রিই বন্ধ রেখেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘এখন কেজিপ্রতি ১১০ টাকায় বিক্রি করছি। কারণ, সবাই তো একই দামে বিক্রি করছে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাজার অস্তির সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা

প্রকাশের সময় : ০৩:১৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকায় খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা এর জন্য দায়ী করছেন সরবরাহ ঘাটতিকে।

অনেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পেঁয়াজ মজুত করে রেখেছেন।

তাদের মতে, এ বছর অস্বাভাবিকভাবে আমদানি কম হওয়ায় বাজার অনেকাংশে দেশীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল।

কারওয়ান বাজারের মেসার্স মাতৃ ভাণ্ডারের মালিক সজীব শেখ বলেন, অক্টোবর পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু এরপর থেকে কমতে শুরু করেছে।

কারওয়ান বাজারের আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, কিছু পাইকারি ব্যবসায়ী পেঁয়াজ মজুত করতে শুরু করেছেন। এর ফলে বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আমদানিকারক মোহাম্মদ মাজেদ বলেন, ‘নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসতে আরও প্রায় ছয় সপ্তাহ লাগবে। তার আগ পর্যন্ত সরবরাহে ঘাটতি থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি অনেক দিন ধরেই বন্ধ। এর কারণে দেশি পেঁয়াজের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দাম স্থিতিশীল রাখতে হলে দ্রুত আমদানি শুরু করতে হবে। নাইলে দাম আরও বাড়বে।’

শুক্রবার রাজধানীর শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, ইব্রাহিমপুর, নিউ মার্কেট, হাতিরপুল ও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১১০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইউসুফ সবজিবিতানের মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমরা পেঁয়াজ বিক্রি করেছি কেজিপ্রতি ৮০–৯০ টাকায়। এখন দাম ১১৫–১২০ টাকা। হঠাৎ কেন এত দাম বাড়লো সেটা জানি না। পাইকাররা পরিষ্কারভাবে কিছুই বলতে পারেননি।’

ইব্রাহিমপুরের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ‘গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি ৮০ টাকায় পেঁয়াজ কিনেছি। আজ দাম ১১০ টাকা। সরবরাহে ঘাটতি থাকলে তো দাম ধীরে ধীরে বাড়ত, হুট করে না।’

তিনি বলেন, ‘দুই কেজি পেঁয়াজ কিনলাম ৬০ টাকা বেশি দিয়ে। আমাদের মতো নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য এটা খুবই কঠিন।’

মুদি দোকানদার মোহাম্মদ রনি বলেন, দাম বৃদ্ধির পর ক্রেতাদের প্রতিবাদের মুখে তিনি কয়েক দিন পেঁয়াজ বিক্রিই বন্ধ রেখেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘এখন কেজিপ্রতি ১১০ টাকায় বিক্রি করছি। কারণ, সবাই তো একই দামে বিক্রি করছে।’