ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবা–মেয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, মায়ের অবস্থাও গুরুতর

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় গভীর রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে এক ব্যক্তি ও তাঁর সাত বছর বয়সী মেয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় নিহত ব্যক্তির স্ত্রীকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে উপজেলার ভুবনকুড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমিরখাঁকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় খিশাকুড়ি এলাকার আমির হোসেনের ছেলে রতন মিয়া (৩০) ও তাঁর মেয়ে নূরিয়া খাতুন (৭)। রতন গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন।

খবর পেয়ে রতনের বৃদ্ধ মা জুবেদা খাতুন ছুটে আসেন। আহাজারি করে তিনি বলেন, ‘আমার পুতে পরশু দিন আলাপ করছে, বউ আবার বিদেশ যাইবাগার চায়। আমি কইছি, বউয়েরে আর বিদেশ দিয়ো না, বাড়িত ঘর কইরা বউ লইয়া বাড়িত তুমি খাও। বউ যাওনের কাম নাই। বউ খালি বিদেশ যাইবাগার চায়, আমার পুতে দিবার চায় না, হের লাগি আমার পুতেরে মাইরালছে।’

এ ঘটনার পর নিহত রতনের শ্বশুর দুলাল মিয়া ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, হত্যার ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নারীকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। নিহত রতনের শ্বশুর–শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি জানার চেষ্টা করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা দা ও একটি চিরকুট। এ ছাড়া একটি বিষের বোতলও পাওয়া গেছে ঘটনাস্থলে। প্রাথমিকভাবে চিরকুটটি নিহত রতন মিয়ার লেখা বলে মনে করছে পুলিশ। চিঠিতে ‘আমাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী’ লিখে পাঁচজনের নাম লেখা আছে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে কলহের জেরে স্ত্রী–সন্তানকে হত্যা করে নিজে বিষপানে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করে থাকতে পারেন রতন মিয়া। কিন্তু রতনের গলার আঘাত দেখে মনে হচ্ছে, এখানে ভিন্ন কিছু ঘটে গেছে। নিজে নিজে গলা কাটলে এত গভীর হওয়ার কথা নয়। পুরো বিষয়টি উদ্‌ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাবা–মেয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, মায়ের অবস্থাও গুরুতর

প্রকাশের সময় : ০৩:০২:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় গভীর রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে এক ব্যক্তি ও তাঁর সাত বছর বয়সী মেয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় নিহত ব্যক্তির স্ত্রীকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে উপজেলার ভুবনকুড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমিরখাঁকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় খিশাকুড়ি এলাকার আমির হোসেনের ছেলে রতন মিয়া (৩০) ও তাঁর মেয়ে নূরিয়া খাতুন (৭)। রতন গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন।

খবর পেয়ে রতনের বৃদ্ধ মা জুবেদা খাতুন ছুটে আসেন। আহাজারি করে তিনি বলেন, ‘আমার পুতে পরশু দিন আলাপ করছে, বউ আবার বিদেশ যাইবাগার চায়। আমি কইছি, বউয়েরে আর বিদেশ দিয়ো না, বাড়িত ঘর কইরা বউ লইয়া বাড়িত তুমি খাও। বউ যাওনের কাম নাই। বউ খালি বিদেশ যাইবাগার চায়, আমার পুতে দিবার চায় না, হের লাগি আমার পুতেরে মাইরালছে।’

এ ঘটনার পর নিহত রতনের শ্বশুর দুলাল মিয়া ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, হত্যার ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নারীকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। নিহত রতনের শ্বশুর–শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি জানার চেষ্টা করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা দা ও একটি চিরকুট। এ ছাড়া একটি বিষের বোতলও পাওয়া গেছে ঘটনাস্থলে। প্রাথমিকভাবে চিরকুটটি নিহত রতন মিয়ার লেখা বলে মনে করছে পুলিশ। চিঠিতে ‘আমাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী’ লিখে পাঁচজনের নাম লেখা আছে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে কলহের জেরে স্ত্রী–সন্তানকে হত্যা করে নিজে বিষপানে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করে থাকতে পারেন রতন মিয়া। কিন্তু রতনের গলার আঘাত দেখে মনে হচ্ছে, এখানে ভিন্ন কিছু ঘটে গেছে। নিজে নিজে গলা কাটলে এত গভীর হওয়ার কথা নয়। পুরো বিষয়টি উদ্‌ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।