
আগামী ফেব্রুয়ারী ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষে সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে ২৩৭টি আসনে।
নেত্রকোণা -৩ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয় বর্তমান কেন্দ্রিয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নেত্রকোনা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালীকে। ঘোষনার পর থেকে তৃণমূল বিএনপির বেশী অংশ নেতা কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।
রফিকুল ইসলাম হিলালী ছাড়াও এ আসনটিতে মনোনয়ন প্রত্যশী ছিলেন সেভেন ষ্টার । তারা হলেন ,খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সৈয়দ আলমগীর খসরু, দেলোয়ার হুসেন ভূইয়া দুলাল, সামরিক বিশ্লেষক মেজর সৈয়দ আবুবকর সিদ্দিক পিএসসি (অবঃ), কেন্দ্রিয় স্বেচ্চাসেবক দলের সহসভাপতি হাসান বিন সোহাগ, রোটারিয়ান নাজমূল হাসান, স্বেচ্চাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা রাসেল ও ইন্জিনিয়ার সেলিম।
কেন্দুয়ার রোয়াইল বাড়ি, কেন্দুয়া পাবলিক হলে ৭ নভেম্বর উপলক্ষে ও ১২ নভেম্বর আটপাড়া পাবলিক হলে হিলালী ব্যাতিত ৭জন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একহয়ে রফিকুল ইসলাম হিলালীর লোকজনদের অপকর্মের বিভিন্ন ফিরিস্তি তুলে ধরেন। এই সাতজন জনসম্পৃক্ততা থাকার পরেও মনোনয়ন না পাওয়ায় তৃণমূল নেতা, কর্মী, সমর্থকদের মনে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।
রফিকুল ইসলাম হিলালী সদস্য সচিব থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে তৈরী করেছেন পকেট কমিটি।
ইতিপূর্বে কেন্দুয়া ও আটপাড়া উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রায় দুহাজার নেতা কর্মীকে বাদ দিয়ে ৩০৩ জন আত্বীয় ও অরাজনৈতিক লোকের মাধ্যমে ৩০৩ জন কাউন্সিলর করা হয় ॥ সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজা আমীনকেও পর্যন্ত জেলা বিএনপির কাউন্সিলে কাউন্সিলর করা হয়নি। কাউন্সিলর করেছেন তার বোন, ভগ্নীপতি ও আত্নীয়দের। করেছেন কেন্দুয়া – আটপাড়ার নেতা কর্মীদের মাঝে বিভাজন।
তার অনৈতিক ভোটার লিস্ট নির্বাচন/
কাউন্সিলের ৪ দিন পূর্বে প্রকাশ করা হয় । এই সব কাউন্সিলরদেরকে পবিত্র কুরআন শরীফ শপথ করিয়ে তার ভোট নিশ্চিত করে ৩০ জুলাই নির্বাচনে পকেট কমিটির ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয় ।
চাঁদাবাজী : ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর তার অনুগত নেতারা কেন্দুয়া টেম্পু স্ট্যান্ড ও বাস স্ট্যান্ড দখল করে চাঁদাবাজী শুরু করে । ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী রফিক হেলালীর নিয়োগকৃত ৩ জন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে । পৌর বিএনপি নেতা খুকন ডিলারের গুদামে সরকরি চাল পাওয়ার পরেও হিলালীর হস্তক্ষেপে কোন পদক্ষেপে এখন পর্যন্ত কোন ব্যাবস্থা গ্রহনকরতে পরেনি প্রশাসন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পদ দখল ও গুম ও হত্যা :
৫ আগস্টের পর হিলালী ৩ টি প্রতিষ্ঠানের পদ দখল করেছেন। গন্ডা মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নেয় রফিকুল ইসলাম হিলালী। গন্ডা মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগের বিরোধে গন্ডা ইউনিয়নের বিএনপি যুবদলের নেতা রফিকুল ইসলাম (শামীম) প্রতিবাদ করায় শামীমকে ২ জুলাই ২৫ গুম করা হয় । ২ মাস ২৭ দিন শামীম নিখোঁজথাকার পর তার কঙ্কাল মিলে বিলে।শামীমের বড় ভাই এবং বাবা কেন্দুয়া থানায় মামলা করতে গেলে রফিক হিলালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলা নিতে নিষেধ করেন । হিলালী সাহেবের দাপটে থানায় মামলা করতে না পেরে শামীমের বাবা এবং বড় ভাই নেত্রকোনা আদালতে মামলা করতে বাধ্য হন ।
সেপ্টেম্বরের শেষে শামীমের লাশ গ্রামের পাশের ঝিলের পানিতে ভেসে উঠে । গলিত লাশের গায়ে টি শার্ট দেখে শামীমকে প্রাথমিক ভাবে সনাক্ত করে দাফন করা হয় । উক্ত জানাজায় রফিকুল ইসলাম হিলালীর প্রতি জনগণের ছিল ক্ষুব্ধ ।মামলাটি চলমান আছে ।
ব্যক্তিগত ভাবে ভূয়া ডিগ্রি ব্যবহার ও প্রচার:
রফিকুল ইসলাম হিলালী গত জানুয়ারি ২০১২ সাল থেকে পিএইচডি ( ডক্টরেট ) ডিগ্রি লাভ করেন বলে প্রচার শুরু করেন ।
তিনি প্রচার মাধ্যমে বলেন যে তিনি আমেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, কেলিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন । তাঁর পিএইচ ডি ভঁয়া ডিগ্রি হিসেবে ইতিমধ্যে পাঁচটি গণ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে । দি সান, বেঙ্গল নিউজ, ফেস দ্য পিপল (দুবার ) ওয়ান নিউজে ।
গত সপ্তাহে সেটেলাইট টিভি ওয়ান নিউজ বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরী কমিশনের প্রতিবেদনে আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন অস্থিত্ব নেই বলে যে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে তা উল্লেখ করেন ॥ যে বা যারা অনুমোদন হীন এইসব বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে পিএইচডি ডিগ্রী নিয়ে নামের আগে ব্যবহার করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে বলে মন্তব্য করেন বিশ্ব বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন।
হিলালী প্রাসাদ
গত ৮ বছরে আওয়ামী লীগের এম পি নেতাদের সাথে আঁতাত করে রফিক হিলালী প্রায় ২০ বিঘা জমির উপর ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রাসাদ তৈরী করেছে ।
যখন বিএনপি নেতা কর্মীদের উপর আওয়ামী নির্যাতন চরম পর্যায়ে, নেতা কর্মিরা নিজের বাড়িতে ঘুমাতে পারে নাই তখন হিলালী ফ্যাসিবাদীদের সাথে যোগসাজস করে নিজের বিলাসবহুল বাড়ি তৈরী করেছেন । আওয়ামী লগের সংসদ সদস্য মঞ্জুর কাদের কুরাইশী, ইফতেকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু, অসীম কুমার ও বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিলের সাথে ছবি তার প্রমাণ। যা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলে।
ইতিমধ্যে নেত্রকোনা ৩ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ৭ জন ( মোট আটজন ) গত দু মাসে তিনটি স্থানে (রোয়াইল বাড়ী ইউনিয়ন, কেন্দুয়া উপজেলা অডিটরিয়াম এবং আটপাড়া অডিটোরিয়ামে ) হাজির হয়ে ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে প্রচারণায় নেমেছেন । আটপাড়া কেন্দুয়ার হাজার হাজার মৌলিক নেতা কর্মী রফিকুল ইসলাম হিলালীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ।
মনোনয়নের প্রাথমিক তালিকায় রফিক হেলালীর নাম আসার পরও
১২ নভেম্বর ২০২৫ আটপাড়া অডিটরিয়ামে সকাল ১১ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত ধানের শীষের ৭ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর উপস্থিতিতে প্রায় তিন হাজার নেতা কর্মী আটপাড়া ও কেন্দুয়া থেকে উপস্থিত হন ।তৃণমূলের হাজার হাজার নেতা কর্মী রফিকুল ইসলাম হিলালীর প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিল করে দল অন্য যে কাউকে মনোনয়ন দিবে তার জন্য সবাই এক সাথে কাজ করবে বলে সবাই দুহাত তুলে অঙ্গীকারবদ্ধ হন । ইতিমধ্যে ২০১৮ সালে প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া তার গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। হাজার হাজার নেতাকর্মীও যোগ দিচ্ছে দুলালের গণসংযোগে।
ত্যাগী নেতা কর্মীরা মনে করছেন রফিকুল ইসলাম হিলালীর মনোনয়ন চুরান্ত তালিকাতে থাকলে আর যদি কেহ স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন তবে বিএনপি আসনটি হারাতে পারে।
বেঙ্গল নিউজ ডেক্স 








