ঢাকা ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোহনগঞ্জে হাওড় চলাচলে বাধা, আবুল কালামসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ১৩৩ ধারায় তদন্তের নির্দেশ।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় হাওড়ে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করার অভিযোগে মোঃ হেলাল মিয়ার করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ধারায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুখময় সরকার।

এ বিষয়ে তিনি ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আদেশনামা জারি করেন। আদেশে মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে আদেশের অনুলিপিও প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী হেলাল মিয়া বলেন, আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত স্বার্থে রাস্তা কেটে মাছ ধরে।

এতে এলাকাবাসী ভোগান্তিতে পড়লেও আমরা কিছু বলতে পারিনা।  আর যেন এমন না হয়, তাই আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

স্থানীয় বাসিন্দা  বাচ্চু মিয়া বলেন, আওয়ামীলীগের দোষর কালাম আমাদের গ্রামের বেশ কয়েক জনকে সাথে নিয়া প্রতিবছর সরকারি বেড়িবাঁধ কেটে মাছ শিকার করে নিজে লাভবান হন। আগাম বন্যায় পানি আসলে আমাদের হাওড়ের ফসল তলিয়ে যাবে, আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হব।

স্থানীয় কৃষক ইসহাক মিয়া বলেন, কালাম আওয়অমীলীগ সরকারের আমলে অনেক দাপট দেখিয়েছে যে কারণে গ্রামবাসী কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

স্থানীয় রাসেল মিয়া জানান, আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সরকারি খাস জমি কালাম জোরকরে দখল করেছে সে একটা ভূমিদশ্যু। রাস্তা কেটে দেওয়ার কারণে আগাম বন্যায় ফসলহানির ঝুঁকি বাড়ে, ধান আনা-নেওয়ায়ও সমস্যা হয়। আমাদের হাওড়ে যাতায়াত করতে সমস্যা হয়।

গ্রামবাসী  ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও স্থায়ী সমাধান দাবি করেন।

অভিযুক্ত আবুল কালাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাস্তাটি আমার জমির ওপর। আমি মাছ ধরার সময় রাস্তা কাটি, পরে আবার ঠিক করে দিই।

মাছ বিক্রির অর্ধেক টাকা মসজিদ ও এতিমদের জন্য দান করি। এতদিন কোনো সমস্যা হয়নি, এখন হঠাৎ তারা আপত্তি তুলছে। তিনি আরও বলেন নিজের প্রাপ্য ক্ষুণ্ণ না হলে আইনগত সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুখময় সরকার বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি, অতি শিগ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মোহনগঞ্জে হাওড় চলাচলে বাধা, আবুল কালামসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ১৩৩ ধারায় তদন্তের নির্দেশ।

প্রকাশের সময় : ১০:২৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় হাওড়ে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করার অভিযোগে মোঃ হেলাল মিয়ার করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ধারায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুখময় সরকার।

এ বিষয়ে তিনি ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আদেশনামা জারি করেন। আদেশে মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে আদেশের অনুলিপিও প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী হেলাল মিয়া বলেন, আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত স্বার্থে রাস্তা কেটে মাছ ধরে।

এতে এলাকাবাসী ভোগান্তিতে পড়লেও আমরা কিছু বলতে পারিনা।  আর যেন এমন না হয়, তাই আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

স্থানীয় বাসিন্দা  বাচ্চু মিয়া বলেন, আওয়ামীলীগের দোষর কালাম আমাদের গ্রামের বেশ কয়েক জনকে সাথে নিয়া প্রতিবছর সরকারি বেড়িবাঁধ কেটে মাছ শিকার করে নিজে লাভবান হন। আগাম বন্যায় পানি আসলে আমাদের হাওড়ের ফসল তলিয়ে যাবে, আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হব।

স্থানীয় কৃষক ইসহাক মিয়া বলেন, কালাম আওয়অমীলীগ সরকারের আমলে অনেক দাপট দেখিয়েছে যে কারণে গ্রামবাসী কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

স্থানীয় রাসেল মিয়া জানান, আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সরকারি খাস জমি কালাম জোরকরে দখল করেছে সে একটা ভূমিদশ্যু। রাস্তা কেটে দেওয়ার কারণে আগাম বন্যায় ফসলহানির ঝুঁকি বাড়ে, ধান আনা-নেওয়ায়ও সমস্যা হয়। আমাদের হাওড়ে যাতায়াত করতে সমস্যা হয়।

গ্রামবাসী  ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও স্থায়ী সমাধান দাবি করেন।

অভিযুক্ত আবুল কালাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাস্তাটি আমার জমির ওপর। আমি মাছ ধরার সময় রাস্তা কাটি, পরে আবার ঠিক করে দিই।

মাছ বিক্রির অর্ধেক টাকা মসজিদ ও এতিমদের জন্য দান করি। এতদিন কোনো সমস্যা হয়নি, এখন হঠাৎ তারা আপত্তি তুলছে। তিনি আরও বলেন নিজের প্রাপ্য ক্ষুণ্ণ না হলে আইনগত সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুখময় সরকার বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি, অতি শিগ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।