ঢাকা ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়ার মাসকা ইউনিয়নে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ ঠিকাদারের বিরুদ্বে মামলা

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের আলমপুর–দিঘলী এলজিইডি সড়কে দিঘলী মোড় থেকে জিলু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার পাশের মোট ৩১টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার রেজাউল হাসান ভূঞা সুমনের বিরুদ্বে।

এসব গাছের বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে  দাবি করছেন স্থানীয়রা। বেশ কয়েক বছর আগে  স্থানীয় বাসিন্দা জিলু মিয়া, নুরুল ইসলাম, জামাল উদ্দিন, সাত্তার মিয়া, দেলোয়ার হোসেন, আলাল উদ্দিন, মগল মিয়া ও খোদেজা বেগমের জমির পাশে এলজিইডি সড়কে ঘেঁষে  সরকারি প্রকল্পে রোপিত এসব গাছ ।

দিঘলী গ্রামে গত নভেম্বর গাছ কেটে রাতে গাড়িতে করে পরিবহনের সময় কয়েকটি গাড়ি ও গাছের অংশ স্থানীয়রা আটক করেন। তারা জানান, কয়েক বছর আগে সরকারিভাবে রাস্তার পাশের জায়গায় এসব গাছ রোপণ করা হয়েছিল এবং গাছ বিক্রির সময় স্থানীয়দের একটি অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু তাদের না জানিয়ে মাসকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান ভূঞা সুমন গাছগুলো কাটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। সরকারি জায়গার গাছ কাটতে হলে টেন্ডার, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের অনুমোদনসহ একাধিক প্রক্রিয়া অনুসরণের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হয়নি বলে জানা যায়।

সরকারি গাছ বে-আইনি ভাবে কাটার ফলে এলাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেন্দুয়া থানা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমদাদূল হক তালুকদার তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিঠি ঘটন করেন। তদন্তে গাছ কাটার বিষয়টি সত্যতা পাওয়ায় কেন্দুয়া থানায় টিকাদার রেজাউল হাসান ভূঞা সুমনসহ  জরিত থাকা আরও ৪ জনের  বিরুদ্বে ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি মামলা দায়ের করেন মাসকা ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল জলিল। অভিযোগের প্রেক্ষিকে মামলাটি কেন্দুয়া থানা আমলে নিয়ে  এফ আই আর করে নেত্রকোণা আদালতে পাঠিয়েছে।

মাসকা ইউনিয়ন বিএনপির নাম না প্রকাশ করার শর্তে বেশ কয়েক জন নেতা বলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া  রফিকলি ইসলাম হিলালীর পশ্রয়ে সুমন এলাকায় এক নায়কতন্ত্র ও ত্রাশের রাজ্য কায়েম করেছে। আমরা তার দলিয় পদ স্তগিত চাই। বিএনপির মান ক্ষুন্ন হচ্ছে এই সব নেতাদের কারণে।

ঠিকাদার রেজাউল হাসান ভূঞা সুমন বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তা দ্রুত পাকাকরণ করার স্বার্থে গাছগুলো কাটা হয়েছে। অনুমোদনের জন্য আবেদন করলে দুই-আড়াই বছর সময় লাগে, কিন্তু রাস্তা নির্মাণের সময় থাকে মাত্র এক বছর। তাই নিজ খরচে গাছ কেটে শিমুলতলা বাজারে স্তুপ করে রেখেছি। কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, তারা টেন্ডার বা নিয়ম অনুযায়ী বিক্রির ব্যবস্থা নেবেন।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা প্রকৌশলী আল-আমিন সরকার বলেন, মাসকা দিঘলী জিপিএস থেকে মাছিয়ালি গুচ্ছগ্রাম পর্যন্ত এলজিইডি রাস্তা পাকাকরণ করা হবে। এজন্য গাছ কাটার প্রয়োজন রয়েছে। তবে ঠিকাদারের উচিত ছিল কর্তৃপক্ষকে অবগত করে নিয়ম মেনে গাছ কাটা হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কেন্দুয়ার মাসকা ইউনিয়নে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ ঠিকাদারের বিরুদ্বে মামলা

প্রকাশের সময় : ০৩:১০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের আলমপুর–দিঘলী এলজিইডি সড়কে দিঘলী মোড় থেকে জিলু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার পাশের মোট ৩১টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার রেজাউল হাসান ভূঞা সুমনের বিরুদ্বে।

এসব গাছের বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে  দাবি করছেন স্থানীয়রা। বেশ কয়েক বছর আগে  স্থানীয় বাসিন্দা জিলু মিয়া, নুরুল ইসলাম, জামাল উদ্দিন, সাত্তার মিয়া, দেলোয়ার হোসেন, আলাল উদ্দিন, মগল মিয়া ও খোদেজা বেগমের জমির পাশে এলজিইডি সড়কে ঘেঁষে  সরকারি প্রকল্পে রোপিত এসব গাছ ।

দিঘলী গ্রামে গত নভেম্বর গাছ কেটে রাতে গাড়িতে করে পরিবহনের সময় কয়েকটি গাড়ি ও গাছের অংশ স্থানীয়রা আটক করেন। তারা জানান, কয়েক বছর আগে সরকারিভাবে রাস্তার পাশের জায়গায় এসব গাছ রোপণ করা হয়েছিল এবং গাছ বিক্রির সময় স্থানীয়দের একটি অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু তাদের না জানিয়ে মাসকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান ভূঞা সুমন গাছগুলো কাটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। সরকারি জায়গার গাছ কাটতে হলে টেন্ডার, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের অনুমোদনসহ একাধিক প্রক্রিয়া অনুসরণের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হয়নি বলে জানা যায়।

সরকারি গাছ বে-আইনি ভাবে কাটার ফলে এলাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেন্দুয়া থানা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমদাদূল হক তালুকদার তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিঠি ঘটন করেন। তদন্তে গাছ কাটার বিষয়টি সত্যতা পাওয়ায় কেন্দুয়া থানায় টিকাদার রেজাউল হাসান ভূঞা সুমনসহ  জরিত থাকা আরও ৪ জনের  বিরুদ্বে ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি মামলা দায়ের করেন মাসকা ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল জলিল। অভিযোগের প্রেক্ষিকে মামলাটি কেন্দুয়া থানা আমলে নিয়ে  এফ আই আর করে নেত্রকোণা আদালতে পাঠিয়েছে।

মাসকা ইউনিয়ন বিএনপির নাম না প্রকাশ করার শর্তে বেশ কয়েক জন নেতা বলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া  রফিকলি ইসলাম হিলালীর পশ্রয়ে সুমন এলাকায় এক নায়কতন্ত্র ও ত্রাশের রাজ্য কায়েম করেছে। আমরা তার দলিয় পদ স্তগিত চাই। বিএনপির মান ক্ষুন্ন হচ্ছে এই সব নেতাদের কারণে।

ঠিকাদার রেজাউল হাসান ভূঞা সুমন বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তা দ্রুত পাকাকরণ করার স্বার্থে গাছগুলো কাটা হয়েছে। অনুমোদনের জন্য আবেদন করলে দুই-আড়াই বছর সময় লাগে, কিন্তু রাস্তা নির্মাণের সময় থাকে মাত্র এক বছর। তাই নিজ খরচে গাছ কেটে শিমুলতলা বাজারে স্তুপ করে রেখেছি। কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, তারা টেন্ডার বা নিয়ম অনুযায়ী বিক্রির ব্যবস্থা নেবেন।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা প্রকৌশলী আল-আমিন সরকার বলেন, মাসকা দিঘলী জিপিএস থেকে মাছিয়ালি গুচ্ছগ্রাম পর্যন্ত এলজিইডি রাস্তা পাকাকরণ করা হবে। এজন্য গাছ কাটার প্রয়োজন রয়েছে। তবে ঠিকাদারের উচিত ছিল কর্তৃপক্ষকে অবগত করে নিয়ম মেনে গাছ কাটা হয়নি।