
নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়ায় উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের রজক চিকনী গ্রামের গোলাম রসুলের মেয়ে তালাকপ্রাপ্ত ফাতেমা খাতুন নামে এক নারীকে জুরকরে ধর্ষনের অভিযোগে উঠেছে প্রতিবেশী ইদিল মিয়ার ছেলে মাসুদ মিয়া (৪০) এর বিরুদ্বে। এ ব্যাপারে নেত্রকোণা আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনাটি পুর্ব পারকল্পিক সাজানো নাটক বলে দাবি বিবাদিদের।
গত ২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ২টা থেকে তিনটার মধ্যে ভোক্তভোগীর বাবার বাড়িতে এই নারী ধর্ষিতা হয়। নেত্রকোণা আমলী আদালতে নারী ও শিশু দমন আইন (সংশোধিত ২০২০) এর ৯(১)তৎসহ ৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩৫৪/৪২৭/৫০৬(২) ৩৪ দন্ডবিধি ধারায় ভোক্তভোগী সুবিচার পাওয়ার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করেন মাসুদ সহ আরও ৪ জনের বিরুদ্বে।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়। ফাতেমা খাতুন তার স্বামীর সাথে দাম্পত্য জীবনে সুখি না হওয়ায় তালাকপ্রাপ্ত হইয়া চিকনী গ্রামে তার বাবার বাড়িতেই অবস্থান করে আসছিল। প্রতিবেশী মুদি দোকানদার মাসুদ বোক্তভোগীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্থাব দিয়ে আসিতেছিল। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে জুরপূর্বক ধর্ষণ করিবে বলে হুমকি দিয়া আসিতেছিল।
ঘটনার রাতে তার একমাত্র ৭ বছরের ছেলে রবিউল আওয়ালকে সাথে নিয়া শোয়ার ঘরে ঘুমাইতেছিল। গভীর রাতে মাসুদ সুকৌশলে ভোক্তভোগীর বসত ঘরে প্রবেশ করিয়া তাকে জাবরাইয়া ধরিয়া গলায় কিরিচ ধরিয়া ভয় ভীতি দেখিয়ে তার কাপড় খুলে জুরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ভোক্তভোগী মাসুদকে জাবরাইয়া ধরিয়া চিৎকার শুরু করিলে ও তার ছেলের কান্নাকাটির শব্দ শুনে বাড়ির ও আশেপাশের লোকজন ছুঠিয়া আসে ঘটনা জানার জন্য। প্রতিবেশীরা মাসুদকে ভৈাক্তভোগীর ঘরের মধ্যে আটক অবস্থায় পায়।
অটকের পর ধর্ষকের বাড়ির লোকজন আসিয়া ভোক্তভোগীর পিতা গোলাম রসুলকে বেদরক মারপিট করে ধর্ষকের বাবা, ভাই ও আত্বীয়রা। একই গ্রামের ইদিল মিয়ার ছেল সজিব, মৃত মিয়া বক্সের ছেলে ছোয়াব আলী ও মোজাহিদ, মৃত একু মিয়ার ছেলে ইদিল মিয়া। তারা সবাই অনধিকার বাড়িতে প্রবেশ করিয়া ভোক্তভোগী ও তার বাবাকে মারপিট করিয়া ধর্ষক মাসুদ মিয়াকে নিয়া চলে যায়।
মামলায় উল্লেখিত ৪নং আসামি মোজাহিদ বলেন, গোলাম রসুল ও আমারা একই বাড়ির লোক। তাদের সাথে আমাদের পূর্বে কোন বিবাদ ছিল বলে আমার পরিবারের জানা নাই। আমার বাড়ির ইদিল মিয়ার ছেলে মাসুদ মিয়া (৪০) এর বিরুদ্বে ধর্ষণের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পুর্ন মিথ্যা। মাসুদ মিয়া পঙ্গু কোন কাজ কর্ম করতে পারে না, তাই একটি মনোহারি দোকান দিয়ে পুকুর পাড়ে বসে থাকে। পাড়ার লোকজন এসে তার দোকানে চা-পান খায়, তারও সময় কাটে।
ঘটনার দিন গোলাম রসুলদের বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্টান ছিল, আমাদের দুই বাড়ির মাঝে মাসুদ মিয়ার একটি মোদি দোকান আছে। মাসুদ মিয়ার দোকান থেকে ৫টি বৈদ্যতিক বাল্ব নিয়েছিল বিয়ে বাড়ির অনুষ্টান পরিচালনার জন্য। রাতে অনুষ্টান শেষে ফাতেমা খুতুন মাসুদ মিয়াকে ডাকদেয় যে বাল্বগুলি ফরত আনার জন্য। মাসুদ মিয়া খুড়িয়ে খুরিয়ে গোলাম রসুলদের বাড়িতে যায় বাল্বগুলি আনার জন্য। তার পর তারা নাটক সাজিয়েছে ধর্ষণের। চিৎকার শুনে আমরা ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখি মাসুদ মিয়াকে আটক করে রেখেছে। আমরা তাদের সাথে কথা বলে মাসুদ মিয়াকে বাড়িতে নিয়া আসি। এখানে কোন মারপিটের মত ঘটনা ঘটেনি। আমাদের নামে যে মামলা দায়ের করেছে তা সম্পুর্ণ মিথ্যা।
সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে আসল সত্যটা উঠে আসুক। আমরা যদি দোষি সাব্যস্থ হই তাহলে আইন মাথা পেতে নিব।
শাহ আলী তৌফিক রিপন 








