ভোলা-১ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) মনোনীত প্রার্থী ও দলটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থর আয় গত সাত বছরে বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। আর সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বচান উপলক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, পার্থর বার্ষিক আয় ৪১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫২ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে আয় সাত লাখ ৫২ হাজার ১০৭ টাকা এবং আইন পেশা ও শিক্ষকতা থেকে আয় ৩৩ লাখ ৮৯ হাজার ৩৪৫টাকা।
তাঁর মোট সম্পদ রয়েছে দুই কোটি ২২ লাখ ৩৩ হাজার টাকার। তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর আগে স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ দেখাননি তিনি।
হলফনামায় পার্থ উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ৭৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮৯টাকা; ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা অর্থ ৭১ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৮টাকা; বন্ড, ঋণপত্র স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত ৯ কম্পানির শেয়ার রয়েছে ১৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।
মোটরযান রয়েছে ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের। সোনা ১০০ তোলা। ব্যাংকে থাকা টাকার মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে নিজ নামে রয়েছে আট লাখ ৫৪ হাজার ৮৫৬ টাকা, তাঁর পরিচালিত বৃটিশ স্কুল অব ল’র নামে ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংকে এক লাখ ৫৮ হাজার ১৯২ টাকা, আন্দালিভ রহমান ফার্ম অ্যান্ড ফিসারিজ নামে ব্র্যাক ব্যাংকে ৩৭ লাখ ৫০০ টাকা এবং নিজের নামে ব্র্যাক ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্টে ২৫ লাখ টাকা। দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র মধ্যে একটি এনপিবি রিভলবার ও একটি ২২ বোন রাইফেল রয়েছে।
তাঁর অস্থাবর সম্পদ অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে দুই কোটি ২২ লাখ ৩৩ হাজার ১২ টাকা। পার্থর স্থাবর সম্পদের মধ্যে কোনো কৃষিজমি নেই। অকৃষি জমির মধ্যে নিজ নামে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ, যৌথ মালিকানায় ১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। যৌথ মালিকানায় ঢাকায় তিনতলা একটি দালান ও তিনতলা একটি বাড়ি রয়েছে। স্ত্রী-সন্তানসহ তাঁর নামে ব্যাংক অথবা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ নেই।
সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে আয় দেখিয়েছেন ৪১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫২ টাকা এবং রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ২৩ লাখ ৪১ হাজার ৫০ টাকা। আয়কর দিয়েছেন আট লাখ সাত হাজার ৪৩৬ টাকা।তাঁর স্ত্রী শেখ সায়রা শারমিনের নামে বিগত হলফনামায় কোনো সম্পদ না দেখালেও এবার তাঁর স্ত্রীর নামে দেখিয়েছেন ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদ। এর মধ্যে নগদ ২৬ হাজার ২৯৫ টাকা ও ব্যাংকে ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৭০৫ টাকা এবং সোনা রয়েছে ৬০ ভরি। বড় মেয়ে মাহাম সানজিদা রহমানের নামে ব্যাংকে রয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ১৯৩ টাকা।
এর আগে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করেন পার্থ। সেখানে দাখিল করা হলফনামায় তাঁর আয় দেখানো হয় ২১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৭০ টাকা। সম্পদ দেখানো হয় নগদ ৩১ লাখ এক হাজার ১৯৬ টাকা, ব্যংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জামা ৪৩ লাখ ২০ হাজার ৪৫৫ টাকা; বন্ড, ঋণপত্র, স্টক একচেঞ্জ তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত ৯ কম্পানির শেয়ার ১৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা; ৬০ লাখ ৪৫ হাজার ৪৫ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি; এক লাখ ২৪ হাজার ৩৭৫ টাকা মূল্যের পুরনো আসবাবপত্র। তবে স্ত্রী বা সন্তানদের নামে কোনো সম্পদ দেখাননি। ওই সময় তাঁর মালিকাধীন ব্রিটিশ স্কুল অব ল-এর শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাবদ ১০ লাখ ৪২ হাজার ২৫৬ টাকার দেনা দেখানো হয়।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনের চার দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন আন্দালিব রহমান পার্থ। ওই সময় হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ৮৩ হাজার ৩৫০ টাকা।
এ বাইরে আর কোনো আয়ের কথা উল্লেখ করেননি তিনি। তাঁর সম্পদের মধ্যে নগদ রয়েছে ২৬ লাখ ১৮ হাজার ৮৪ টাকা, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৩৪ লাখ ৪৬ হাজার ৩৭৪ টাকা, স্টক এক্সচেঞ্জে কম্পানির শেয়ার ৪২ লাখ ৯১ হাজার টাকা, আসবাবপত্র দুই লাখ ২৫ হাজার ৪৭ টাকা এবং সোনা ১০০ তোলা।
২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোলা-১ আসনে বিএনপির চারদলীয় জোট থেকে (ধানের শীষ প্রতীক) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তবে এবার নিজ দলের প্রতীক গরুর গাড়ির প্রার্থী হিসেবে ভোলা-১ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তিনি।