ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে মিলল বিশাল স্বর্ণভাণ্ডার

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি মাদেন দেশটির চারটি স্থানে নতুন করে মোট ৭৮ লাখ আউন্স বা দুই লাখ ২১ হাজার কেজির বেশি স্বর্ণের মজুদের সন্ধান পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দেশের খনিজ সম্পদ সম্প্রসারণ এবং বিশ্বমানের স্বর্ণ শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পরিকল্পিত ড্রিলিং বা খনন কার্যক্রমে প্রাথমিকভাবে ৯০ লাখ আউন্সের বেশি স্বর্ণের অস্তিত্ব মিললেও বার্ষিক হিসাব সমন্বয়ের পর নিট ৭৮ লাখ আউন্স মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাদেন জানায়, তাদের প্রধান প্রকল্প মানসুরা মাসারাহ, উরুক ২০/২১, উম্ম আস সালাম এবং নতুন আবিষ্কৃত ওয়াদি আল জাও এলাকায় এই স্বর্ণের মজুদের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে মানসুরা মাসারাহ প্রকল্পে, যেখানে গত বছরের তুলনায় স্বর্ণের মজুদ বেড়েছে ৩০ লাখ আউন্স। উরুক ২০/২১ ও উম্ম আস সালাম প্রকল্পে ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স এবং ওয়াদি আল জাও প্রকল্পে প্রথমবারের মতো ৩০ লাখ ৮০ হাজার আউন্স স্বর্ণের মজুদ পাওয়া গেছে।

মাদেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বব উইল্ট বলেন, এই সাফল্য সৌদি আরবের খনিজ সম্পদ কাজে লাগানো এবং বৈশ্বিক খনি শিল্পে শীর্ষস্থানীয় অবস্থান গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই প্রতিফলন। তিনি বলেন, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ কারণেই সৌদি আরবের স্বর্ণ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চারটি স্থানে ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের মজুদ আবিষ্কার মাদেনের সক্ষমতা ও ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রমাণ। এতে কোম্পানির স্বর্ণ পোর্টফোলিও আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে নগদ আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

২০২৬ সালের অনুসন্ধান কর্মসূচিতে মধ্য সৌদি আরবের স্বর্ণসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উন্নত ড্রিলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেখানে নতুন খনিজ অঞ্চলের সন্ধান মিলেছে, যা বিদ্যমান খনিগুলোর পরিধি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করেছে। ঐতিহাসিক মাহদ স্বর্ণ খনি এলাকাতেও নতুন খনিজ স্তরের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা খনিটির আয়ুষ্কাল বাড়াতে সহায়ক হবে।

মাদেন জানায়, তাদের সবচেয়ে বড় প্রকল্প মানসুরা মাসারাহ খনিতে বর্তমানে ১১ কোটি ৬০ লাখ টন আকরিক মজুদের ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে প্রতি টন আকরিক থেকে গড়ে ২ দশমিক ৮ গ্রাম হারে মোট এক কোটি চার লাখ আউন্স স্বর্ণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বশেষ ড্রিলিংয়ের ফলে এই প্রকল্পে গত বছরের তুলনায় নিট ৩০ লাখ আউন্স স্বর্ণের মজুদ বেড়েছে।

কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, মানসুরা ও মাসারাহ খনির গভীর স্তরে নতুন খনিজ আকরিক পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬ সালজুড়ে সেখানে ড্রিলিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা হালনাগাদ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সৌদিতে মিলল বিশাল স্বর্ণভাণ্ডার

প্রকাশের সময় : ১২:৩৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি মাদেন দেশটির চারটি স্থানে নতুন করে মোট ৭৮ লাখ আউন্স বা দুই লাখ ২১ হাজার কেজির বেশি স্বর্ণের মজুদের সন্ধান পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দেশের খনিজ সম্পদ সম্প্রসারণ এবং বিশ্বমানের স্বর্ণ শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পরিকল্পিত ড্রিলিং বা খনন কার্যক্রমে প্রাথমিকভাবে ৯০ লাখ আউন্সের বেশি স্বর্ণের অস্তিত্ব মিললেও বার্ষিক হিসাব সমন্বয়ের পর নিট ৭৮ লাখ আউন্স মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাদেন জানায়, তাদের প্রধান প্রকল্প মানসুরা মাসারাহ, উরুক ২০/২১, উম্ম আস সালাম এবং নতুন আবিষ্কৃত ওয়াদি আল জাও এলাকায় এই স্বর্ণের মজুদের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে মানসুরা মাসারাহ প্রকল্পে, যেখানে গত বছরের তুলনায় স্বর্ণের মজুদ বেড়েছে ৩০ লাখ আউন্স। উরুক ২০/২১ ও উম্ম আস সালাম প্রকল্পে ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স এবং ওয়াদি আল জাও প্রকল্পে প্রথমবারের মতো ৩০ লাখ ৮০ হাজার আউন্স স্বর্ণের মজুদ পাওয়া গেছে।

মাদেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বব উইল্ট বলেন, এই সাফল্য সৌদি আরবের খনিজ সম্পদ কাজে লাগানো এবং বৈশ্বিক খনি শিল্পে শীর্ষস্থানীয় অবস্থান গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই প্রতিফলন। তিনি বলেন, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ কারণেই সৌদি আরবের স্বর্ণ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চারটি স্থানে ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের মজুদ আবিষ্কার মাদেনের সক্ষমতা ও ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রমাণ। এতে কোম্পানির স্বর্ণ পোর্টফোলিও আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে নগদ আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

২০২৬ সালের অনুসন্ধান কর্মসূচিতে মধ্য সৌদি আরবের স্বর্ণসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উন্নত ড্রিলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেখানে নতুন খনিজ অঞ্চলের সন্ধান মিলেছে, যা বিদ্যমান খনিগুলোর পরিধি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করেছে। ঐতিহাসিক মাহদ স্বর্ণ খনি এলাকাতেও নতুন খনিজ স্তরের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা খনিটির আয়ুষ্কাল বাড়াতে সহায়ক হবে।

মাদেন জানায়, তাদের সবচেয়ে বড় প্রকল্প মানসুরা মাসারাহ খনিতে বর্তমানে ১১ কোটি ৬০ লাখ টন আকরিক মজুদের ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে প্রতি টন আকরিক থেকে গড়ে ২ দশমিক ৮ গ্রাম হারে মোট এক কোটি চার লাখ আউন্স স্বর্ণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বশেষ ড্রিলিংয়ের ফলে এই প্রকল্পে গত বছরের তুলনায় নিট ৩০ লাখ আউন্স স্বর্ণের মজুদ বেড়েছে।

কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, মানসুরা ও মাসারাহ খনির গভীর স্তরে নতুন খনিজ আকরিক পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬ সালজুড়ে সেখানে ড্রিলিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা হালনাগাদ করা হবে।