ঢাকা ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলায় ৩৫০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে ডুবল ফেরি, নিহত ১৫

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাসিলান প্রদেশের উপকূলে ৩৫০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে একটি ফেরি ডুবে গেছে। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল রোববার দিবাগত মধ্যরাতের পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় যাত্রীবাহী ফেরি এমভি ত্রিশা কেরস্টিন-৩ জাম্বোয়াঙ্গা বন্দর থেকে দক্ষিণের সুলু প্রদেশের জোলো দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করছিল।

ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড (পিসিজি) জানিয়েছে, ফেরিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৩২ জন যাত্রী এবং ২৭ জন নাবিক ছিলেন।দক্ষিণ মিন্ডানাও জেলার কোস্টগার্ড কমান্ডার রোমেল দুয়া জানান, এখন পর্যন্ত ৩১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো অন্তত ২৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের উদ্ধারে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, এই অভিযানে সাহায্য করার জন্য একটি কোস্টগার্ডের বিমানও আসছে। নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীও তাদের সাহায্য পাঠিয়েছে।তবে ফেরিটি কীভাবে ডুবল, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলেই জানান কোস্টগার্ড কমান্ডার রোমেল দুয়া। তিনি বলেন, জাম্বোয়াঙ্গা বন্দর ছাড়ার আগে ফেরিটিকে কোস্টগার্ড অনুমোদন দিয়েছিল এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হবে।

বাসিলানের গভর্নর মুজিভ হাতামান ঘটনাস্থলের ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যায়-ইসাবেলা বন্দরে উদ্ধার হওয়া লোকজনকে নৌকা থেকে নামানো হচ্ছে। কেউ থার্মাল কম্বলে মোড়ানো, আবার কাউকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বাসিলানের জরুরি সেবা কর্মী রোনালিন পেরেজ এএফপিকে জানান, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিপুল সংখ্যক আহতকে সামলানো। তবে এই মুহূর্তে তাদের লোকবলের ঘাটতি রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ঘন ঘন ঝড়, পুরনো ও অপর্যাপ্তভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা জাহাজ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নিরাপত্তা বিধি ঠিকমতো কার্যকর না হওয়ায় ফিলিপাইনে প্রায়ই এ ধরনের নৌ দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) চীনের উদ্দেশে যাত্রার পথে মিন্ডানাও থেকে ছেড়ে যাওয়া সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে অন্তত দুজন ফিলিপিনো নাবিক নিহত হন এবং ১৫ জনকে উদ্ধার করা হয়। আরও চারজন তখনো নিখোঁজ ছিলেন।

১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে দোনা পাজ নামের একটি ফেরি জ্বালানি বহনকারী ট্যাংকারের সঙ্গে সংঘর্ষে ডুবে যায়। ওই দুর্ঘটনায় চার হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। যা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলায় ৩৫০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে ডুবল ফেরি, নিহত ১৫

প্রকাশের সময় : ০১:২৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাসিলান প্রদেশের উপকূলে ৩৫০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে একটি ফেরি ডুবে গেছে। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল রোববার দিবাগত মধ্যরাতের পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় যাত্রীবাহী ফেরি এমভি ত্রিশা কেরস্টিন-৩ জাম্বোয়াঙ্গা বন্দর থেকে দক্ষিণের সুলু প্রদেশের জোলো দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করছিল।

ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড (পিসিজি) জানিয়েছে, ফেরিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৩২ জন যাত্রী এবং ২৭ জন নাবিক ছিলেন।দক্ষিণ মিন্ডানাও জেলার কোস্টগার্ড কমান্ডার রোমেল দুয়া জানান, এখন পর্যন্ত ৩১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো অন্তত ২৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের উদ্ধারে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, এই অভিযানে সাহায্য করার জন্য একটি কোস্টগার্ডের বিমানও আসছে। নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীও তাদের সাহায্য পাঠিয়েছে।তবে ফেরিটি কীভাবে ডুবল, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলেই জানান কোস্টগার্ড কমান্ডার রোমেল দুয়া। তিনি বলেন, জাম্বোয়াঙ্গা বন্দর ছাড়ার আগে ফেরিটিকে কোস্টগার্ড অনুমোদন দিয়েছিল এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হবে।

বাসিলানের গভর্নর মুজিভ হাতামান ঘটনাস্থলের ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যায়-ইসাবেলা বন্দরে উদ্ধার হওয়া লোকজনকে নৌকা থেকে নামানো হচ্ছে। কেউ থার্মাল কম্বলে মোড়ানো, আবার কাউকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বাসিলানের জরুরি সেবা কর্মী রোনালিন পেরেজ এএফপিকে জানান, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিপুল সংখ্যক আহতকে সামলানো। তবে এই মুহূর্তে তাদের লোকবলের ঘাটতি রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ঘন ঘন ঝড়, পুরনো ও অপর্যাপ্তভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা জাহাজ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নিরাপত্তা বিধি ঠিকমতো কার্যকর না হওয়ায় ফিলিপাইনে প্রায়ই এ ধরনের নৌ দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) চীনের উদ্দেশে যাত্রার পথে মিন্ডানাও থেকে ছেড়ে যাওয়া সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে অন্তত দুজন ফিলিপিনো নাবিক নিহত হন এবং ১৫ জনকে উদ্ধার করা হয়। আরও চারজন তখনো নিখোঁজ ছিলেন।

১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে দোনা পাজ নামের একটি ফেরি জ্বালানি বহনকারী ট্যাংকারের সঙ্গে সংঘর্ষে ডুবে যায়। ওই দুর্ঘটনায় চার হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। যা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত।