ঢাকা ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন কারাগারের বন্দিদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব

  • বেঙ্গল নিউজ ডেক্স
  • প্রকাশের সময় : ১২:২২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২১৩ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কারা প্রশাসনে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার একে অপরের পরিপূরক বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।

তিনি বলেন, কারাগারে বন্দিদের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের সংশোধিত নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে মানবাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারা ক্যাম্পাসে অবস্থিত কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কারা বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ, ন্যায্য সুযোগ সুবিধা, বৈষম্যহীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতকরণ কেবল আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়, এটি রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থার প্রতিফলন। তাই কারাগারে বন্দিদের নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এটি বাস্তবায়নে প্রশিক্ষিত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন কারারক্ষীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।তিনি বলেন, কারাগার অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারাগার রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে কারা বন্দিদের নিরাপদ আটক নিশ্চিত করে, অপরাধ দমন, অপরাধীর সংশোধন এবং সামাজিক পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ায় কারা প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক কারা প্রশাসন গঠনে কারারক্ষীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশপ্রেমের মহান দায়িত্বকে হৃদয়ে ধারণ করে নবীন প্রশিক্ষণার্থীরা সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এ আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সেরা মহিলা কারারক্ষীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। সেখানে মহিলা কারারক্ষীরা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কসরত ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, ৬৩তম ব্যাচের মহিলা কারারক্ষীদের মধ্যে ড্রিলে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন লিজা খাতুন, পিটিতে প্রথম স্থান পেয়েছেন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা, আন আর্মড কম্ব্যাটে প্রথম স্থান পেয়েছেন জুথি পারভীন, ফায়ারিংয়ে প্রথম স্থান পেয়েছেন মানসুরা। একাডেমিসহ সর্ববিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন কারাগারের বন্দিদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব

প্রকাশের সময় : ১২:২২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কারা প্রশাসনে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার একে অপরের পরিপূরক বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।

তিনি বলেন, কারাগারে বন্দিদের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের সংশোধিত নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে মানবাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারা ক্যাম্পাসে অবস্থিত কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কারা বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ, ন্যায্য সুযোগ সুবিধা, বৈষম্যহীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতকরণ কেবল আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়, এটি রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থার প্রতিফলন। তাই কারাগারে বন্দিদের নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এটি বাস্তবায়নে প্রশিক্ষিত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন কারারক্ষীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।তিনি বলেন, কারাগার অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারাগার রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে কারা বন্দিদের নিরাপদ আটক নিশ্চিত করে, অপরাধ দমন, অপরাধীর সংশোধন এবং সামাজিক পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ায় কারা প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক কারা প্রশাসন গঠনে কারারক্ষীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশপ্রেমের মহান দায়িত্বকে হৃদয়ে ধারণ করে নবীন প্রশিক্ষণার্থীরা সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এ আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সেরা মহিলা কারারক্ষীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। সেখানে মহিলা কারারক্ষীরা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কসরত ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, ৬৩তম ব্যাচের মহিলা কারারক্ষীদের মধ্যে ড্রিলে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন লিজা খাতুন, পিটিতে প্রথম স্থান পেয়েছেন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা, আন আর্মড কম্ব্যাটে প্রথম স্থান পেয়েছেন জুথি পারভীন, ফায়ারিংয়ে প্রথম স্থান পেয়েছেন মানসুরা। একাডেমিসহ সর্ববিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা।