
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গণডাকাতির ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডাকাত দল ব্যবসায়ীদের হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা ও মোবাইল সেট লুট করে নিয়ে গেছে।বুধবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার গোলাকান্দাইল বালিয়াপাড়া সড়কের দড়িকান্দি শীতলছায়া ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ডাকাতদের কবলে পড়া ব্যবসায়ীরা জানান, ভোর ৪টার দিকে দরিকান্দি এলাকার মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল খালেকসহ আরও চারজন সিএনজিযোগে ভূলতা মাছের আড়তে আসতেছিলেন। উপজেলার গোলাকান্দাইল বালিয়াপাড়া সড়কের দড়িকান্দি শীতলছায়া ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে পৌঁছামাত্র ১২ থেকে ১৪ জনের একদল দুর্ধর্ষর ডাকাত পিস্তল ও রামদা চাপাতিসহ নানা ধরনের অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই ব্যবসায়ীদের গতিরোধ করে।
পরে তাদেরকে হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সঙ্গে থাকা প্রায় লক্ষাধিক টাকা ও মোবাইল সেট লুটে নেয়। এমন করে আরো ৮ থেকে ১০ জন ডাকাতদলের কবলে পড়েন। এ সময় ডাকাতের কবলে পড়া আলী হোসেন নামের এক ট্রাক ড্রাইভার পাশের দড়িকান্দি এলাকায় গিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীকে খবর দেন।
পরে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ডাকাতের কবলে পড়া আব্দুল খালেকসহ অন্যান্যদের উদ্ধার করেন এবং এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে দেখে ডাকাতরা পালিয়ে যান।
তারা আরও জানান, রূপগঞ্জ উপজেলার বালিয়াপাড়া-গোলাকান্দাইল সড়ক দিয়ে প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ চলাফেরা করেন। ভূলতা এলাকাটি কর্মযজ্ঞ ও ব্যবসায়ী এলাকার হিসেবে এখানে নানা ধরনের কর্মজীবী ও ব্যবসায়ীরা এ সড়ক দিয়ে আসা-যাওয়া করেন।
রাত ১২টার পর থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এ সড়কে চলাচলরত কর্মজীবী ও ব্যবসায়ীরা ডাকাতের কবলে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘটনা ঘটলেও ভূলতা পুলিশ ফাঁড়ির তেমন কোনো ভূমিকা নেই।
বিশেষ করে, ভূলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোকলেসুর রহমান দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই এসব বল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটছে। তার দায়িত্ব অবহেলার কারণেই ডাকাতিসহ নানা অপরাধের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এ ব্যাপারে ভূলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোকলেসুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তিনি কোনো প্রকার কথা না বলে পুলিশ ফাঁড়ি ত্যাগ করে চলে যান।
পথচারী, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা বলেন, তারা প্রায় সময়ই ডাকাতের কবলে পড়েন । ডাকাত দল পিস্তল রামদা চাপাতি দিয়ে জিম্মি করে টাকা পয়সা লুট করে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে কুপিয়ে যখম করা হয়। ১০টা থেকে ১১টার পর থেকেই এখানে ডাকাতি শুরু হয়।
যার কারণে অনেকেই এ সড়ক ব্যবহার না করে অন্য সড়ক যোগে চলাচল করেন। এ ব্যাপারে স্থায়ী সমাধান চান ভুক্তভোগী এলাকার মানুষ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, এ ধরনের ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পুলিশ পাঠানো হয়েছে। যারা ভুক্তভোগী তারা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বেঙ্গল নিউজ ডেক্স 








