ঢাকা ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করায় স্ত্রীর মুখে যুবলীগ নেতার ছুরিকাঘাত

ছবি- অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা সোহাগ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করায় স্বামী যুবলীগ নেতার ছুরিকাঘাতে সনি আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূ জখম হয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আজ শনিবার মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী আজকে অভিযোগ দেবেন। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এত আগে গত বুধবার বিকালে উপজেলার বরকাশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রাতেই ভুক্তভোগী গৃহবধূর ছোট ভাই গোলাম মোর্শেদ বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তবে কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। অভিযুক্তের নাম আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মো. সোহাগ মিয়া (৪০)। তিনি উপজেলার বরকাশিয়া গ্রামের নুর আহম্মদের ছেলে।

সোহাগ উপজেলা যুবলীগের সদস্য। আর ভুক্তভোগী সনি আক্তার উপজেলার গৌড়াকান্দা গ্রামের মৃত সবুজ মিয়ার মেয়ে। তিনি তিন সন্তানের জননী। সনি স্থানীয় একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ, স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১০ সালে সোহাগ মিয়ার সাথে পারিবারিকভাবে সনি আক্তারের বিয়ে হয়।

দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তবে কিছুদিন আগে সোহাগ অনুমতি ছাড়াই এক তরুণীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ নিয়ে সোহাগের সাথে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়। প্রায়ই সনিকে মারধর করত সোহাগ। সম্প্রতি সোহাগ দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসলে ঝগড়া আরও বেয়ে যায়। পরে সনি মোহনগঞ্জ শহরে একটি বাসায় বসবাস শুরু করে। একপর্যায়ে দুজনে মিলে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়।

গত বুধবার সকালে মোহনগঞ্জ শহরের একটি বাসায় তালাকের কাগজে স্বাক্ষর করার সময় সনির ওপর চড়াও হয় সোহাগ। সনিকে গলায় ওড়না পেচিয়ে টেনে হিঁচড়ে বের করে রিকশায় তুলে বরকাশিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় সোহাগ। পরে বেধড়ক পেটানোর পর মুখে ছুরিকাঘাত করা হয়।

খবর পেয়ে সনির ভাই গোলাম মোর্শেদ ছুটে গেলে সোহাগ তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এদিকে গোলাম মোর্শেদ গিয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে সনিকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে মমেক হাসাপাতালে পাঠানো হয়। ভুক্তভোগী সনি আক্তার বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করতেই আমাকে মারধর শুরু করে।

এক পর্যায়ে তাকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু কাগজের সই করার সময় আমাকে গলায় ওড়না পেচিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা চালায়। পরে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মুখে ছুরিকাঘাত করে। আমার ভাই বাঁচাতে গেলে তাকেও ব্যাপক মারধর করে। পরে পুলিশ গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে আনে।

মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছি। পুলিশ না গেলে আমাকে মেরেই ফেলত। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মো. সোহাগ মিয়া প্রথমে বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। গত ৬ বছর ধরে তার সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই। যে সাংবাদিক এই নিউজ লিখবে, আমিও তার বিরুদ্ধে লিখবো।

আমার ফেসবুক আইডিতে অনেক ফলোয়ার। কিছু সময় পরে বলেন, আমি ছুরিকাঘাত করিনি, ধাক্কা দিয়েছিলাম খাটের কোনায় লেগে মুখে আঘাত পেয়েছে। ওসি হাফিজুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করায় স্ত্রীর মুখে যুবলীগ নেতার ছুরিকাঘাত

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

ছবি- অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা সোহাগ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করায় স্বামী যুবলীগ নেতার ছুরিকাঘাতে সনি আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূ জখম হয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আজ শনিবার মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী আজকে অভিযোগ দেবেন। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এত আগে গত বুধবার বিকালে উপজেলার বরকাশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রাতেই ভুক্তভোগী গৃহবধূর ছোট ভাই গোলাম মোর্শেদ বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তবে কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। অভিযুক্তের নাম আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মো. সোহাগ মিয়া (৪০)। তিনি উপজেলার বরকাশিয়া গ্রামের নুর আহম্মদের ছেলে।

সোহাগ উপজেলা যুবলীগের সদস্য। আর ভুক্তভোগী সনি আক্তার উপজেলার গৌড়াকান্দা গ্রামের মৃত সবুজ মিয়ার মেয়ে। তিনি তিন সন্তানের জননী। সনি স্থানীয় একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ, স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১০ সালে সোহাগ মিয়ার সাথে পারিবারিকভাবে সনি আক্তারের বিয়ে হয়।

দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তবে কিছুদিন আগে সোহাগ অনুমতি ছাড়াই এক তরুণীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ নিয়ে সোহাগের সাথে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়। প্রায়ই সনিকে মারধর করত সোহাগ। সম্প্রতি সোহাগ দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসলে ঝগড়া আরও বেয়ে যায়। পরে সনি মোহনগঞ্জ শহরে একটি বাসায় বসবাস শুরু করে। একপর্যায়ে দুজনে মিলে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়।

গত বুধবার সকালে মোহনগঞ্জ শহরের একটি বাসায় তালাকের কাগজে স্বাক্ষর করার সময় সনির ওপর চড়াও হয় সোহাগ। সনিকে গলায় ওড়না পেচিয়ে টেনে হিঁচড়ে বের করে রিকশায় তুলে বরকাশিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় সোহাগ। পরে বেধড়ক পেটানোর পর মুখে ছুরিকাঘাত করা হয়।

খবর পেয়ে সনির ভাই গোলাম মোর্শেদ ছুটে গেলে সোহাগ তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এদিকে গোলাম মোর্শেদ গিয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে সনিকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে মমেক হাসাপাতালে পাঠানো হয়। ভুক্তভোগী সনি আক্তার বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করতেই আমাকে মারধর শুরু করে।

এক পর্যায়ে তাকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু কাগজের সই করার সময় আমাকে গলায় ওড়না পেচিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা চালায়। পরে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মুখে ছুরিকাঘাত করে। আমার ভাই বাঁচাতে গেলে তাকেও ব্যাপক মারধর করে। পরে পুলিশ গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে আনে।

মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছি। পুলিশ না গেলে আমাকে মেরেই ফেলত। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মো. সোহাগ মিয়া প্রথমে বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। গত ৬ বছর ধরে তার সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই। যে সাংবাদিক এই নিউজ লিখবে, আমিও তার বিরুদ্ধে লিখবো।

আমার ফেসবুক আইডিতে অনেক ফলোয়ার। কিছু সময় পরে বলেন, আমি ছুরিকাঘাত করিনি, ধাক্কা দিয়েছিলাম খাটের কোনায় লেগে মুখে আঘাত পেয়েছে। ওসি হাফিজুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।