ঢাকা ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় শীষ মিয়া হত্যা না আত্নহত্য জনমনে প্রশ্ন

  • বেঙ্গল নিউজ ডেক্স
  • প্রকাশের সময় : ১০:৪৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৮৩ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় শীষ মিয়া হত্যাকাণ্ড এজাহার ও বাদীপক্ষের বক্তব্যে অসঙ্গতি ১৪ দিন পর পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধারে বাড়ছে প্রশ্ন

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় শীষ মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার এজাহার ও পরবর্তীতে বাদীপক্ষের দেওয়া বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

১৪ দিন পর পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি আলোচনায় এলেও, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা এখনও স্পষ্ট হয়নি। মামলার এজাহারে ‍উল্লেখ করা হয়, শীষ মিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি ফাঁকা রাস্তায় আসামিদের হাতে আটক হন।

তার সঙ্গে থাকা ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাকে হত্যা করে। হত্যার পর মরদেহ একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

তবে ঘটনার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় বাদীপক্ষ ভিন্ন বর্ণনা দেয়। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, শীষ মিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে একটি পুকুর পাড়ের ঘরে যান, যেখানে নিয়মিত জুয়া ও মাদকের আসর বসত। বাদীপক্ষের দাবি, সেখানে দাদন লাগাতে গিয়েছিলেন শীষ মিয়া।

এ সময় পুলিশি অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। এরপর আসামিরা তাকে ধাওয়া করে ধরে নিয়ে যায় এবং পরে হত্যা করে পুকুরে মরদেহ ফেলে দেয়। এজাহারে বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে বাদীপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের মধ্যে ঘটনার স্থান, সময় ও প্রেক্ষাপটে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

এক বর্ণনায় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাই ও হত্যার কথা বলা হলেও, অন্য বর্ণনায় জুয়া ও মাদকের আসর এবং পুলিশি অভিযানের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। দুই বর্ণনার মধ্যে স্পষ্ট মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এজাহারে যাদের সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের কেউই হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেননি বলে জানা গেছে। সাক্ষীরা জানান, আসামিদের কথাবার্তা ও আচরণ থেকে তারা ধারণা করেছেন যে শীষ মিয়াকে তারাই হত্যা করেছে।

তবে প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় মামলার তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বাবলু খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে এজাহার ও পরবর্তী বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে ধর্মপাশা থানা-র অফিসার ইনচার্জ বলেন, শীষ মিয়া আকন্দ ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি মাদক মামলার পলাতক আসামি ছিলেন।

তিনি জানান, ১৪ ডিসেম্বর কফিল উদ্দিনের বাড়িতে অভিযানের সময় শীষ মিয়া সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। বাদীপক্ষ যদি তার উপস্থিতির বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়, তাহলে মামলার স্বার্থে লিখিতভাবে জানালে তা গ্রহণ করা হবে। ওসি আরও বলেন, আটককৃত আসামিরা পলাতক আরও সাতজনের নাম প্রকাশ করলেও শীষ মিয়ার নাম প্রকাশ করেনি।

১৪ দিন পর পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধারের পরও শীষ মিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হয়নি। এজাহার, সাক্ষ্য ও বাদীপক্ষের বক্তব্যে থাকা অসঙ্গতিগুলো তদন্তকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সে দিকেই এখন নজর স্থানীয়দের।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় শীষ মিয়া হত্যা না আত্নহত্য জনমনে প্রশ্ন

প্রকাশের সময় : ১০:৪৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় শীষ মিয়া হত্যাকাণ্ড এজাহার ও বাদীপক্ষের বক্তব্যে অসঙ্গতি ১৪ দিন পর পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধারে বাড়ছে প্রশ্ন

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় শীষ মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার এজাহার ও পরবর্তীতে বাদীপক্ষের দেওয়া বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

১৪ দিন পর পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি আলোচনায় এলেও, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা এখনও স্পষ্ট হয়নি। মামলার এজাহারে ‍উল্লেখ করা হয়, শীষ মিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি ফাঁকা রাস্তায় আসামিদের হাতে আটক হন।

তার সঙ্গে থাকা ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাকে হত্যা করে। হত্যার পর মরদেহ একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

তবে ঘটনার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় বাদীপক্ষ ভিন্ন বর্ণনা দেয়। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, শীষ মিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে একটি পুকুর পাড়ের ঘরে যান, যেখানে নিয়মিত জুয়া ও মাদকের আসর বসত। বাদীপক্ষের দাবি, সেখানে দাদন লাগাতে গিয়েছিলেন শীষ মিয়া।

এ সময় পুলিশি অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। এরপর আসামিরা তাকে ধাওয়া করে ধরে নিয়ে যায় এবং পরে হত্যা করে পুকুরে মরদেহ ফেলে দেয়। এজাহারে বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে বাদীপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের মধ্যে ঘটনার স্থান, সময় ও প্রেক্ষাপটে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

এক বর্ণনায় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাই ও হত্যার কথা বলা হলেও, অন্য বর্ণনায় জুয়া ও মাদকের আসর এবং পুলিশি অভিযানের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। দুই বর্ণনার মধ্যে স্পষ্ট মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এজাহারে যাদের সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের কেউই হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেননি বলে জানা গেছে। সাক্ষীরা জানান, আসামিদের কথাবার্তা ও আচরণ থেকে তারা ধারণা করেছেন যে শীষ মিয়াকে তারাই হত্যা করেছে।

তবে প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় মামলার তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বাবলু খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে এজাহার ও পরবর্তী বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে ধর্মপাশা থানা-র অফিসার ইনচার্জ বলেন, শীষ মিয়া আকন্দ ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি মাদক মামলার পলাতক আসামি ছিলেন।

তিনি জানান, ১৪ ডিসেম্বর কফিল উদ্দিনের বাড়িতে অভিযানের সময় শীষ মিয়া সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। বাদীপক্ষ যদি তার উপস্থিতির বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়, তাহলে মামলার স্বার্থে লিখিতভাবে জানালে তা গ্রহণ করা হবে। ওসি আরও বলেন, আটককৃত আসামিরা পলাতক আরও সাতজনের নাম প্রকাশ করলেও শীষ মিয়ার নাম প্রকাশ করেনি।

১৪ দিন পর পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধারের পরও শীষ মিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হয়নি। এজাহার, সাক্ষ্য ও বাদীপক্ষের বক্তব্যে থাকা অসঙ্গতিগুলো তদন্তকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সে দিকেই এখন নজর স্থানীয়দের।