ঢাকা ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে মামা মন্ত্রী ও ভাগনে প্রতিমন্ত্রী,

সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে এবার একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন মামা ও ভাগনে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসন থেকে প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও টুকুর ভাগনে ড. এম এ মুহিত ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারা বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ব্যক্তিগত সহকারী মোস্তফা আলাল নোমান।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০০১ সালে জোট সরকারের আমলে তিনি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবারের নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. এম এ মতিনের ছেলে ড. এম এ মুহিত।

সিরাজগঞ্জের ইতিহাসে এই প্রথম একই সঙ্গে জেলা থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পাওয়ার ঘটনায় আনন্দিত দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শুভেচ্ছার জোয়ার বইছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে দলের মনোনয়ন চান আরিফুল হক চৌধুরী। দল এ আসনে না দিলে তিনি অন্য কোনো আসনে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তের কথা জানান। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে গত ৫ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হন। একেবারে সবার শেষে মাঠে নেমে আরিফুল সিলেটে জামায়াতের অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী জয়নাল আবেদীনকে বিপুল ভোটে হারিয়ে সংসদীয় ভোটের মাঠেও চমক দেখান।

আরিফুল হক চৌধুরী ১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সফিকুল হক চৌধুরী এবং মা আমিনা খাতুন। তিন সন্তানের জনক আরিফুল হক ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠালগ্নে জাতীয়বাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন। তিনি সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, এরপর সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি, সিলেট জেলা বিএনিপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাবেক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী  উদযাপন কমিটির বিভাগীয় আহ্বায়কসহ সিলেটের নানা সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

নিজের এতদূর আসার পেছনে জনগণের ভালোবাসাকেই সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন আরিফুল। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমি জনগণের সেবক হতে চেয়েছি। জনগণ সব সময় আমার পাশে ছিলেন। যখনই তাদের কাছে গেছি, তারা অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন, আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দল আমার প্রতি আস্থা রেখেছে, যা আমাকে সবসময় শক্তি যুগিয়েছে। আজ আমি যতটুকু হতে পেরেছি, তার পেছনে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব আমার দল ও  জনগণের। তাদের কাছে আমি আজীবন ঋণী।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সিরাজগঞ্জে মামা মন্ত্রী ও ভাগনে প্রতিমন্ত্রী,

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৭:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে এবার একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন মামা ও ভাগনে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসন থেকে প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও টুকুর ভাগনে ড. এম এ মুহিত ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারা বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ব্যক্তিগত সহকারী মোস্তফা আলাল নোমান।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০০১ সালে জোট সরকারের আমলে তিনি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবারের নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. এম এ মতিনের ছেলে ড. এম এ মুহিত।

সিরাজগঞ্জের ইতিহাসে এই প্রথম একই সঙ্গে জেলা থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পাওয়ার ঘটনায় আনন্দিত দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শুভেচ্ছার জোয়ার বইছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে দলের মনোনয়ন চান আরিফুল হক চৌধুরী। দল এ আসনে না দিলে তিনি অন্য কোনো আসনে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তের কথা জানান। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে গত ৫ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হন। একেবারে সবার শেষে মাঠে নেমে আরিফুল সিলেটে জামায়াতের অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী জয়নাল আবেদীনকে বিপুল ভোটে হারিয়ে সংসদীয় ভোটের মাঠেও চমক দেখান।

আরিফুল হক চৌধুরী ১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সফিকুল হক চৌধুরী এবং মা আমিনা খাতুন। তিন সন্তানের জনক আরিফুল হক ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠালগ্নে জাতীয়বাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন। তিনি সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, এরপর সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি, সিলেট জেলা বিএনিপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাবেক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী  উদযাপন কমিটির বিভাগীয় আহ্বায়কসহ সিলেটের নানা সামাজিক ও সাংষ্কৃতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

নিজের এতদূর আসার পেছনে জনগণের ভালোবাসাকেই সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন আরিফুল। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমি জনগণের সেবক হতে চেয়েছি। জনগণ সব সময় আমার পাশে ছিলেন। যখনই তাদের কাছে গেছি, তারা অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন, আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দল আমার প্রতি আস্থা রেখেছে, যা আমাকে সবসময় শক্তি যুগিয়েছে। আজ আমি যতটুকু হতে পেরেছি, তার পেছনে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব আমার দল ও  জনগণের। তাদের কাছে আমি আজীবন ঋণী।’