ঢাকা ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাতিরঝিলে শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু, থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ

  • বেঙ্গল নিউজ ডেক্স
  • প্রকাশের সময় : ০১:৩১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৫০ বার পড়া হয়েছে

শিশু মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানা ঘেরাওয় করেছিল বিক্ষুব্ধ জনতা। বুধবার দিবাগত রাতে পশ্চিম উলন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানি থেকে তাহেদী আক্তার (৬) নামে এক শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে।

এই ঘটনার পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বিচারের দাবিতে হাতিরঝিল থানার সামনে অবস্থান নেন স্থানীয় জনতা। মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও গ্রামের মো. লিটন মিয়ার মেয়ে তাহেদী। পরিবারটি থাকে পশ্চিম উলন ১২/১/এ নম্বর বাসায়।

শিশুটির চাচা মো. স্বপন মিয়া জানান, মঙ্গলবার রাতে তাহেদীর মা যখন তারাবির নামাজ পড়ছিলেন, তখন সে বাসা থেকে বাইরে বের হয়েছিল খেলতে।

এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বাবা বাইরে থেকে এসে মেয়েকে ঘরে না পেয়ে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের জন্য রাখা ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানিতে শিশুটিকে পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে তাকে তুলে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জানান যে শিশুটি মারা গেছে। পরে সেখান থেকে লাশটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। তিনি বলেন, আমার ভাতিজি যদি পানিতে পড়ে মারা গিয়ে থাকে, তাহলে তার পেট ভর্তি পানি থাকবে। অথচ তার পেটে কোনো পানি নেই। মুখের মধ্যে অনেকটা বিস্কুটের গুঁড়া ছিল। পানি খেলেতো সেগুলো মুখে থাকার কথা না। এ মৃত্যু নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখা গেলেই বোঝা যাবে, সে একা বাসা থেকে বের হয়েছে, নাকি কেউ নিয়ে গেছে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা জানান, আজ রাতে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ওই এলাকার আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ জন থানার সামনে এসে অবস্থান নেন। বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখছি। ঘটনার পরপরই আইন অনুযায়ী শিশুর লাশ মর্গে পাঠানো হয় এবং আজ তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

তিনি আরো জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি হত্যা মামলা করা হচ্ছে। মামলায় কোনো আসামির নাম ব্যবহার না করলেও তদন্ত সাপেক্ষে নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। তবে লাশ উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরে কোনো রকমের জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি তবুও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

স্বামী বিদেশে থাকতেই অন্তঃসত্ত্বা, পরে গোপন গর্ভপাতের অভিযোগ চিকিৎসা প্রতিবেদনে ‘অসম্পূর্ণ গর্ভপাত’, এফিডেভিটের পর ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য

হাতিরঝিলে শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু, থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ

প্রকাশের সময় : ০১:৩১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিশু মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানা ঘেরাওয় করেছিল বিক্ষুব্ধ জনতা। বুধবার দিবাগত রাতে পশ্চিম উলন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানি থেকে তাহেদী আক্তার (৬) নামে এক শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে।

এই ঘটনার পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বিচারের দাবিতে হাতিরঝিল থানার সামনে অবস্থান নেন স্থানীয় জনতা। মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও গ্রামের মো. লিটন মিয়ার মেয়ে তাহেদী। পরিবারটি থাকে পশ্চিম উলন ১২/১/এ নম্বর বাসায়।

শিশুটির চাচা মো. স্বপন মিয়া জানান, মঙ্গলবার রাতে তাহেদীর মা যখন তারাবির নামাজ পড়ছিলেন, তখন সে বাসা থেকে বাইরে বের হয়েছিল খেলতে।

এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বাবা বাইরে থেকে এসে মেয়েকে ঘরে না পেয়ে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের জন্য রাখা ফাঁকা জায়গায় জমে থাকা পানিতে শিশুটিকে পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে তাকে তুলে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক জানান যে শিশুটি মারা গেছে। পরে সেখান থেকে লাশটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। তিনি বলেন, আমার ভাতিজি যদি পানিতে পড়ে মারা গিয়ে থাকে, তাহলে তার পেট ভর্তি পানি থাকবে। অথচ তার পেটে কোনো পানি নেই। মুখের মধ্যে অনেকটা বিস্কুটের গুঁড়া ছিল। পানি খেলেতো সেগুলো মুখে থাকার কথা না। এ মৃত্যু নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখা গেলেই বোঝা যাবে, সে একা বাসা থেকে বের হয়েছে, নাকি কেউ নিয়ে গেছে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা জানান, আজ রাতে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ওই এলাকার আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ জন থানার সামনে এসে অবস্থান নেন। বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখছি। ঘটনার পরপরই আইন অনুযায়ী শিশুর লাশ মর্গে পাঠানো হয় এবং আজ তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

তিনি আরো জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি হত্যা মামলা করা হচ্ছে। মামলায় কোনো আসামির নাম ব্যবহার না করলেও তদন্ত সাপেক্ষে নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। তবে লাশ উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরে কোনো রকমের জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি তবুও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।