ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কারনে পেছানো হয়েছে খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত করেছে ইরান। এ সিদ্ধান্তের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম কারণ হতে পারে নিরাপত্তা পরিস্থিতি। বর্তমানে ইরানজুড়ে উত্তেজনা ও হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বড় কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। তাই নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতেই বিদায় অনুষ্ঠানটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে দেখা হচ্ছে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার পদ শূন্য হলে দ্রুত নতুন নেতা নির্বাচনের কথা বলা আছে। তবে বাস্তবে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। কারণ, সর্বোচ্চ নেতার হাতে দেশটির অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা থাকে।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস। সম্প্রতি এ বোর্ডের একজন সদস্য জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও আলোচনা শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে। তাই তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কম।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ইরানের নেতৃত্ব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চাইছে। সে কারণেই খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন এবং নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয়— দুই ক্ষেত্রেই সময় নিয়ে এগোনোর ইঙ্গিত মিলছে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানায়, এখন পর্যন্ত হামলায় ইরানের অন্তত ১ হাজার ০৪৫ জন নিহত হয়েছেন।

এদিকে, হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আঘাত হানছে। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালানো হচ্ছে। এসব পাল্টা হামলায় অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত এবং কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনাতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

যে কারনে পেছানো হয়েছে খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশের সময় : ১২:২৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত করেছে ইরান। এ সিদ্ধান্তের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম কারণ হতে পারে নিরাপত্তা পরিস্থিতি। বর্তমানে ইরানজুড়ে উত্তেজনা ও হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বড় কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। তাই নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতেই বিদায় অনুষ্ঠানটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে দেখা হচ্ছে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার পদ শূন্য হলে দ্রুত নতুন নেতা নির্বাচনের কথা বলা আছে। তবে বাস্তবে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। কারণ, সর্বোচ্চ নেতার হাতে দেশটির অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা থাকে।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস। সম্প্রতি এ বোর্ডের একজন সদস্য জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও আলোচনা শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে। তাই তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কম।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ইরানের নেতৃত্ব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চাইছে। সে কারণেই খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন এবং নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয়— দুই ক্ষেত্রেই সময় নিয়ে এগোনোর ইঙ্গিত মিলছে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানায়, এখন পর্যন্ত হামলায় ইরানের অন্তত ১ হাজার ০৪৫ জন নিহত হয়েছেন।

এদিকে, হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আঘাত হানছে। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালানো হচ্ছে। এসব পাল্টা হামলায় অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত এবং কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনাতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে।