ঢাকা ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রুনা হত্যাকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত’ বলে দাবি পরিবারের

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত’ বলে দাবি করেছেন নিহতের পরিবার। অনুষদ ভবনের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তারা বলছেন, ঘটনার আগে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্থান ত্যাগ করায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানের ছুরিকাঘাতে নিজ কক্ষে নিহত হন এই শিক্ষিকা।

বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সমাজকল্যাণ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা শেষে শিক্ষিকা রুনা নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ইফতার মাহফিলের বিল উত্তোলনের জন্য একটি নোট প্রস্তুত করতে তিনি সেমিনার লাইব্রেরিয়ান ফজলুল হককে নির্দেশ দেন। এ সময় বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হক, কর্মচারী সোহাগ, নৈশপ্রহরী সুমন এবং শিক্ষক হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে শিক্ষক হাবিবুর রহমান বিভাগ ত্যাগ করেন। পরে ৩টা ৪১ মিনিটে সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হক, লাইব্রেরিয়ান ফজলুল হক ও কর্মচারী সোহাগ অনুষদ ভবন থেকে বের হয়ে যান। তারা যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরী সুমনকে বিভাগের দায়িত্ব দিয়ে যান। তবে হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক মিনিট আগে, বিকেল ৪টা ৯ মিনিটে সুমনও ভবন ত্যাগ করেন।

ফুটেজে আরও দেখা যায়, বিকেল ৪টা ১ মিনিটে ফজলুর রহমান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একটি কক্ষ থেকে পলিথিনে মোড়ানো একটি বস্তু নিয়ে বের হন। পরে ৪টা ৪ মিনিটে তিনি তৃতীয় তলা থেকে নেমে দ্বিতীয় তলায় রুনার কক্ষের দিকে যান। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে ৪টা ১০ মিনিটে পুনরায় ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। দুই মিনিট পর, বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে শিক্ষিকা রুনার ‘আল্লাহ বাঁচাও’ চিৎকার শোনা যায়।

চিৎকার শুনে নিচে থাকা দুই আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। দরজা বন্ধ থাকায় ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা শিক্ষিকা রুনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় অভিযুক্ত ফজলুর রহমানকে নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখা যায়। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের দাবি, গণপিটুনি থেকে বাঁচতে তিনি আত্মহত্যার নাটক করেন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ওই দিন বিভাগে ইফতার মাহফিল থাকায় সবার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। অথচ শিক্ষক-কর্মকর্তারা অল্প সময়ের মধ্যে বিভাগ ছেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি রহস্যজনক।

নিহত শিক্ষিকা রুনার পরিবার বলছে, একজন শিক্ষককে কীভাবে বিভাগে একা রেখে সবাই চলে গেলেনÍএ প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। ফজলুর রহমান কীভাবে জানলেন রুনা কক্ষে একা ছিলেন, সেটিও তদন্ত করা জরুরি। পরিবারের দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রুনা হত্যাকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত’ বলে দাবি পরিবারের

প্রকাশের সময় : ০২:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত’ বলে দাবি করেছেন নিহতের পরিবার। অনুষদ ভবনের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তারা বলছেন, ঘটনার আগে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্থান ত্যাগ করায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানের ছুরিকাঘাতে নিজ কক্ষে নিহত হন এই শিক্ষিকা।

বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সমাজকল্যাণ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা শেষে শিক্ষিকা রুনা নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ইফতার মাহফিলের বিল উত্তোলনের জন্য একটি নোট প্রস্তুত করতে তিনি সেমিনার লাইব্রেরিয়ান ফজলুল হককে নির্দেশ দেন। এ সময় বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হক, কর্মচারী সোহাগ, নৈশপ্রহরী সুমন এবং শিক্ষক হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে শিক্ষক হাবিবুর রহমান বিভাগ ত্যাগ করেন। পরে ৩টা ৪১ মিনিটে সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হক, লাইব্রেরিয়ান ফজলুল হক ও কর্মচারী সোহাগ অনুষদ ভবন থেকে বের হয়ে যান। তারা যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরী সুমনকে বিভাগের দায়িত্ব দিয়ে যান। তবে হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক মিনিট আগে, বিকেল ৪টা ৯ মিনিটে সুমনও ভবন ত্যাগ করেন।

ফুটেজে আরও দেখা যায়, বিকেল ৪টা ১ মিনিটে ফজলুর রহমান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একটি কক্ষ থেকে পলিথিনে মোড়ানো একটি বস্তু নিয়ে বের হন। পরে ৪টা ৪ মিনিটে তিনি তৃতীয় তলা থেকে নেমে দ্বিতীয় তলায় রুনার কক্ষের দিকে যান। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে ৪টা ১০ মিনিটে পুনরায় ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। দুই মিনিট পর, বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে শিক্ষিকা রুনার ‘আল্লাহ বাঁচাও’ চিৎকার শোনা যায়।

চিৎকার শুনে নিচে থাকা দুই আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। দরজা বন্ধ থাকায় ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা শিক্ষিকা রুনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় অভিযুক্ত ফজলুর রহমানকে নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখা যায়। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের দাবি, গণপিটুনি থেকে বাঁচতে তিনি আত্মহত্যার নাটক করেন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ওই দিন বিভাগে ইফতার মাহফিল থাকায় সবার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। অথচ শিক্ষক-কর্মকর্তারা অল্প সময়ের মধ্যে বিভাগ ছেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি রহস্যজনক।

নিহত শিক্ষিকা রুনার পরিবার বলছে, একজন শিক্ষককে কীভাবে বিভাগে একা রেখে সবাই চলে গেলেনÍএ প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। ফজলুর রহমান কীভাবে জানলেন রুনা কক্ষে একা ছিলেন, সেটিও তদন্ত করা জরুরি। পরিবারের দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।