ঢাকা ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবা-ছেলেকে নির্যাতন করে হত্যায় ভারতে ৯ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

ছয় বছর আগে কোভিড লকডাউনের সময় ভারতের তামিলনাড়ুর রাজ্যের থুথুকুডি জেলায় ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী পি জয়রাজ ও তাঁর ছেলে জে বেনিক্সের পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় ৯ পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই ঘটনাটি সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। খবর এনডিটিভির

সোমবার (৬ এপ্রিল) তামিলনাড়ুর মাদুরাই জেলার একটি আদালত এ রায় দেন।দণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন- ইন্সপেক্টর শ্রীধর, সাব-ইন্সপেক্টর বালাকৃষ্ণন ও রঘু গণেশ এবং কনস্টেবল মুরুগান, সামাদুরাই, মুথুরাজা, চেল্লাদুরাই, টমাস ফ্রান্সিস ও ভেইলুমুথু।

আদালত এই ঘটনাকে ‘ক্ষমতার চরম অপব্যবহার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, তামিলনাড়ুতে অনেক সৎ পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন এবং এই রায় তাদের মধ্যে কোনো ভয়ের সঞ্চার করবে না।

রায়ে আদালত উল্লেখ করে, বাবা ও ছেলেকে বিবস্ত্র করে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছিল—এ কথা পড়লে বুক শিউরে ওঠে। আদালত আরও জানান, প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে তাদের একে অপরের সামনে নির্যাতন করা হয়েছিল, যা মানবতার পরিপন্থী।

আদালত জোর দিয়ে বলেছে, যারা জনগণের করের টাকায় বেতন পান, তারা এ ধরনের বর্বরতার জন্য মানসিক চাপকে কোনো অজুহাত হিসেবে দেখাতে পারেন না। একই সঙ্গে আদালত মন্তব্য করে, মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চের নজরদারি না থাকলে “সত্য চাপা পড়ে যেত”।

মামলাটিকে ‘বিরলতম’ উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা Central Bureau of Investigation (সিবিআই) সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবি জানায়। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, তিনজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ শক্ত প্রমাণ এই নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরে, যা সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ২০২০ সালের ১৯ জুন। সাথানকুলাম এলাকার ব্যবসায়ী পি. জয়রাজ ও তার ছেলে জে. বেনিক্সকে লকডাউনের সময় নির্ধারিত সময়ের পর দোকান খোলা রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়—যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তাদের থানায় নিয়ে গিয়ে সারারাত নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই দুজনের মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের ফলে তাদের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল, এমনকি মলদ্বার দিয়ে রক্তপাতের মতো ভয়াবহ নির্যাতনের প্রমাণও দেখা যায়।

মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশে প্রথমে রাজ্যের সিবি-সিআইডি তদন্ত শুরু করলেও পরে তদন্তভার গ্রহণ করে সিবিআই। এই মামলায় মোট ১০ জন পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাবা-ছেলেকে নির্যাতন করে হত্যায় ভারতে ৯ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

ছয় বছর আগে কোভিড লকডাউনের সময় ভারতের তামিলনাড়ুর রাজ্যের থুথুকুডি জেলায় ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী পি জয়রাজ ও তাঁর ছেলে জে বেনিক্সের পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় ৯ পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই ঘটনাটি সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। খবর এনডিটিভির

সোমবার (৬ এপ্রিল) তামিলনাড়ুর মাদুরাই জেলার একটি আদালত এ রায় দেন।দণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন- ইন্সপেক্টর শ্রীধর, সাব-ইন্সপেক্টর বালাকৃষ্ণন ও রঘু গণেশ এবং কনস্টেবল মুরুগান, সামাদুরাই, মুথুরাজা, চেল্লাদুরাই, টমাস ফ্রান্সিস ও ভেইলুমুথু।

আদালত এই ঘটনাকে ‘ক্ষমতার চরম অপব্যবহার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, তামিলনাড়ুতে অনেক সৎ পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন এবং এই রায় তাদের মধ্যে কোনো ভয়ের সঞ্চার করবে না।

রায়ে আদালত উল্লেখ করে, বাবা ও ছেলেকে বিবস্ত্র করে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছিল—এ কথা পড়লে বুক শিউরে ওঠে। আদালত আরও জানান, প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে তাদের একে অপরের সামনে নির্যাতন করা হয়েছিল, যা মানবতার পরিপন্থী।

আদালত জোর দিয়ে বলেছে, যারা জনগণের করের টাকায় বেতন পান, তারা এ ধরনের বর্বরতার জন্য মানসিক চাপকে কোনো অজুহাত হিসেবে দেখাতে পারেন না। একই সঙ্গে আদালত মন্তব্য করে, মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চের নজরদারি না থাকলে “সত্য চাপা পড়ে যেত”।

মামলাটিকে ‘বিরলতম’ উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা Central Bureau of Investigation (সিবিআই) সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবি জানায়। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, তিনজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ শক্ত প্রমাণ এই নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরে, যা সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে ২০২০ সালের ১৯ জুন। সাথানকুলাম এলাকার ব্যবসায়ী পি. জয়রাজ ও তার ছেলে জে. বেনিক্সকে লকডাউনের সময় নির্ধারিত সময়ের পর দোকান খোলা রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়—যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তাদের থানায় নিয়ে গিয়ে সারারাত নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই দুজনের মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের ফলে তাদের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল, এমনকি মলদ্বার দিয়ে রক্তপাতের মতো ভয়াবহ নির্যাতনের প্রমাণও দেখা যায়।

মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশে প্রথমে রাজ্যের সিবি-সিআইডি তদন্ত শুরু করলেও পরে তদন্তভার গ্রহণ করে সিবিআই। এই মামলায় মোট ১০ জন পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।