
ছবি সংগৃহিত
রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের মাঠে ছুটোছুটি করছিল কালো রঙের একটি প্রাণী। এটিকে দেখে ভয় পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন লাঠি নিয়ে তাড়া করেন; দেন বেদম পিটুনি। মারা গেছে ভেবে সেখানে ফেলে রাখা হয় প্রাণীটিকে।
ওই ঘটনার খবর পেয়ে ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিমের প্রতিষ্ঠাতা সহিদুল ইসলাম সেখানে গিয়ে প্রাণীটি বনরুই বলে শনাক্ত করেন। পরে তিনি বনরুইটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) মহাবিপন্ন প্রাণী হিসেবে ঘোষিত এই প্রাণীকে বন বিভাগের মাধ্যমে বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার হওয়া কালো রঙের বনরুইটির দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াই ফুট আর ওজন ৬ কেজি।
ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি মুঠোফোনেই তাঁদের মারধর না করতে অনুরোধ করি। পরে গিয়ে দেখি বনরুইটি রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছে। স্থানীয় লোকজন ভেবেছিল, প্রাণীটি মারা গেছে।
প্রাণীটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এটি এখন সুস্থ আছে। এরই মধ্যে আমি বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা এসে আজ (মঙ্গলবার) প্রাণীটিকে নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।’
সহিদুল ইসলাম আরও বলেন, মহাবিপন্ন প্রাণী হিসেবে ঘোষিত বনরুই সাধারণত বিভিন্ন গোরস্তান ও বাঁশঝাড়ের মাটির গর্তে বসবাস করে। বনরুই পিঁপড়া ও পিঁপড়ার ডিম, উইপোকার ডিম খেতে পছন্দ করে। স্থানীয় লোকজন এর আগে এই এলাকায় এ ধরনের প্রাণী দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে পঞ্চগড়ের লোকালয়ে বনরুই ধরা পড়ার ঘটনা এটাই প্রথম বলে তিনি জানান।
দিনাজপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ফাহিম মাসউদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বনরুইটিকে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ঢাকায় বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
রংপুর প্রতিনিধী 








