ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাবির সুইমিং পুলে ছাত্রীর মৃত্যু, প্রশিক্ষকদের বহিষ্কারের সুপারিশ

  • রাজশাহি প্রতিনিধী
  • প্রকাশের সময় : ০৫:০৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ২২৪ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী সায়মা হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে সাঁতার প্রশিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়ে, তাদের এ পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে কমিটি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর ড. ফরিদ খান বলেন, ‘আমরা তিনদিন ধরে ঘটনার সব দিক তদন্ত করেছি। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে প্রশিক্ষকদের দায়িত্বে গুরুতর অবহেলা ছিল। তাই তাদের এ পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অন্য হলে থাকলেও মন্নুজান হলে কোন ক্রীড়া শিক্ষক নেই। ফলে সায়মা নিজ দায়িত্বেই সাঁতারে অংশ নেয়। তবে এই হলে শিক্ষক না থাকা বৈষম্য। এটা নিরসনের সুপারিশও আমরা করেছি। তাছাড়া মেডিকেল সেন্টার সংশ্লিষ্টদের তেমন কোন অবহেলা দেখতে পায়নি তদন্ত কমিশন। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সার্বিক বিষয় চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।’

এরআগে, ২৬ অক্টোবর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী সায়মা হোসেন মারা যান। তিনি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে মন্নুজান হল সংসদ থেকে ক্রীড়া সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে রাতেই উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের মুখে সেদিন রাতেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. ফরিদ উদ্দীন খানকে আহ্বায়ক এবং তিনজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

কমিটিকে সার্বিক পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক এবং ১০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়। ২৯ অক্টোবর প্রাথমিক প্রতিবেদন জমার শেষ দিন ছিল।

তবে জমা না হওয়ায় ৩০ অক্টোবর সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে টায়ারে আগুনও দেন তারা।

বিক্ষোভের পর দুপুর আড়াইটার দিকে সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আহ্বানে তদন্ত কমিটি সদস্যবৃন্দ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বসেন। সেখানে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন কমিটি। তবে এ প্রতিবেদনে পুরোপুরি সন্তুষ নন শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়েই চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দায়িত্বে অবহেলায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি চান তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাবির সুইমিং পুলে ছাত্রীর মৃত্যু, প্রশিক্ষকদের বহিষ্কারের সুপারিশ

প্রকাশের সময় : ০৫:০৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

ছবি সংগৃহিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী সায়মা হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে সাঁতার প্রশিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়ে, তাদের এ পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে কমিটি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর ড. ফরিদ খান বলেন, ‘আমরা তিনদিন ধরে ঘটনার সব দিক তদন্ত করেছি। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে প্রশিক্ষকদের দায়িত্বে গুরুতর অবহেলা ছিল। তাই তাদের এ পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অন্য হলে থাকলেও মন্নুজান হলে কোন ক্রীড়া শিক্ষক নেই। ফলে সায়মা নিজ দায়িত্বেই সাঁতারে অংশ নেয়। তবে এই হলে শিক্ষক না থাকা বৈষম্য। এটা নিরসনের সুপারিশও আমরা করেছি। তাছাড়া মেডিকেল সেন্টার সংশ্লিষ্টদের তেমন কোন অবহেলা দেখতে পায়নি তদন্ত কমিশন। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সার্বিক বিষয় চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।’

এরআগে, ২৬ অক্টোবর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী সায়মা হোসেন মারা যান। তিনি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে মন্নুজান হল সংসদ থেকে ক্রীড়া সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে রাতেই উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের মুখে সেদিন রাতেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. ফরিদ উদ্দীন খানকে আহ্বায়ক এবং তিনজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

কমিটিকে সার্বিক পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক এবং ১০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়। ২৯ অক্টোবর প্রাথমিক প্রতিবেদন জমার শেষ দিন ছিল।

তবে জমা না হওয়ায় ৩০ অক্টোবর সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে টায়ারে আগুনও দেন তারা।

বিক্ষোভের পর দুপুর আড়াইটার দিকে সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আহ্বানে তদন্ত কমিটি সদস্যবৃন্দ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বসেন। সেখানে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন কমিটি। তবে এ প্রতিবেদনে পুরোপুরি সন্তুষ নন শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়েই চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দায়িত্বে অবহেলায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি চান তারা।