ঢাকা ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা , আসাদুজ্জামান ও মামুন কে কোন অপরাধে সাজা দেওয়া হয়েছে

  • বেঙ্গল নিউজ ডেক্স
  • প্রকাশের সময় : ১০:০৩:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ২১৪ বার পড়া হয়েছে

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কীভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন, সেটা রায়ে উল্লেখ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। তিনিসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল পাঁচটি। অভিযোগের কোনটিতে কী সাজা, সেটিও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এই প্রথম কোনো মামলার রায় হলো। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গতকাল সোমবার এ রায় দেন।

গত বছরের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে শেখ ফজলে নূর তাপসের এবং পরে হাসানুল হক ইনুর কথোপকথন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ড্রোন ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয়, আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশ দেন। অপরাধ সংঘটনে আসামিরা তাঁর অধীনস্থদের কোনো বাধা দেননি। ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে ছয়জন আন্দোলনকারীকে পুলিশ গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। একই দিন আশুলিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেয় পুলিশ।

এই তিন ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রায়ে বলা হয়, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। এই মামলা–সংশ্লিষ্ট যাঁরা ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি আহত আন্দোলনকারীদের আঘাতের মাত্রা ও ক্ষতি বিবেচনায় পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় অপর অভিযোগের তিনটিতে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ সম্বোধন করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। একই দিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি মাকসুদ কামালের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন হয়।

আন্দোলনকারীদের রাজাকার উল্লেখ করে তাদের ফাঁসি দেবেন বলে শেখ হাসিনা উসকানি ও আদেশ দেন। অপরাধ সংঘটনে আসামিরা তাঁর অধীনস্থদের কোনো বাধা দেননি। ফলে রংপুরে আবু সাঈদকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। এই তিন অপরাধে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শেখ হাসিনা , আসাদুজ্জামান ও মামুন কে কোন অপরাধে সাজা দেওয়া হয়েছে

প্রকাশের সময় : ১০:০৩:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কীভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন, সেটা রায়ে উল্লেখ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। তিনিসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল পাঁচটি। অভিযোগের কোনটিতে কী সাজা, সেটিও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এই প্রথম কোনো মামলার রায় হলো। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গতকাল সোমবার এ রায় দেন।

গত বছরের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে শেখ ফজলে নূর তাপসের এবং পরে হাসানুল হক ইনুর কথোপকথন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ড্রোন ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয়, আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশ দেন। অপরাধ সংঘটনে আসামিরা তাঁর অধীনস্থদের কোনো বাধা দেননি। ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে ছয়জন আন্দোলনকারীকে পুলিশ গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। একই দিন আশুলিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেয় পুলিশ।

এই তিন ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রায়ে বলা হয়, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। এই মামলা–সংশ্লিষ্ট যাঁরা ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি আহত আন্দোলনকারীদের আঘাতের মাত্রা ও ক্ষতি বিবেচনায় পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় অপর অভিযোগের তিনটিতে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ সম্বোধন করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। একই দিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি মাকসুদ কামালের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন হয়।

আন্দোলনকারীদের রাজাকার উল্লেখ করে তাদের ফাঁসি দেবেন বলে শেখ হাসিনা উসকানি ও আদেশ দেন। অপরাধ সংঘটনে আসামিরা তাঁর অধীনস্থদের কোনো বাধা দেননি। ফলে রংপুরে আবু সাঈদকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। এই তিন অপরাধে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।