ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের খার্গ দ্বীপ যে কারনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ

ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, খার্গ দ্বীপের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তিনি আরও বলেছেন, সেখানকার তেল অবকাঠামোর কোনও ক্ষতি করা হয়নি।

বিবিসির মাইকি কে’র ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই দ্বীপটি থেকেই ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রফতানি হয় এবং এটাকে তেহরানের অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয়।

এর আগে দু’জন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি মেরিন ইউনিট এবং আরও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

এই মেরিন ইউনিটটি সমুদ্রপথে আক্রমণ চালাতে সক্ষম এবং সাধারণত এটি কয়েকটি যুদ্ধজাহাজে থাকা সর্বোচ্চ প্রায় ৫ হাজার মেরিন ও নাবিক নিয়ে গঠিত হয়। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি মার্কিন সেনাবাহিনী এবং পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

খার্গ দ্বীপ কেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপের ‌‌‌‘সব সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ বোমা হামলা চালিয়েছে। এটি ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত প্রায় ৫ মাইল লম্বা একটি ছোট দ্বীপ। এই দ্বীপকে ইরানের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

দ্বীপটিতে অল্প কিছু মানুষ বসবাস করে। বরং ইরানের রফতানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে যায়।

বড় বড় তেলবাহী ট্যাঙ্কার প্রথমে এই দ্বীপ থেকে তেল নিয়ে তারপর সেখান থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যায়। এর অন্যতম হলো চীন। দেশটি ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

যদি দ্বীপটিতে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে এটি ইরানের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে পঙ্গু করে দেবে।

এই মাসের শুরুতে, মার্কিন নিউজ আউটলেট ‘অ্যাক্সিওস’ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ট্রাম্প দ্বীপটি দখলের জন্য বিশেষ বাহিনী পাঠানোর কথা ভাবছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইরানের খার্গ দ্বীপ যে কারনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ

প্রকাশের সময় : ১১:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, খার্গ দ্বীপের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তিনি আরও বলেছেন, সেখানকার তেল অবকাঠামোর কোনও ক্ষতি করা হয়নি।

বিবিসির মাইকি কে’র ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই দ্বীপটি থেকেই ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রফতানি হয় এবং এটাকে তেহরানের অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয়।

এর আগে দু’জন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি মেরিন ইউনিট এবং আরও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

এই মেরিন ইউনিটটি সমুদ্রপথে আক্রমণ চালাতে সক্ষম এবং সাধারণত এটি কয়েকটি যুদ্ধজাহাজে থাকা সর্বোচ্চ প্রায় ৫ হাজার মেরিন ও নাবিক নিয়ে গঠিত হয়। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি মার্কিন সেনাবাহিনী এবং পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

খার্গ দ্বীপ কেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপের ‌‌‌‘সব সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ বোমা হামলা চালিয়েছে। এটি ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত প্রায় ৫ মাইল লম্বা একটি ছোট দ্বীপ। এই দ্বীপকে ইরানের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

দ্বীপটিতে অল্প কিছু মানুষ বসবাস করে। বরং ইরানের রফতানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে যায়।

বড় বড় তেলবাহী ট্যাঙ্কার প্রথমে এই দ্বীপ থেকে তেল নিয়ে তারপর সেখান থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যায়। এর অন্যতম হলো চীন। দেশটি ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

যদি দ্বীপটিতে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে এটি ইরানের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে পঙ্গু করে দেবে।

এই মাসের শুরুতে, মার্কিন নিউজ আউটলেট ‘অ্যাক্সিওস’ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ট্রাম্প দ্বীপটি দখলের জন্য বিশেষ বাহিনী পাঠানোর কথা ভাবছেন।