
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দিন দিন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সৌদি আরবে মোতায়েন করা মার্কিন বিমানবাহিনীর পাঁচটি শক্তিশালী যুদ্ধবিমান ইরানি হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে রকেট হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং বিমান ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই ঘাঁটিতে ইরানের সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিমানগুলো কার্যকারিতা হারায়। তবে এ বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। আল জাজিরার সংবাদদাতারা জানান, হামলার পর দূতাবাস চত্বর থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। একই সময়ে পুরো এলাকায় মুহুর্মুহু বিমান হামলার সতর্কসংকেত বা সাইরেন বাজতে থাকে।
হঠাৎ এই হামলায় দূতাবাসের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রকেট হামলার পর সেখানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের খারগ দ্বীপে সাম্প্রতিক হামলার পর এই ঘটনাগুলো তেহরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের পাল্টা জবাব হতে পারে। এর আগে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, তাদের তেল বা সামরিক স্থাপনায় হামলা হলে অঞ্চলে আমেরিকার স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো স্থাপনায় আঘাত হানা হবে। সৌদি আরবে মার্কিন বিমান এবং বাগদাদ দূতাবাসে হামলার ঘটনাকে সেই সতর্কবার্তার প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এই ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি এবং তেলের বাজারেও পড়তে পারে।
বেঙ্গল আন্তর্জাতিক নিউজ ডেক্স 















