ঢাকা ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মর্মান্তিক মৃত্যুতে ১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ ও প্রযোজনা সংস্থাকে ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করার দাবি

দিঘার কাছে তালসারি সমুদ্র সৈকতে শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মর্মান্তিক মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনার পর সরব হয়েছে অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রথমত, ওড়িশা পুলিশের দাবি অনুযায়ী, তালসারিতে শুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল না।

তা হলে কিভাবে শুটিং চলল? দ্বিতীয়ত, প্রথমে বলা হয়েছিল প্যাকআপের পর দুর্ঘটনা ঘটে, পরে পরিচালক জানান শুটিং চলাকালীনই ঘটনা। এই বয়ানবদল নিয়েও উঠেছে সন্দেহ।

যে ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল সেই ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’ এর প্রযোজনা সংস্থার তরফে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, চিত্রনাট্যে জলের কোনো দৃশ্যই ছিল না। তাহলে কিভাবে গভীর জলে শুটিং হচ্ছিল এবং এত লোকের মধ্যে অভিনেতা তলিয়ে গেলেন কিভাবে—এই প্রশ্নও উঠছে।

রাহুলের মৃত্যুতে এই সর্বভারতীয় সিনে সংগঠন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও তুলেছে। এ ছাড়াও প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ধারাবাহিকের সঙ্গে যুক্ত প্রযোজক, প্রযোজনা সংস্থা এবং চ্যানেলকেও কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য দাবি তুলেছে। একই সঙ্গে, রাহুলের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিও তুলেছেন তারা।

এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতি দিয়ে সংগঠনটি লিখেছে, ‘‘আমাদের সংগঠনের তরফে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে যে, প্রযোজনা সংস্থা এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষ খরচ কমানোর জন্য প্রায়শই শিল্পীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে আপস করে থাকেন।

ফলত, কর্মী ও শিল্পীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। প্রায় প্রতি বছরই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের সিনেজগতে এমন দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতি বছর ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে এমন অনেক ঘটনা ঘটে যেখানে নিরাপত্তাহীন পরিবেশের জেরে ইউনিটের কর্মী এবং শিল্পীরা প্রাণ হারান।

দুর্ভাগ্যবশত, এই ধরনের বিষয়গুলো প্রায়শই ধামা চাপা দেওয়া হয় এবং দোষীরা শাস্তিও পায় না।’’এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে চারদিক থেকে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Gojnobi biplob

Popular Post

হামের টিকা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলো ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মর্মান্তিক মৃত্যুতে ১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ ও প্রযোজনা সংস্থাকে ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করার দাবি

প্রকাশের সময় : ০২:৫০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

দিঘার কাছে তালসারি সমুদ্র সৈকতে শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মর্মান্তিক মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনার পর সরব হয়েছে অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রথমত, ওড়িশা পুলিশের দাবি অনুযায়ী, তালসারিতে শুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল না।

তা হলে কিভাবে শুটিং চলল? দ্বিতীয়ত, প্রথমে বলা হয়েছিল প্যাকআপের পর দুর্ঘটনা ঘটে, পরে পরিচালক জানান শুটিং চলাকালীনই ঘটনা। এই বয়ানবদল নিয়েও উঠেছে সন্দেহ।

যে ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল সেই ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’ এর প্রযোজনা সংস্থার তরফে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, চিত্রনাট্যে জলের কোনো দৃশ্যই ছিল না। তাহলে কিভাবে গভীর জলে শুটিং হচ্ছিল এবং এত লোকের মধ্যে অভিনেতা তলিয়ে গেলেন কিভাবে—এই প্রশ্নও উঠছে।

রাহুলের মৃত্যুতে এই সর্বভারতীয় সিনে সংগঠন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও তুলেছে। এ ছাড়াও প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ধারাবাহিকের সঙ্গে যুক্ত প্রযোজক, প্রযোজনা সংস্থা এবং চ্যানেলকেও কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য দাবি তুলেছে। একই সঙ্গে, রাহুলের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিও তুলেছেন তারা।

এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতি দিয়ে সংগঠনটি লিখেছে, ‘‘আমাদের সংগঠনের তরফে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে যে, প্রযোজনা সংস্থা এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষ খরচ কমানোর জন্য প্রায়শই শিল্পীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে আপস করে থাকেন।

ফলত, কর্মী ও শিল্পীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। প্রায় প্রতি বছরই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের সিনেজগতে এমন দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতি বছর ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে এমন অনেক ঘটনা ঘটে যেখানে নিরাপত্তাহীন পরিবেশের জেরে ইউনিটের কর্মী এবং শিল্পীরা প্রাণ হারান।

দুর্ভাগ্যবশত, এই ধরনের বিষয়গুলো প্রায়শই ধামা চাপা দেওয়া হয় এবং দোষীরা শাস্তিও পায় না।’’এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে চারদিক থেকে।